ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও বাড়ছে পিঁয়াজের দাম মিয়ানমার থেকে আমদানি শুরু

স্টাফ রিপোর্টার,
713
পর্যাপ্ত মজুদ, সরবরাহ স্বাভাবিক তারপরও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবেই দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমাদের পিঁয়াজের চাহিদার একটি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে বাজারে এখন যে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা আগের আমদানি করা। শুধু তাই নয়, গত এপ্রিলেই দেশি পিঁয়াজ ঘরে উঠেছে। এবার ফলন ভালো হওয়ায় দেশি পিঁয়াজের মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। তাই এই মুহূর্তে পিঁয়াজের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় আমদানিকারকরা ভারতীয় পিঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দেশি পিঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। তাই দাম বাড়ছে।

বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে এবার পিঁয়াজের উত্পাদন কম হওয়ায় দেশটি পিঁয়াজ রপ্তানিতে নিরুত্সাহিত করতে পিঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়িয়েছে। গত শনিবার প্রতি টন পিঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৪২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলার করেছে। এরআগে গত ২৬ জুন রফতানি মূল্য ২৭৫ ডলার থেকে ৪২৫ ডলারে উন্নীত করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেলের তথ্য মতে, প্রতি বছর দেশে পিঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এ বছর উত্পাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। ঘাটতি ২ লাখ ৭০ হাজার টন। কিন্তু এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ৯২ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এই হিসেবে দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি পিঁয়াজ রয়েছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির?

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়েছে, শুধু এই অজুহাতেই একটি চক্র পিঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। তবে অযৌক্তিকভাবে পিঁয়াজের দাম বাড়ানোয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাজারে কারসাজি রোধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে পিঁয়াজ আমদানি করে তা ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হবে।

এদিকে ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় আমদানিকারকরা মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে ১২৭ টন পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আরো পিঁয়াজ আসছে। এছাড়া মিয়ানমারের পাশাপাশি চীন থেকেও পিঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কাওরানবাজারের পাইকারি পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে দেশি পিঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ার প্রবণতা থাকবে না। এখন ধীরে ধীরে দাম কমে আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও বাড়ছে পিঁয়াজের দাম মিয়ানমার থেকে আমদানি শুরু

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার,
713
পর্যাপ্ত মজুদ, সরবরাহ স্বাভাবিক তারপরও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবেই দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমাদের পিঁয়াজের চাহিদার একটি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে বাজারে এখন যে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা আগের আমদানি করা। শুধু তাই নয়, গত এপ্রিলেই দেশি পিঁয়াজ ঘরে উঠেছে। এবার ফলন ভালো হওয়ায় দেশি পিঁয়াজের মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। তাই এই মুহূর্তে পিঁয়াজের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় আমদানিকারকরা ভারতীয় পিঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দেশি পিঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। তাই দাম বাড়ছে।

বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে এবার পিঁয়াজের উত্পাদন কম হওয়ায় দেশটি পিঁয়াজ রপ্তানিতে নিরুত্সাহিত করতে পিঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়িয়েছে। গত শনিবার প্রতি টন পিঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৪২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলার করেছে। এরআগে গত ২৬ জুন রফতানি মূল্য ২৭৫ ডলার থেকে ৪২৫ ডলারে উন্নীত করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেলের তথ্য মতে, প্রতি বছর দেশে পিঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এ বছর উত্পাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। ঘাটতি ২ লাখ ৭০ হাজার টন। কিন্তু এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ৯২ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এই হিসেবে দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি পিঁয়াজ রয়েছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির?

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়েছে, শুধু এই অজুহাতেই একটি চক্র পিঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। তবে অযৌক্তিকভাবে পিঁয়াজের দাম বাড়ানোয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাজারে কারসাজি রোধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে পিঁয়াজ আমদানি করে তা ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হবে।

এদিকে ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় আমদানিকারকরা মিয়ানমার থেকে পিঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে ১২৭ টন পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আরো পিঁয়াজ আসছে। এছাড়া মিয়ানমারের পাশাপাশি চীন থেকেও পিঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কাওরানবাজারের পাইকারি পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ভারত পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ানোয় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে দেশি পিঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ কারণে দাম বাড়ার প্রবণতা থাকবে না। এখন ধীরে ধীরে দাম কমে আসবে।