ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

সিলেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

সিলেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : সিলেটের শাহজালাল উপশরের মেন্দিবাগ এলাকায় দুই ট্রাক শ্রমিককে আটকের জেরে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপশহর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে মেন্দিবাগ-সোবহানীঘাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাজনপট্টি থেকে মাদকসহ দুই ট্রাক শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ১০-১২ জন শ্রমিক মিলে উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হামলা চালায়। শ্রমিকরা পুলিশের একটি নতুন পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে।

তবে শ্রমিকদের দাবি, দুজনকে আটকের বিষয়টি জানতে তারা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হলে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে উপশহর শাহজালাল সেতু সংলগ্ন এলাকায় এসেও ট্রাক ও মাইক্রোবাস শ্রমিকদের মারধর করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে পুলিশ।

উপশহর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাত ৮টার দিকে উপশহর রোজভিউ হোটেলের সামনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলির শব্দ শুনতে পান বলেও জানান তারা। সংঘর্ষকালে ১০-১২ টি ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের পর সোবহানীঘাট থেকে শাহজালাল সেতু পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এসময় ব্যস্ত এই সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় অবরোধ তুলে নেয় ট্রাক শ্রমিকরা।

ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দিন নামে এক ট্রাক শ্রমিক জানান, সন্ধ্যায় নগরের মহাজনপট্টি থেকে দুই ট্রাক শ্রমিক শফিক মিয়া ও তুরণ মিয়াকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তিনি বলেন, আটকের পেয়ে ৮/১০ জন ট্রাক শ্রমিক উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে তুরণ মিয়ার মুক্তি দাবি করলে আমাদের মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে উপশহরের মেন্দিবাগ মোড়ে এসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে তাদেরও মারধর করে পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে পুলিশ।

আক্তার হোসেন নামে এক পিকআপ চালক বলেন, আমরা ডিবি অফিসে গিয়ে অন্যদের আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তাদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে।

আক্তার বলেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে। পরে উপশহরে শাহজালাল সেতুর পাশে এসে ডিবি পুলিশ শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হন।

সিলেট কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ জানান, উপশহর-মেন্দিবাগ মোড়ে শ্রমিক আটককে কেন্দ্র বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের জেরে ট্রাক শ্রমিকরা ডিবি পুলিশের অফিসে হামলা করেছিলো। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে আমরা ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

সিলেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

সিলেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : সিলেটের শাহজালাল উপশরের মেন্দিবাগ এলাকায় দুই ট্রাক শ্রমিককে আটকের জেরে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপশহর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে মেন্দিবাগ-সোবহানীঘাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাজনপট্টি থেকে মাদকসহ দুই ট্রাক শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ১০-১২ জন শ্রমিক মিলে উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হামলা চালায়। শ্রমিকরা পুলিশের একটি নতুন পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে।

তবে শ্রমিকদের দাবি, দুজনকে আটকের বিষয়টি জানতে তারা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হলে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে উপশহর শাহজালাল সেতু সংলগ্ন এলাকায় এসেও ট্রাক ও মাইক্রোবাস শ্রমিকদের মারধর করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে পুলিশ।

উপশহর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাত ৮টার দিকে উপশহর রোজভিউ হোটেলের সামনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলির শব্দ শুনতে পান বলেও জানান তারা। সংঘর্ষকালে ১০-১২ টি ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের পর সোবহানীঘাট থেকে শাহজালাল সেতু পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এসময় ব্যস্ত এই সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় অবরোধ তুলে নেয় ট্রাক শ্রমিকরা।

ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দিন নামে এক ট্রাক শ্রমিক জানান, সন্ধ্যায় নগরের মহাজনপট্টি থেকে দুই ট্রাক শ্রমিক শফিক মিয়া ও তুরণ মিয়াকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তিনি বলেন, আটকের পেয়ে ৮/১০ জন ট্রাক শ্রমিক উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে তুরণ মিয়ার মুক্তি দাবি করলে আমাদের মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে উপশহরের মেন্দিবাগ মোড়ে এসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে তাদেরও মারধর করে পুলিশ। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে পুলিশ।

আক্তার হোসেন নামে এক পিকআপ চালক বলেন, আমরা ডিবি অফিসে গিয়ে অন্যদের আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, তাদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে।

আক্তার বলেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে। পরে উপশহরে শাহজালাল সেতুর পাশে এসে ডিবি পুলিশ শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হন।

সিলেট কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ জানান, উপশহর-মেন্দিবাগ মোড়ে শ্রমিক আটককে কেন্দ্র বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন বলেন, দুজনকে আটকের জেরে ট্রাক শ্রমিকরা ডিবি পুলিশের অফিসে হামলা করেছিলো। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে আমরা ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।