ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

পুরুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে ভারতীয় নারী!

:বিশ্বে নারী নির্যাতন আইন আছে, নারীর অধিকার আদায় নিয়ে আন্দোলন আছে ও নারী দিবস আছে।পুরুষ কর্তৃক নারীর প্রতি সহিংসতা,ইভটিজিং প্রতিরোধ নিয়ে সভা সেমিনার আছে তারপরও নারী নির্যাতন থেমে নেই।অপরদিকে নারী কর্তৃক পুরুষের প্রতি সহিংসতা বা পারিবারিক কলহে পুরুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা সচেতনতা এমন কি নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতন আইন না থাকায় নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারন হিসেবে বলা যেতে পারে আজকাল অহরহ পারিবারিক কলহে বা অন্য কোনভাবে নারী কর্তৃক পুরুষেরা শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে যার প্রচার ও প্রকাশ মিডিয়ায় কিছুটা হলেও আইনে কোনও বিচার পাওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রতিশোধ পরায়ন ও জেন্ডার বৈষম্যের শিকার ঘটে থাকে।

ভারতের নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ একটি নিয়মিত ঘটনা। আর এজন্য দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনেরও অভাব নেই। কিন্তু নির্যাতিত পুরুষ অধিকার নিয়ে কেউ কখনো কাজ করেনি সেখানে। তবে এবার তার ব্যতিক্রম উদাহরণও খুঁজে পাওয়া গেছে। নির্যাতিত পুরুষদের অধিকারের পক্ষে কাজ করছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও সাবেক সাংবাদিক এক নারী।

ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে সেই দেশেই কিনা পুরুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছেন এক নারী। ওই নারীর নাম দীপিকা নারায়ণ ভার্দওয়াজ। তিনি একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা।

নারীদের প্রতি হীন আচরণের জন্য মাঝেমধ্যেই ভারতে উত্তাল হয়ে ওঠে। ভারতে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনার রেকর্ড আছে। প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং প্রতি ৬৯ মিনিটে যৌতুকের জন্য একজন গৃহবধূ মারা যান। এছাড়া বছরপ্রতি হাজারে ১০০ নারী গর্ভপাত ঘটান।

৩১ বছরের দীপিকা জানেন যে তিনি যা করছেন সেটা খুব ব্যতিক্রম বিষয়। কিন্তু এর পেছনে তার কিছু যৌক্তিক প্রশ্নও রয়েছে। যেমন- ‘পুরুষরা কি বিপদে নেই? তারা কি বৈষম্যের শিকার হয় না? অপরাধের শিকার হতে পারে না?’

দীপিকা বলেন, ‘নারীর জন্য লড়াই করতে যেমন নারী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, ঠিক তেমনি পুরুষের জন্য লড়াই করতে গেলেও পুরুষ হতে হয় না। আমি নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে চাই না, কারণ লাখ লাখ মানুষ রয়েছে যারা সেটা নিয়ে কথা বলে।’

দীপিকার লড়াই সেই মুহূর্তের জন্য, যখন ভারতের যৌতুকবিরোধী আইনের দণ্ডবিধি ধারা ৪৯৮(এ)-এর অপব্যবহার করা হয়। প্রথম দীর্ঘ তথ্যচিত্রের জন্য ভার্দওয়াজ ভারত ঘুরে বেড়াচ্ছেন ‘বিবাহ শহীদ’দের চিত্র তুলে আনতে। যেটি কর্তৃপক্ষকে আইনটি পুনরায় লেখার জন্য প্রভাবিত করার একটি পদক্ষেপ হবে।

যখন দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌতুকের কারণে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, ঠিক তখনই ভারত ১৯৮৩-এর সেকশন ৪৯৮-এ চালু করে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা নতুন বউ পুড়ে মরার খবর থাকত এবং সেগুলোকে রান্নাঘরের দুর্ঘটনা বলে চালানো হতো। নারী সংসদ সদস্যের প্রতিবাদ, নারীবাদীদের চাপের মুখে সরকার এই আইনটি করতে বাধ্য হয়।

ভার্দওয়াজ একসময় সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিষয়টি নিয়ে ২০১২ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেছেন।

দীপিকা বলেন, ‘২০১১ সালে আমার এক আত্মীয় বিয়ের তিন মাসের মাথায় পৃথক হয়ে যায়। তার স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তার স্বামী এবং আমাদের পুরো পরিবার তাকে মারধর করে যৌতুক দাবি করে। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় তাকে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতন করার অভিযোগে আমারও নাম ছিল। আমাদের পরিবার শান্তি বজায় রাখতে অনেক টাকাও দিয়েছিল। মামলাটিও শেষ হয়েছিল। কিন্তু আমি শান্তিতে ছিলাম না।’

ভারতে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়ের করা ধর্ষণ মামলার ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ মিথ্যা হিসেবে পাওয়া গেছে। পুরুষদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ করতে ভার্দওয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেছে নিয়েছেন।

ভার্দওয়াজ বলেন, ‘কিছু নারীবাদী আমাকে বলেছেন নারী হয়ে পুরুষের জন্য লড়াই করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়। কিন্তু আমি সবার জন্য ন্যায়বিচার চাই, আমার কাজ নারীর বিরুদ্ধে নয়, আমার কাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

পুরুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে ভারতীয় নারী!

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭

:বিশ্বে নারী নির্যাতন আইন আছে, নারীর অধিকার আদায় নিয়ে আন্দোলন আছে ও নারী দিবস আছে।পুরুষ কর্তৃক নারীর প্রতি সহিংসতা,ইভটিজিং প্রতিরোধ নিয়ে সভা সেমিনার আছে তারপরও নারী নির্যাতন থেমে নেই।অপরদিকে নারী কর্তৃক পুরুষের প্রতি সহিংসতা বা পারিবারিক কলহে পুরুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা সচেতনতা এমন কি নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতন আইন না থাকায় নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারন হিসেবে বলা যেতে পারে আজকাল অহরহ পারিবারিক কলহে বা অন্য কোনভাবে নারী কর্তৃক পুরুষেরা শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে যার প্রচার ও প্রকাশ মিডিয়ায় কিছুটা হলেও আইনে কোনও বিচার পাওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রতিশোধ পরায়ন ও জেন্ডার বৈষম্যের শিকার ঘটে থাকে।

ভারতের নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ একটি নিয়মিত ঘটনা। আর এজন্য দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনেরও অভাব নেই। কিন্তু নির্যাতিত পুরুষ অধিকার নিয়ে কেউ কখনো কাজ করেনি সেখানে। তবে এবার তার ব্যতিক্রম উদাহরণও খুঁজে পাওয়া গেছে। নির্যাতিত পুরুষদের অধিকারের পক্ষে কাজ করছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও সাবেক সাংবাদিক এক নারী।

ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে সেই দেশেই কিনা পুরুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছেন এক নারী। ওই নারীর নাম দীপিকা নারায়ণ ভার্দওয়াজ। তিনি একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা।

নারীদের প্রতি হীন আচরণের জন্য মাঝেমধ্যেই ভারতে উত্তাল হয়ে ওঠে। ভারতে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনার রেকর্ড আছে। প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং প্রতি ৬৯ মিনিটে যৌতুকের জন্য একজন গৃহবধূ মারা যান। এছাড়া বছরপ্রতি হাজারে ১০০ নারী গর্ভপাত ঘটান।

৩১ বছরের দীপিকা জানেন যে তিনি যা করছেন সেটা খুব ব্যতিক্রম বিষয়। কিন্তু এর পেছনে তার কিছু যৌক্তিক প্রশ্নও রয়েছে। যেমন- ‘পুরুষরা কি বিপদে নেই? তারা কি বৈষম্যের শিকার হয় না? অপরাধের শিকার হতে পারে না?’

দীপিকা বলেন, ‘নারীর জন্য লড়াই করতে যেমন নারী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, ঠিক তেমনি পুরুষের জন্য লড়াই করতে গেলেও পুরুষ হতে হয় না। আমি নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে চাই না, কারণ লাখ লাখ মানুষ রয়েছে যারা সেটা নিয়ে কথা বলে।’

দীপিকার লড়াই সেই মুহূর্তের জন্য, যখন ভারতের যৌতুকবিরোধী আইনের দণ্ডবিধি ধারা ৪৯৮(এ)-এর অপব্যবহার করা হয়। প্রথম দীর্ঘ তথ্যচিত্রের জন্য ভার্দওয়াজ ভারত ঘুরে বেড়াচ্ছেন ‘বিবাহ শহীদ’দের চিত্র তুলে আনতে। যেটি কর্তৃপক্ষকে আইনটি পুনরায় লেখার জন্য প্রভাবিত করার একটি পদক্ষেপ হবে।

যখন দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌতুকের কারণে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, ঠিক তখনই ভারত ১৯৮৩-এর সেকশন ৪৯৮-এ চালু করে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা নতুন বউ পুড়ে মরার খবর থাকত এবং সেগুলোকে রান্নাঘরের দুর্ঘটনা বলে চালানো হতো। নারী সংসদ সদস্যের প্রতিবাদ, নারীবাদীদের চাপের মুখে সরকার এই আইনটি করতে বাধ্য হয়।

ভার্দওয়াজ একসময় সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিষয়টি নিয়ে ২০১২ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেছেন।

দীপিকা বলেন, ‘২০১১ সালে আমার এক আত্মীয় বিয়ের তিন মাসের মাথায় পৃথক হয়ে যায়। তার স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তার স্বামী এবং আমাদের পুরো পরিবার তাকে মারধর করে যৌতুক দাবি করে। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় তাকে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতন করার অভিযোগে আমারও নাম ছিল। আমাদের পরিবার শান্তি বজায় রাখতে অনেক টাকাও দিয়েছিল। মামলাটিও শেষ হয়েছিল। কিন্তু আমি শান্তিতে ছিলাম না।’

ভারতে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়ের করা ধর্ষণ মামলার ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ মিথ্যা হিসেবে পাওয়া গেছে। পুরুষদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ করতে ভার্দওয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেছে নিয়েছেন।

ভার্দওয়াজ বলেন, ‘কিছু নারীবাদী আমাকে বলেছেন নারী হয়ে পুরুষের জন্য লড়াই করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়। কিন্তু আমি সবার জন্য ন্যায়বিচার চাই, আমার কাজ নারীর বিরুদ্ধে নয়, আমার কাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’