ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

১৯ বছর পর বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান

১৯ বছর পর নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুনেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক পর আল্লাহ আমাকে আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। নিজের ঘরে ফিরে কী বলবো, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না।

দীর্ঘদিন পর বগুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯ বছর আগে যখন দেশে ছিলাম, তখন বগুড়ার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলাম। শতভাগ সফল না হলেও সরকারের আইন-কানুনের ভেতর থেকে যতটুকু সম্ভব ছিল, তা করার আন্তরিক চেষ্টা ছিলো।

তিনি বলেন, বগুড়াকে সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করতাম। কারণ, দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা যায়-তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছিল বগুড়ায়। মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে জেলার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওই সময়ে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিলো। সে কারণেই বগুড়াকে নিজের কাছে মডেল জেলা হিসেবে দেখি।

তারেক রহমান আরও বলেন, সে সময় বগুড়ায় এমন একটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের অধিকাংশ প্রয়োজন স্থানীয়ভাবেই পূরণ হতো। চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য খুব বেশি ঢাকামুখী হতে হতো না।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি নির্ধারণ করবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না।

সমাবেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

গত ১৫ বছরের বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শুধু বগুড়াই নয় এই সময়ে প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আল্লাহ যদি বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বগুড়ার পাশাপাশি সমগ্র দেশকে একসঙ্গে এগিয়ে নেয়া হবে।

এদিন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আলতাফুনেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগঘন পরিবেশ।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

১৯ বছর পর বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

১৯ বছর পর নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুনেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক পর আল্লাহ আমাকে আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। নিজের ঘরে ফিরে কী বলবো, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না।

দীর্ঘদিন পর বগুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯ বছর আগে যখন দেশে ছিলাম, তখন বগুড়ার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলাম। শতভাগ সফল না হলেও সরকারের আইন-কানুনের ভেতর থেকে যতটুকু সম্ভব ছিল, তা করার আন্তরিক চেষ্টা ছিলো।

তিনি বলেন, বগুড়াকে সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করতাম। কারণ, দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা যায়-তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছিল বগুড়ায়। মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে জেলার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওই সময়ে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিলো। সে কারণেই বগুড়াকে নিজের কাছে মডেল জেলা হিসেবে দেখি।

তারেক রহমান আরও বলেন, সে সময় বগুড়ায় এমন একটি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে মানুষের অধিকাংশ প্রয়োজন স্থানীয়ভাবেই পূরণ হতো। চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য খুব বেশি ঢাকামুখী হতে হতো না।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি নির্ধারণ করবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না।

সমাবেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

গত ১৫ বছরের বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শুধু বগুড়াই নয় এই সময়ে প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আল্লাহ যদি বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বগুড়ার পাশাপাশি সমগ্র দেশকে একসঙ্গে এগিয়ে নেয়া হবে।

এদিন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আলতাফুনেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগঘন পরিবেশ।