ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

ধূর্ততা এবং অসততার নাম ‘ডুব’


ড. সীনা আক্তার: গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ‘ডুব’ নামের ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের প্রেম-বিয়ে-সংসার জীবনকে উপজীব্য করে বানানো হয়েছে। এই ছবির পরিচালক স্পষ্ট করে কখনোই এর বিরোধিতা করেননি। তাই ধরে নেয়া যায় ”যা রটে, তা ঘটে”। দাবী করা হচ্ছে এই ছবির কাহিনী মৌলিক, কোন বায়োপিক না।

হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বিশেষভাবে একজন বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় লেখক-নাট্যকার-চলচ্চিত্রকার। তাঁর মত এমন একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের লিখিত কাহিনী কিভাবে মৌলিক হয়! গল্পে চরিত্রগুলোর নাম যাই দেয়া হোক তাতে কি ঘটনাটা বেনামী হয়ে যায়! বরং সরল ভাষায় এটা হচ্ছে চুরি। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় নিয়ে দেশের ট্যাবলয়েড ধারার পত্রিকা, পোর্টালগুলো সত্য-মিথ্যার মিশেলে চটকদার খবর পরিবেশন করে পাঠককে বিভ্রান্ত করেছে এবং অনৈতিকভাবে ব্যবসা করেছে। এসব করে এরা হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিব্রত করেছে এবং তারঁ বিরুদ্ধে জঘন্য পরচর্চায় উসকানি দিয়েছে।

এখন ঠিক একই কাজ করেছেন ‘ডুব’ ছবির পরিচালক, পার্থক্য হচ্ছে তার পূর্বসূরীরা করেছে প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং তিনি করেছেন চলচ্চিত্রে। তবে এবার ঘটনা পরচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই, মেহের আফরোজ শাওনের জীবনকে বিপন্ন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে, তাঁকে থানায় জিডি করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ লুকোছাপা করে ‘ডুব’ ছবিটি তৈরী করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এই ছলচাতুরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা যৌক্তিক, এই ছবিটি তার পরিবারের জন্য অবমাননাকর হতে পারে। পরিণতিতে সরকার এই ছবির ছাড়পত্র প্রদানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এ কারণে শাওনের প্রতি এই ছবির পরিচালক এবং তার অনুসারীরা বেশ নাখোস।

এক অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম পরিচালক শাওনের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, যেমন, ”উনি ডুবের ব্যাপারে আপত্তি জানানোর কে? আর অনুসারীদের মতে, শাওন নিজের প্রচারের জন্য এই ছবির বিরুদ্ধে কথা বলছেন! লেখকের স্ত্রী তাঁর স্বামীর পক্ষে, নিজের পক্ষে কথা বলবে নাতো কে বলবে?

এ ধরনের উক্তির দুটো দিক হতে পারে। এক. এরা হয়তো জানেন না কিভাবে অন্যকে সন্মান-সৌজন্য দেখাতে হয়; দুই. অশোভন উক্তি করে শাওনকে রাগান্বিত করা যাতে তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখান, কারণ যত প্রতিক্রিয়া ততই প্রচার। কূটকৌশলে শাওনকে ব্যবহার করা, ছবির কাহিনীইতো ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ। শাওন নিজে একজন সেলিব্রিটি, এই ছবির বিরুদ্ধে কথা বলে তার নিজের প্রচার দরকার! কেবল উর্বর মস্তিষ্কের অধিকারীরা এভাবে চিন্তা করতে পারে!!

শাওন নিজ কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় এবং নিজ অধিকার আদায়ে দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাশীল একজন নারী। তাঁর বিরুদ্ধে যে নোংড়া, অসন্মানজনক সমালোচনা হচ্ছে তা সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীরই কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষেরা কুৎসা রটায়ে শাওনের মত নারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, মনোবল ভেঙ্গে দিতে চায় এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মানসিক প্রসাদ লাভ করতে চায়।

শাওন এই পুরুষতান্ত্রিক ধামাধরাদের চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম এবং করেছেন। সে তার নিজ অধিকারেই দায়িত্ব পালন করছে, নিজের জন্য, তাঁর সন্তানদের জন্য এবং প্রয়াত স্বামীর জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সে ধূর্ততা এবং অসততার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন! একজন আত্মমর্যাদাশীল নারীরতো তাই করা উচিৎ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

ধূর্ততা এবং অসততার নাম ‘ডুব’

আপডেট সময় : ০৭:১২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


ড. সীনা আক্তার: গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ‘ডুব’ নামের ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের প্রেম-বিয়ে-সংসার জীবনকে উপজীব্য করে বানানো হয়েছে। এই ছবির পরিচালক স্পষ্ট করে কখনোই এর বিরোধিতা করেননি। তাই ধরে নেয়া যায় ”যা রটে, তা ঘটে”। দাবী করা হচ্ছে এই ছবির কাহিনী মৌলিক, কোন বায়োপিক না।

হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বিশেষভাবে একজন বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় লেখক-নাট্যকার-চলচ্চিত্রকার। তাঁর মত এমন একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের লিখিত কাহিনী কিভাবে মৌলিক হয়! গল্পে চরিত্রগুলোর নাম যাই দেয়া হোক তাতে কি ঘটনাটা বেনামী হয়ে যায়! বরং সরল ভাষায় এটা হচ্ছে চুরি। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় নিয়ে দেশের ট্যাবলয়েড ধারার পত্রিকা, পোর্টালগুলো সত্য-মিথ্যার মিশেলে চটকদার খবর পরিবেশন করে পাঠককে বিভ্রান্ত করেছে এবং অনৈতিকভাবে ব্যবসা করেছে। এসব করে এরা হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিব্রত করেছে এবং তারঁ বিরুদ্ধে জঘন্য পরচর্চায় উসকানি দিয়েছে।

এখন ঠিক একই কাজ করেছেন ‘ডুব’ ছবির পরিচালক, পার্থক্য হচ্ছে তার পূর্বসূরীরা করেছে প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং তিনি করেছেন চলচ্চিত্রে। তবে এবার ঘটনা পরচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই, মেহের আফরোজ শাওনের জীবনকে বিপন্ন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে, তাঁকে থানায় জিডি করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ লুকোছাপা করে ‘ডুব’ ছবিটি তৈরী করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এই ছলচাতুরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা যৌক্তিক, এই ছবিটি তার পরিবারের জন্য অবমাননাকর হতে পারে। পরিণতিতে সরকার এই ছবির ছাড়পত্র প্রদানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এ কারণে শাওনের প্রতি এই ছবির পরিচালক এবং তার অনুসারীরা বেশ নাখোস।

এক অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম পরিচালক শাওনের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, যেমন, ”উনি ডুবের ব্যাপারে আপত্তি জানানোর কে? আর অনুসারীদের মতে, শাওন নিজের প্রচারের জন্য এই ছবির বিরুদ্ধে কথা বলছেন! লেখকের স্ত্রী তাঁর স্বামীর পক্ষে, নিজের পক্ষে কথা বলবে নাতো কে বলবে?

এ ধরনের উক্তির দুটো দিক হতে পারে। এক. এরা হয়তো জানেন না কিভাবে অন্যকে সন্মান-সৌজন্য দেখাতে হয়; দুই. অশোভন উক্তি করে শাওনকে রাগান্বিত করা যাতে তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখান, কারণ যত প্রতিক্রিয়া ততই প্রচার। কূটকৌশলে শাওনকে ব্যবহার করা, ছবির কাহিনীইতো ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ। শাওন নিজে একজন সেলিব্রিটি, এই ছবির বিরুদ্ধে কথা বলে তার নিজের প্রচার দরকার! কেবল উর্বর মস্তিষ্কের অধিকারীরা এভাবে চিন্তা করতে পারে!!

শাওন নিজ কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় এবং নিজ অধিকার আদায়ে দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাশীল একজন নারী। তাঁর বিরুদ্ধে যে নোংড়া, অসন্মানজনক সমালোচনা হচ্ছে তা সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীরই কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষেরা কুৎসা রটায়ে শাওনের মত নারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, মনোবল ভেঙ্গে দিতে চায় এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মানসিক প্রসাদ লাভ করতে চায়।

শাওন এই পুরুষতান্ত্রিক ধামাধরাদের চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম এবং করেছেন। সে তার নিজ অধিকারেই দায়িত্ব পালন করছে, নিজের জন্য, তাঁর সন্তানদের জন্য এবং প্রয়াত স্বামীর জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সে ধূর্ততা এবং অসততার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন! একজন আত্মমর্যাদাশীল নারীরতো তাই করা উচিৎ।