ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

নির্বাচন কমিশন কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না’

‘
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সকল কর্মকর্তার কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারে যেন সবার এমন আস্থা থাকে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না। নির্বাচন কমিশনের হারিয়ে যাওয়া আস্থা আস্তে আস্তে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাশনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করাই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ওই বেঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনরা। ড. এটিএম শামসুল হুদা আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হলে তার নিজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বিসিএস ক্যাডার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কারণ নির্বাচনকালে বাইরে থেকে যে জনবল নিয়োগ দেওয়া তাদের ওপর কমিশনের তেমন নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

শামসুল বলেন, এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে- তারা কি চায়। আর ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তৈরিতে এমন লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে যেন তাদের ওপর সবার আস্থা থাকে। যাকে তাকে দিয়ে এটা করা ঠিক হবে না।
সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘স্টেক হোল্ডারদের মতামত নিয়ে ই-ভোটিংয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে বর্তমান কমিশনকে। ছোট ছোট নির্বাচন করে তারা প্রমাণ করবেন যে, তারা সৎ, দক্ষ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক, যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকে। ’
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলোন, ‘জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনই নতুন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মনুষের মনে আশংকা, তাদের ভোট তারা দিতে পারবে কিনা। এছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানের পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। এমন ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোড অব কন্ডাক্ট সংশোধন করা যায় কিনা এটাও কমিশনকে ভাবতে হবে।
সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন যাতে ঘটে কমিশনকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য সব ধরনের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে। এখন কমিশন সেগুলো ব্যবহার করবে কিনা সেটা তাদের বিষয়। ’
লেখক ও গবেষক সৈয়দ মকসুদ বলেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। আগামী সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের সামনে দু’টি বিকল্প আছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রশংসিত হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ইতিহাসে নিন্দনীয় হওয়া। একুশ শতকে বাঙালি জাতি নিন্দনীয় হওয়াও অপছন্দ করে না। নতুন কমিশন কেবল দায়িত্ব নিল, কাজেই এখনই তাদের নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।
সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

নির্বাচন কমিশন কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না’

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭

‘
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সকল কর্মকর্তার কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারে যেন সবার এমন আস্থা থাকে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না। নির্বাচন কমিশনের হারিয়ে যাওয়া আস্থা আস্তে আস্তে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাশনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করাই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ওই বেঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনরা। ড. এটিএম শামসুল হুদা আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হলে তার নিজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বিসিএস ক্যাডার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কারণ নির্বাচনকালে বাইরে থেকে যে জনবল নিয়োগ দেওয়া তাদের ওপর কমিশনের তেমন নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

শামসুল বলেন, এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে- তারা কি চায়। আর ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তৈরিতে এমন লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে যেন তাদের ওপর সবার আস্থা থাকে। যাকে তাকে দিয়ে এটা করা ঠিক হবে না।
সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘স্টেক হোল্ডারদের মতামত নিয়ে ই-ভোটিংয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে বর্তমান কমিশনকে। ছোট ছোট নির্বাচন করে তারা প্রমাণ করবেন যে, তারা সৎ, দক্ষ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক, যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকে। ’
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলোন, ‘জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনই নতুন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মনুষের মনে আশংকা, তাদের ভোট তারা দিতে পারবে কিনা। এছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানের পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। এমন ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোড অব কন্ডাক্ট সংশোধন করা যায় কিনা এটাও কমিশনকে ভাবতে হবে।
সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন যাতে ঘটে কমিশনকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য সব ধরনের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে। এখন কমিশন সেগুলো ব্যবহার করবে কিনা সেটা তাদের বিষয়। ’
লেখক ও গবেষক সৈয়দ মকসুদ বলেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। আগামী সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের সামনে দু’টি বিকল্প আছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রশংসিত হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে ইতিহাসে নিন্দনীয় হওয়া। একুশ শতকে বাঙালি জাতি নিন্দনীয় হওয়াও অপছন্দ করে না। নতুন কমিশন কেবল দায়িত্ব নিল, কাজেই এখনই তাদের নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।
সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।