ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

খুলনার নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হিন্দু ভোট

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সব আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে।

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এবার তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। অতীতের হামলা-মামলার ভয় কাটিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় ছুটছেন প্রার্থীরা। যদিও তফসিল ঘোষণার পর শুরুতে নির্বাচনি আমেজ তেমন ছিল না, তবে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রচারে গতি আসে।

মঙ্গলবার খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জনসভা করে ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

এদিকে সোমবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় জনসভায় অংশ নিচ্ছেন, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

খুলনা-১ থেকে খুলনা-৬ প্রতিটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে লড়াই চলছে। হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় জামায়াত কয়েকটি আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী দিয়েছে, আর বিএনপি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।

খুলনা-২ ও খুলনা-৫ আসনকে প্রেস্টিজিয়াস ধরা হচ্ছে। নগর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের শক্ত অবস্থান থাকলেও প্রার্থী ইমেজ, সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসংযোগ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উপকূলীয় খুলনা-৬ আসনে সংগঠনিক শক্তি ও নারী কর্মীদের সক্রিয়তায় জামায়াত এগিয়ে থাকলেও বিএনপিও ভোট বাড়াতে জোর প্রচার চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে খুলনায় এবারের নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

খুলনার নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হিন্দু ভোট

আপডেট সময় : ১২:২৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সব আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে।

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, এবার তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। অতীতের হামলা-মামলার ভয় কাটিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় ছুটছেন প্রার্থীরা। যদিও তফসিল ঘোষণার পর শুরুতে নির্বাচনি আমেজ তেমন ছিল না, তবে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রচারে গতি আসে।

মঙ্গলবার খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জনসভা করে ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

এদিকে সোমবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় জনসভায় অংশ নিচ্ছেন, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

খুলনা-১ থেকে খুলনা-৬ প্রতিটি আসনেই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে লড়াই চলছে। হিন্দু অধ্যুষিত আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় জামায়াত কয়েকটি আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী দিয়েছে, আর বিএনপি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে।

খুলনা-২ ও খুলনা-৫ আসনকে প্রেস্টিজিয়াস ধরা হচ্ছে। নগর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের শক্ত অবস্থান থাকলেও প্রার্থী ইমেজ, সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসংযোগ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উপকূলীয় খুলনা-৬ আসনে সংগঠনিক শক্তি ও নারী কর্মীদের সক্রিয়তায় জামায়াত এগিয়ে থাকলেও বিএনপিও ভোট বাড়াতে জোর প্রচার চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে খুলনায় এবারের নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠেছে।