ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

বিএনপির নিবন্ধন বাতিল ও খালেদাকে গ্রেপ্তারের দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ফাইল ছবি
কানাডার ফেডারেল আদালতের একটি রায়ে বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ আখ্যা দেওয়ার পরদিন সংসদে দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সংসদে। আওয়ামী লীগের শরিক তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এই দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় এই দাবি তুলেন মাইজভাণ্ডারী। তিনি সন্ত্রাসের দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান।

কানাডাভিত্তিক অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র নতুন দেশে প্রকাশিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির সদস্য হওয়ার কারণে একজন বাংলাদেশির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন সে দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ওই ব্যক্তি। আর জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে বিচারক বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

নতুন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি ফেডারেল কোর্টে এই জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেন। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত ২৫ জানুয়ারি রায় দেন ফেডারেল কোর্টের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন। এতে বিচারক বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যলিপ্ত ছিল, আছে বা লিপ্ত হবার লিপ্ত হবে’ তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে- এই মর্মে ইমিগ্রেশন অফিসার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।’

এই রায় প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির নাশকতার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত।

তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে করেছেন, কানাডা আদালতের রায় বিএনপির বিরুদ্ধে বর্বরতম চক্রান্তের অংশ।

সংসদে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এই বিএনপি গত নির্বাচনের আগে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নারী-শিশুরা এখনও কাতরাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, যারা যুদ্ধাপরাধী-সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়, তারাও সন্ত্রাসী।’

বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘আল্লাহর গজব পড়েছে। বিদেশের মাটিতে এখন বিএনপিকে সনদ ধরিয়ে দিয়েছে। জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য যেমন তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপিরও নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।’

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিও করেন মাইজভাণ্ডারী।

মাজার বিশ্বাসীদের রাজনৈতিক দল তরীকত ফেডারেশনের নেতা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ১৯৯১ সালে প্রথমে সংসদে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট করে। তবে পরের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি এবং ধানের শীষে ভোট করে ১৯৯৬ সালে সংসদে বসেন। পরে তিনি বিএনপি ছেড়ে তরীকত ফেডারেশন গড়েন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতবিরোধী মহাজোটে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আবার চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাইজভাণ্ডারী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

বিএনপির নিবন্ধন বাতিল ও খালেদাকে গ্রেপ্তারের দাবি সংসদে

আপডেট সময় : ১২:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ফাইল ছবি
কানাডার ফেডারেল আদালতের একটি রায়ে বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ আখ্যা দেওয়ার পরদিন সংসদে দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে সংসদে। আওয়ামী লীগের শরিক তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এই দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় এই দাবি তুলেন মাইজভাণ্ডারী। তিনি সন্ত্রাসের দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান।

কানাডাভিত্তিক অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র নতুন দেশে প্রকাশিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির সদস্য হওয়ার কারণে একজন বাংলাদেশির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন সে দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ওই ব্যক্তি। আর জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে বিচারক বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

নতুন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি ফেডারেল কোর্টে এই জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেন। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত ২৫ জানুয়ারি রায় দেন ফেডারেল কোর্টের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন। এতে বিচারক বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যলিপ্ত ছিল, আছে বা লিপ্ত হবার লিপ্ত হবে’ তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে- এই মর্মে ইমিগ্রেশন অফিসার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।’

এই রায় প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির নাশকতার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত।

তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে করেছেন, কানাডা আদালতের রায় বিএনপির বিরুদ্ধে বর্বরতম চক্রান্তের অংশ।

সংসদে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এই বিএনপি গত নির্বাচনের আগে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নারী-শিশুরা এখনও কাতরাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, যারা যুদ্ধাপরাধী-সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়, তারাও সন্ত্রাসী।’

বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলে মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘আল্লাহর গজব পড়েছে। বিদেশের মাটিতে এখন বিএনপিকে সনদ ধরিয়ে দিয়েছে। জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য যেমন তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপিরও নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।’

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিও করেন মাইজভাণ্ডারী।

মাজার বিশ্বাসীদের রাজনৈতিক দল তরীকত ফেডারেশনের নেতা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ১৯৯১ সালে প্রথমে সংসদে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট করে। তবে পরের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি এবং ধানের শীষে ভোট করে ১৯৯৬ সালে সংসদে বসেন। পরে তিনি বিএনপি ছেড়ে তরীকত ফেডারেশন গড়েন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতবিরোধী মহাজোটে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আবার চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাইজভাণ্ডারী।