সূর্যমুখী
———-মুসতাক আহমদ

বেলা দ্বিপ্রহর
গগনে রবির তাপ প্রচন্ড প্রখর
আলোর মদিরা হাতে
জগতের পান্থশালায় দাঁড়ায়েছে সাকী
রৌদ্রস্নানে নীলাম্বরী
গাত্রোত্থানে আঁচল মেলেছে দূর বিস্তীর্নভূমে
সূর্যমুখীরা টালমাটাল আলোর সূরা টেনে
যেতে যেতে মেঠোপথে
শুধালাম, হলুদ কন্যা ওরে ?
তব নির্মল কান্তি হাসি-উজ্জ্বল তনু
কি শব্দে প্রকাশিবো তব হেন রূপ
পেয়েছো তাঁরই অনিন্দ শোভা, জানি
যার পানে করে আছো তব মুখ-খানি
দেখিলো না ফিরে কোন, নিয়ে অভিলাষ
নাহি তার কারো পানে চাহিবার সাধ
অবুঝ সূর্যমুখী! শুষে কিরণমালা
সীসা টানা আরব্য তরুণীর মত
অঙ্গে মেখে বনস্পতি তেল
এ যেনো দৃশ্যপট এক শাশ্বত প্রেমের
জুলেখার রেটিনায় প্রতিবিম্বিত ইউসুফ
আর লাইলী সকাতর পানে মজনুর
যেনো মৃত্তিকার জায়নামাজে ধ্যানে মগন
যাচিছে আলোর মন্ডলে শিশু ইব্রাহিম
আলোকের প্রভু!
প্রভু! মহিমা তুমার কি শেষ হয় কভু!
সহসা কহিল ডেকে
বুঝি ভাবিছো, পূজিছে সে সূর্যেরে ?
বড়াই করিনা নিজের, নাহি সূর্যের
সবই মোর বিধাতার ধন, সবই তাঁর সাধ
বেঁধেছে আলোক ডোরে মোরে করে আহ্লাদ
আল্লাহ তত্ত্ব জেনে নাও সে যে আলোর উপরে আলো
আলোতেই জ্বলে নয়নের বাতি আলোতেই দূর হয় কালো
বাহিরে আলো ভিতরে আলো আলোয় আলোয় ভরা
চোখের বাতি নিষ্প্রভ হলে দেখি মনের বাতিতে মোরা
এমনি না হলে বলতো বন্ধু তোরা
স্বপ্নে কেমনে দেখি উজ্জ্বল এ বসুন্ধরা?
(আইনজীবী, লন্ডন)
প্রতিনিধির নাম 

