ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুম জহির রায়হান

আশরাফুল ইসলাম
আজও ঘরে ফিরে আসেননি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার জহির রায়হান। প্রায় ৪৭ বছর নিখোঁজ থাকায় ধারণা করা হয় তিনি আর বেঁচে নেই। জননন্দিত এই গল্পকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে আর কোন দিন ফিরে আসবেন না। ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী ও লেখক আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা(শহীদুল্লা কায়সার)কে খোঁজতে গিয়ে তিনি আর ঘরে ফিরে আসেননি।

গণমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট আনুয়ায়ী জহির রায়হান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুম। ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবি শহীদুল্লা কায়সারকে খুজঁতে গিয়ে ১৯৭২ সালে ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান গুম হন।
জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর পরিবারের সাথে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতেবাংলা বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ।
১৯৫০ সালে যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমাসহ আরো বিভিন্ন পত্রিকাতে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে।
‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেওয়া হয়।
জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তিনি নিমার্ণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়া। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র ’স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণ করেন।
জহির রায়হান দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন এবং তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে মিরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুম জহির রায়হান

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আশরাফুল ইসলাম
আজও ঘরে ফিরে আসেননি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার জহির রায়হান। প্রায় ৪৭ বছর নিখোঁজ থাকায় ধারণা করা হয় তিনি আর বেঁচে নেই। জননন্দিত এই গল্পকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে আর কোন দিন ফিরে আসবেন না। ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী ও লেখক আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা(শহীদুল্লা কায়সার)কে খোঁজতে গিয়ে তিনি আর ঘরে ফিরে আসেননি।

গণমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট আনুয়ায়ী জহির রায়হান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুম। ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবি শহীদুল্লা কায়সারকে খুজঁতে গিয়ে ১৯৭২ সালে ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান গুম হন।
জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর পরিবারের সাথে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতেবাংলা বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ।
১৯৫০ সালে যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমাসহ আরো বিভিন্ন পত্রিকাতে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে।
‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেওয়া হয়।
জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তিনি নিমার্ণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়া। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র ’স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণ করেন।
জহির রায়হান দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন এবং তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে মিরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি।