ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশ এবার ভারতকে গ্যাস ট্রানজিট দিচ্ছে


বাংলাদেশ এবার ভারতকে গ্যাস ট্রানজিট দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ও এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত।

এ সংক্রান্ত দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সম্মত হন। সোমবার ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রস্তাবের আওতায় উড়িষ্যা থেকে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এলএনজি সরবরাহ করা হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা হয়ে তাপুলিয়া সীমান্ত দিয়ে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রংপুুর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ যাবে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশও এই এলএনজি ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে টার্মিনাল স্থাপন করে ভারতের ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ করা হবে। গ্যাস ট্রানজিটের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করবে সে বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তেল গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বৈঠক হয়। এতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে ভারত।

সোমবার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও ইন্ডিয়ান কোয়েল কর্পোরেশন (আইওসিএল) যৌথভাবে তদারকি করবে।

সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ভারতীয় পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এসব কথা জানান।

তারা আরও বলেন, ভারতের নোমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে উচ্চগতির ডিজেল আমদানি করা হবে। তবে ডিজেলের দাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রোববার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তিনি ভারতের এ সংক্রান্ত সরকারি খাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী রোববার ঢাকায় নেমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার সকালে রেডিসন হোটেলে দু’দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও ভারতের পেট্রেলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকের পর চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা সই হয়।

এ বিষয়ে ভারতের প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, আইওসিএল এবং বিপিসির মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চট্টগ্রামে দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি এলপিজি হ্যান্ডেলিং ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে। এই ফ্যাসিলিটি উভয় দেশের জন্য উইন উইন অংশীদারিত্বের সৃষ্টি করবে। কেননা সেখান থেকে এলপিজি ভারতের ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সরবরাহ দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাজার সুবিধা দেখার পর এটি যদি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় তবেই এ টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে আইওসিএল আগামী দু’মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেবে। তারপর হবে সম্ভাব্যতা যাচাই।

এলএনজি পাইপলাইন প্রস্তাবের ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, উড়িষ্যার ধামরা বন্দরে একটি এলএনজি গ্যাস ক্ষেত্র হচ্ছে। উড়িষ্যা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা হয়ে তাপুলিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গ্রিড লাইনে সংযোগ দেয়া হবে। সেখান থেকে এলএনজি যাবে রংপুর। রংপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারেও আমরা দু’দেশ একমতে পৌঁছেছি। বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই পাইপলাইন থেকে গ্যাস খুলনায় শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা যাবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরও বলেন, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছি। ত্রিপুরা থেকে ৭০ এমএমসিএফ গ্যাস আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদার অনেকটাই পূরণ হবে। এ বিষয়ে ভারতে ফিরে গিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে বলে ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির মধ্যে একটি চুক্তি সই হবে। সেখানে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য ভারত সম্প্রতি নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পার্বতীপুর ডিপোতে ২২০০ টন শুভেচ্ছা মূল্যে হাই স্পিড ডিজেল সরবরাহ দিয়েছে। তবে এই ডিজেল ট্রেনের মাধ্যমে এসেছে। ভারত এই ডিজেল সরবরাহ টেকসই উপায়ে করতে চায়।

এ লক্ষ্যে এখন পাইপলাইন স্থাপন করে তার মাধ্যমে ডিজেল বিক্রির বিষয় সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করেছেন ভাতীয় প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে গ্যাস পাইপলাইনের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক স্থাপনের যে কোনো বিষয়কে ভারত স্বাগত জানাবে।

অন্যদিকে ইরান, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপনের কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া চাইলে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, আগে আমরা দু’দেশ নিজেদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করি।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠে গ্যাস অনুসন্ধানে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি শুকনো মৌসুমে খনন কাজ শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। গভীর সমুদ্রে জরিপ পরিচালনায় বাংলাদেশের জরিপ জাহাজ ভারতের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্যও বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে।

এ ছাড়া দু’দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রকৌশলী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

বাংলাদেশ এবার ভারতকে গ্যাস ট্রানজিট দিচ্ছে

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭


বাংলাদেশ এবার ভারতকে গ্যাস ট্রানজিট দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ও এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত।

এ সংক্রান্ত দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সম্মত হন। সোমবার ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রস্তাবের আওতায় উড়িষ্যা থেকে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এলএনজি সরবরাহ করা হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা হয়ে তাপুলিয়া সীমান্ত দিয়ে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রংপুুর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ যাবে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশও এই এলএনজি ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে টার্মিনাল স্থাপন করে ভারতের ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ করা হবে। গ্যাস ট্রানজিটের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করবে সে বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তেল গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বৈঠক হয়। এতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে ভারত।

সোমবার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও ইন্ডিয়ান কোয়েল কর্পোরেশন (আইওসিএল) যৌথভাবে তদারকি করবে।

সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ভারতীয় পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এসব কথা জানান।

তারা আরও বলেন, ভারতের নোমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে উচ্চগতির ডিজেল আমদানি করা হবে। তবে ডিজেলের দাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রোববার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তিনি ভারতের এ সংক্রান্ত সরকারি খাতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী রোববার ঢাকায় নেমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার সকালে রেডিসন হোটেলে দু’দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও ভারতের পেট্রেলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকের পর চট্টগ্রামে যৌথ উদ্যোগে এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা সই হয়।

এ বিষয়ে ভারতের প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, আইওসিএল এবং বিপিসির মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চট্টগ্রামে দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি এলপিজি হ্যান্ডেলিং ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে। এই ফ্যাসিলিটি উভয় দেশের জন্য উইন উইন অংশীদারিত্বের সৃষ্টি করবে। কেননা সেখান থেকে এলপিজি ভারতের ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সরবরাহ দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাজার সুবিধা দেখার পর এটি যদি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় তবেই এ টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে আইওসিএল আগামী দু’মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেবে। তারপর হবে সম্ভাব্যতা যাচাই।

এলএনজি পাইপলাইন প্রস্তাবের ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, উড়িষ্যার ধামরা বন্দরে একটি এলএনজি গ্যাস ক্ষেত্র হচ্ছে। উড়িষ্যা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কলকাতা হয়ে তাপুলিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গ্রিড লাইনে সংযোগ দেয়া হবে। সেখান থেকে এলএনজি যাবে রংপুর। রংপুর থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারেও আমরা দু’দেশ একমতে পৌঁছেছি। বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই পাইপলাইন থেকে গ্যাস খুলনায় শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা যাবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আরও বলেন, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছি। ত্রিপুরা থেকে ৭০ এমএমসিএফ গ্যাস আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদার অনেকটাই পূরণ হবে। এ বিষয়ে ভারতে ফিরে গিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে বলে ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির মধ্যে একটি চুক্তি সই হবে। সেখানে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য ভারত সম্প্রতি নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পার্বতীপুর ডিপোতে ২২০০ টন শুভেচ্ছা মূল্যে হাই স্পিড ডিজেল সরবরাহ দিয়েছে। তবে এই ডিজেল ট্রেনের মাধ্যমে এসেছে। ভারত এই ডিজেল সরবরাহ টেকসই উপায়ে করতে চায়।

এ লক্ষ্যে এখন পাইপলাইন স্থাপন করে তার মাধ্যমে ডিজেল বিক্রির বিষয় সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করেছেন ভাতীয় প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে গ্যাস পাইপলাইনের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক স্থাপনের যে কোনো বিষয়কে ভারত স্বাগত জানাবে।

অন্যদিকে ইরান, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপনের কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া চাইলে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, আগে আমরা দু’দেশ নিজেদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করি।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠে গ্যাস অনুসন্ধানে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি শুকনো মৌসুমে খনন কাজ শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। গভীর সমুদ্রে জরিপ পরিচালনায় বাংলাদেশের জরিপ জাহাজ ভারতের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্যও বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে।

এ ছাড়া দু’দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রকৌশলী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।