ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

‘১৯৫৩, ঢাকা জেলে প্রথম শহীদ দিবস’

‘১৯৫৩, ঢাকা জেলে প্রথম শহীদ দিবস’

কেমন ছিল বায়ান্নোর পরের বছরগুলোর শহীদ দিবসের দিনগুলো। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তাজা প্রাণ ঝরে গেলেও মেলেনি ভাষার স্বীকৃতি। পরের দিনই আবারও রাস্তায় নামতে হয়েছিল ছাত্রদের। রাতের অন্ধকারে গড়ে তুলতে হয়েছিল শহীদ স্মরণবেদী। টানা আন্দোলনে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৫২ সালে যখন সালাম, বরকত ও জব্বারের রক্তে ভেসে যাচ্ছিল রাস্তাঘাট, তখন গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্রনেতাদের। ১৯৫৩ সালে প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি স্মরণ করতে গিয়ে ১৯৭৩ সালের দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ফজলুল হক লেখেন, তারা প্রথম একুশে স্মরণ করেছিলেন কারাগারে। কীভাবে তারা আয়োজন করেছিলেন তা বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘রাতে কারও চোখে ‍ঘুম নেই। সকলের মধ্যেই চাপা উত্তেজনা। জেলখানায় থমথমে ভাব। দূর থেকে স্লোগানের শব্দ ভেসে আসছে।’
সেই রাতে তারা কারাগারের ভেতরে ঘুমাতে পারেননি। ফজলুল হকের ভাষায়, ‘অমর একুশের প্রথম স্মৃতিবার্ষিকী আমরা উদযাপন করেছিলাম ঢাকা জেলে ১৯৫৩ সালে। ভাষা আন্দোলনে ধৃত যে কয়জন নিরাপত্তাবন্দি তখনও আটক, তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক অজিত গুহ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী, অলি আহমেদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, পাবনার আবদুল মতিন এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক।’
কীভাবে কারাগারে উদযাপিত হয়েছিল সেই প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি বলতে গিয়ে তাদের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন ফজলুল হক। তারা সারাদিন উপবাস, কালো ব্যাচ ধারণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের খাদ্যখরচ বাবদ জমে যাওয়া টাকা রাজবন্দিদের জন্য খরচের আবেদন জানান কর্তৃপক্ষের কাছে।
কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, ‘‘কালো ব্যাজ বানানোর মুশকিল আসান করেছিলেন অজিত গুহ। একজোড়া কালো কুচকুচে মোজা ছিল সেটি কেটে ব্যাজ বানানো হয়। বেলা বাড়তেই নাজিমুদ্দিন রোড ধরে ছোট ছোট মিছিল কালো পতাকা নিয়ে পার হতে শুরু করে। রাস্তায় ওদের স্লোগান শুনে আমরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসি। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ বলে আমরাও স্লোগান দিতাম খুব জোরে। ওরা স্লোগান দিত রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। তখন জেলখানার পাশ দিয়ে কোনও মিছিল যাওয়ার সময় এই স্লোগান দিতোই।’’
কালো পতাকা পেয়েছিলেন কিভাবে বলতে গিয়ে সেই নিজেদের পোশাকের কথাই তুলে ধরেন তিনি। ফজলুল হক বলেন, ‘তোয়াহা সাহেবের উলের একটা কার্ডিগান ছিল। সেটাকেই আমাদের কালো পতাকা বানিয়েছিলাম। মিছিল দেখলেই আমরা দৌড়ে নিচে মাঠে নেমে যেতাম। মুনীর ভাই স্লোগান দিতেন, আমরা সেই স্লোগান ধরতাম। জেলের পাঁচিলের কাছে গিয়ে যত জোরে সম্ভব স্লোগান দিতাম। আমাদের স্লোগান শুনে বাইরে মিছিলের স্লোগান আরও তীব্রতর হতো।’
দিন শেষের মন খারাপ করা বিবরণ দিতে গিয়ে ফজলুল হক লেখেন, ‘এরইমধ্যে বিকেলে অজিতদা রবীন্দ্রনাথ থেকে ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত রচনার নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন। এভাবেই আমরা ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলে বসে উদযাপন করেছিলাম।
ছবি কৃতজ্ঞতা: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

‘১৯৫৩, ঢাকা জেলে প্রথম শহীদ দিবস’

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

‘১৯৫৩, ঢাকা জেলে প্রথম শহীদ দিবস’

কেমন ছিল বায়ান্নোর পরের বছরগুলোর শহীদ দিবসের দিনগুলো। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তাজা প্রাণ ঝরে গেলেও মেলেনি ভাষার স্বীকৃতি। পরের দিনই আবারও রাস্তায় নামতে হয়েছিল ছাত্রদের। রাতের অন্ধকারে গড়ে তুলতে হয়েছিল শহীদ স্মরণবেদী। টানা আন্দোলনে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৫২ সালে যখন সালাম, বরকত ও জব্বারের রক্তে ভেসে যাচ্ছিল রাস্তাঘাট, তখন গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্রনেতাদের। ১৯৫৩ সালে প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি স্মরণ করতে গিয়ে ১৯৭৩ সালের দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ফজলুল হক লেখেন, তারা প্রথম একুশে স্মরণ করেছিলেন কারাগারে। কীভাবে তারা আয়োজন করেছিলেন তা বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘রাতে কারও চোখে ‍ঘুম নেই। সকলের মধ্যেই চাপা উত্তেজনা। জেলখানায় থমথমে ভাব। দূর থেকে স্লোগানের শব্দ ভেসে আসছে।’
সেই রাতে তারা কারাগারের ভেতরে ঘুমাতে পারেননি। ফজলুল হকের ভাষায়, ‘অমর একুশের প্রথম স্মৃতিবার্ষিকী আমরা উদযাপন করেছিলাম ঢাকা জেলে ১৯৫৩ সালে। ভাষা আন্দোলনে ধৃত যে কয়জন নিরাপত্তাবন্দি তখনও আটক, তাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক অজিত গুহ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী, অলি আহমেদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, পাবনার আবদুল মতিন এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক।’
কীভাবে কারাগারে উদযাপিত হয়েছিল সেই প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি বলতে গিয়ে তাদের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন ফজলুল হক। তারা সারাদিন উপবাস, কালো ব্যাচ ধারণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের খাদ্যখরচ বাবদ জমে যাওয়া টাকা রাজবন্দিদের জন্য খরচের আবেদন জানান কর্তৃপক্ষের কাছে।
কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, ‘‘কালো ব্যাজ বানানোর মুশকিল আসান করেছিলেন অজিত গুহ। একজোড়া কালো কুচকুচে মোজা ছিল সেটি কেটে ব্যাজ বানানো হয়। বেলা বাড়তেই নাজিমুদ্দিন রোড ধরে ছোট ছোট মিছিল কালো পতাকা নিয়ে পার হতে শুরু করে। রাস্তায় ওদের স্লোগান শুনে আমরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসি। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ বলে আমরাও স্লোগান দিতাম খুব জোরে। ওরা স্লোগান দিত রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। তখন জেলখানার পাশ দিয়ে কোনও মিছিল যাওয়ার সময় এই স্লোগান দিতোই।’’
কালো পতাকা পেয়েছিলেন কিভাবে বলতে গিয়ে সেই নিজেদের পোশাকের কথাই তুলে ধরেন তিনি। ফজলুল হক বলেন, ‘তোয়াহা সাহেবের উলের একটা কার্ডিগান ছিল। সেটাকেই আমাদের কালো পতাকা বানিয়েছিলাম। মিছিল দেখলেই আমরা দৌড়ে নিচে মাঠে নেমে যেতাম। মুনীর ভাই স্লোগান দিতেন, আমরা সেই স্লোগান ধরতাম। জেলের পাঁচিলের কাছে গিয়ে যত জোরে সম্ভব স্লোগান দিতাম। আমাদের স্লোগান শুনে বাইরে মিছিলের স্লোগান আরও তীব্রতর হতো।’
দিন শেষের মন খারাপ করা বিবরণ দিতে গিয়ে ফজলুল হক লেখেন, ‘এরইমধ্যে বিকেলে অজিতদা রবীন্দ্রনাথ থেকে ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত রচনার নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন। এভাবেই আমরা ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলে বসে উদযাপন করেছিলাম।
ছবি কৃতজ্ঞতা: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম