ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

প্রচারের শুরুতেই উত্তাপ, বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি

প্রায় ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ এক পরিবেশে এই ভোট যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। কিন্তু প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর আক্রণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর মাত্র দুদিন হলো। গতকাল শুক্রবার ও আগের দিন বৃহস্পতিবার—এ দুই দিনে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে যে স্পষ্টত ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো সামনের দিনগুলোতে পরস্পর আক্রমণের ধার আরও বাড়তে পরে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল যে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরবিরোধী শক্ত অবস্থানের দিকে যাবে। এখন পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা, ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ষড়যন্ত্র করার অভিযোগগুলো সামনে আনা হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত দুই দিনে রাজধানী ঢাকার ভাষানটেকসহ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মিলে আটটি জনসভায় বক্তৃতা করেন। আর জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার মিরপুরসহ উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে পাঁচটি জনসভায় বক্তব্য দেন। দুই নেতার বক্তব্যগুলো তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়।

তারেক রহমান জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে ১৯৭১ সালে তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘শিরক’ ও ‘কুফরি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দল সৎ মানুষের শাসনের কথা বলে নিজেরাই অসৎ কাজ করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে ঠকাচ্ছে। তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালট ছিনতাই এবং এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেন।

গতকাল শুক্রবার এই বাগ্‌যুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। খুলনায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনকে আখ্যা দেন ‘দ্বীন কায়েমের নিয়মতান্ত্রিক জিহাদ’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আগে যুদ্ধ হতো তরবারি, তির-ধনুক ও কামান দিয়ে। এখন যুদ্ধ হচ্ছে ব্যালট দিয়ে।’ তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কোনো মুসলমান আরেক মুসলমানকে কাফের বলতে পারেন না…তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন।’ আরও বলেন, ‘উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন…বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের।’

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম

প্রচারের শুরুতেই উত্তাপ, বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি

আপডেট সময় : ১০:২০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ এক পরিবেশে এই ভোট যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। কিন্তু প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর আক্রণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর মাত্র দুদিন হলো। গতকাল শুক্রবার ও আগের দিন বৃহস্পতিবার—এ দুই দিনে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে যে স্পষ্টত ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো সামনের দিনগুলোতে পরস্পর আক্রমণের ধার আরও বাড়তে পরে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল যে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরবিরোধী শক্ত অবস্থানের দিকে যাবে। এখন পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা, ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ষড়যন্ত্র করার অভিযোগগুলো সামনে আনা হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত দুই দিনে রাজধানী ঢাকার ভাষানটেকসহ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মিলে আটটি জনসভায় বক্তৃতা করেন। আর জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার মিরপুরসহ উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে পাঁচটি জনসভায় বক্তব্য দেন। দুই নেতার বক্তব্যগুলো তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়।

তারেক রহমান জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে ১৯৭১ সালে তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘শিরক’ ও ‘কুফরি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দল সৎ মানুষের শাসনের কথা বলে নিজেরাই অসৎ কাজ করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে ঠকাচ্ছে। তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালট ছিনতাই এবং এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেন।

গতকাল শুক্রবার এই বাগ্‌যুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। খুলনায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনকে আখ্যা দেন ‘দ্বীন কায়েমের নিয়মতান্ত্রিক জিহাদ’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আগে যুদ্ধ হতো তরবারি, তির-ধনুক ও কামান দিয়ে। এখন যুদ্ধ হচ্ছে ব্যালট দিয়ে।’ তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কোনো মুসলমান আরেক মুসলমানকে কাফের বলতে পারেন না…তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন।’ আরও বলেন, ‘উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন…বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের।’