ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

সমালোচনাকারীরা কোনো দিন রামপালে যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে যারা আন্দোলন করছেন তাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীরা কোনোদিনও নির্মাণাধীন প্রকল্প পরিদর্শন করেননি।’

শনিবার প্রকৌশলীদের সংগঠন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-আইইবির চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সংগঠনের ৫৭ তম জাতীয় সম্মেলনে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরনের আদৌ কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি বলেন, ‘এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে রামপালে, সুন্দরবনে নয়। প্রকল্পটি সুন্দরবনের বহিঃসীমার ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এলাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। কাজেই এই প্রকল্পের দ্বারা সুন্দরবনেরর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’

রামপালে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে বিতর্ক চলছে। বামপন্থী ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এই কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি গত বৃহস্পতিবারও এই দাবিতে রাজধানীতে আধাবেলা হরতাল করেছে। তাদের অভিযোগ, এই কেন্দ্রটি সুন্দরবন ধ্বংস করে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `এই সময়েই একটি গোষ্ঠী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রাজধানীতে বসে কথা তুলছে এবং বিশ্বব্যাপী এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা রাজধানীতে বসেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। …যদির এদের মধ্যে অনেকেই কোনোদিনও রামপালে যায়নি।’

সম্প্রতি সুন্দরবনের কাছে এক হাজার মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই একটি বার্জ ডুবে যাবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় পরিবেশবিদরা কী করেছেন, তারা কি কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখেছেন-এতে কী ক্ষতি হতে পারে।…তাদের কি সে সময় সুন্দরবনে গিয়ে বিষয়টি দেখার প্রয়োজন ছিলা না?’

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সুন্দরবন এবং তদসংলগ্ন এলাকার পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র্যের সুরক্ষায় প্রায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকনা দেয়া জাহাজে করেই গভীর সমুদ্র থেকে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিবহন করতে হবে। স্বল্প শব্দ তৈরি করে এমন ইঞ্জিন বার্জে ব্যবহার করা হবে এবং দূষণ প্রতিরোধের সবরকমের ব্যবস্থা থাকবে। কাজেই পরিবেশ দূষণের কোনো আশঙ্কাই থাকবে না।’

বড় পুকুরিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে দুটি সাব ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট থাকার পরেও সেখানকার ঘনবসতিপূর্ণ এবং সবুজ এলাকার পরিবেশে কোন বিরুপ প্রভাব পড়েনি। উপরন্তু জমির ঊর্বরতা বেড়েছে এবং সেখানে এখন প্রচুর ধান উৎপাদন হয়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সমালোচনাকারীরা কোনো দিন রামপালে যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে যারা আন্দোলন করছেন তাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীরা কোনোদিনও নির্মাণাধীন প্রকল্প পরিদর্শন করেননি।’

শনিবার প্রকৌশলীদের সংগঠন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-আইইবির চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সংগঠনের ৫৭ তম জাতীয় সম্মেলনে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরনের আদৌ কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি বলেন, ‘এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে রামপালে, সুন্দরবনে নয়। প্রকল্পটি সুন্দরবনের বহিঃসীমার ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এলাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। কাজেই এই প্রকল্পের দ্বারা সুন্দরবনেরর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’

রামপালে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে বিতর্ক চলছে। বামপন্থী ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এই কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি গত বৃহস্পতিবারও এই দাবিতে রাজধানীতে আধাবেলা হরতাল করেছে। তাদের অভিযোগ, এই কেন্দ্রটি সুন্দরবন ধ্বংস করে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `এই সময়েই একটি গোষ্ঠী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রাজধানীতে বসে কথা তুলছে এবং বিশ্বব্যাপী এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা রাজধানীতে বসেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। …যদির এদের মধ্যে অনেকেই কোনোদিনও রামপালে যায়নি।’

সম্প্রতি সুন্দরবনের কাছে এক হাজার মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই একটি বার্জ ডুবে যাবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় পরিবেশবিদরা কী করেছেন, তারা কি কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখেছেন-এতে কী ক্ষতি হতে পারে।…তাদের কি সে সময় সুন্দরবনে গিয়ে বিষয়টি দেখার প্রয়োজন ছিলা না?’

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সুন্দরবন এবং তদসংলগ্ন এলাকার পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র্যের সুরক্ষায় প্রায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকনা দেয়া জাহাজে করেই গভীর সমুদ্র থেকে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিবহন করতে হবে। স্বল্প শব্দ তৈরি করে এমন ইঞ্জিন বার্জে ব্যবহার করা হবে এবং দূষণ প্রতিরোধের সবরকমের ব্যবস্থা থাকবে। কাজেই পরিবেশ দূষণের কোনো আশঙ্কাই থাকবে না।’

বড় পুকুরিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে দুটি সাব ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট থাকার পরেও সেখানকার ঘনবসতিপূর্ণ এবং সবুজ এলাকার পরিবেশে কোন বিরুপ প্রভাব পড়েনি। উপরন্তু জমির ঊর্বরতা বেড়েছে এবং সেখানে এখন প্রচুর ধান উৎপাদন হয়।’