
ঢাকা: নতুন সিইসি’র বক্তব্যের কঠোর সমালোচনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘নতুন সিইসি জনতার মঞ্চের লোক। উনি আওয়ামী লীগের মুখপাত্রের মতো কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক, এটাই তো প্রমাণিত।’
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির বলেন, পুরনো সিইসি তো তার কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি অত্যন্ত যোগ্য ও বিশ্বাসী আওয়ামী সিইসি, ওটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সিইসি নন। তিনি যেমন গতকাল বিদায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদেরকে সাথে নিয়েই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করেছি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের ভোটাধিকারের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে। আর এতেই বুঝা যায় বিদায়ী সিইসি কতবড় আওয়ামী আর বাকশালী হতে পারেন।
আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগের জন তো প্রমাণ করে ছেড়েছেন এখন নতুন যে সিইসি তার বক্তব্যে বুঝতেই পারেন নিবার্চন কতটুকু সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নতুন সিইসি সর্ম্পকে যে তথ্য পেয়েছি ততটুকু বলেছি। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তাই মাথায় যদি গলদ হয়, তাহলে গোটা বডি তো কোনো কাজ (ফাংশন) করবে না। অবাধ ও নিরপেক্ষ কোনো কাজ হবে না।
তিনি বলেন, আমরা বার বার বলে এসেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। না হলে একতরফা নির্বাচন হবে যে নির্বাচনটা হবে বিগত ৫ জানুয়ারির মতো।
জমায়েত এবং ভিড় থেকেই সরকারের মনে ভয় ঢুকেছে মন্তব্য করে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, শুভেচ্ছা জানানোর জন্যই নেতাকর্মীরা স্বত:স্ফুর্তভাবে বরাবর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে জড়ো হয়ে থাকেন। আজও অসংখ্য নেতাকর্মীরা তার যাত্রাপথের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে উপস্থিত ছিল। কিন্তু জবাবদিহিহীন সরকারের পেটোয়া বাহিনী বিনা উস্কানিতে জমায়েত বিএনপি’র সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ পথচারীর ওপর গুলিবর্ষণ ও বেধড়ক লাঠিচার্জের মাধ্যমে আকস্মিক বর্বরোচিত আক্রমন চালায়।
তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়েই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সরকার পুলিশি আক্রমন চালাচ্ছে। দেশের সম্পদ দখল করার মতো আওয়ামী সরকার গণতন্ত্র ও সংবিধানকে কেড়ে নিয়ে নিজেদের দখলে রেখেছে। দেশকে আজ প্রকট দুঃসময়ে ঠেলে দেয়া হয়েছে। নির্বিকার নাৎসি পন্থায় দেশ শাসন করতে গিয়ে এক বিভীষিকাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে দেশব্যাপী।
সরকারি নিপীড়ন নির্যাতনের মুখেও জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীদের মানসিক প্রত্যয় ও মনোবল আরো শক্তিশালী হচ্ছে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
পুলিশের রক্তাক্ত হামলায় অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত ও গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন রুহুল কবির।
প্রতিনিধির নাম 

