ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

ঢাকায় ভাঙা হচ্ছে ২৭১ বছরের পুরনো মসজিদ


ঢাকা: বাইরে দেখে আঁচ করার উপায় নেই ভেতরে ২৭১ বছরের পুরনো মসজিদ আছে। পুরনো ঢাকার আজিমপুরের নিউ পল্টন এলাকায় সরু এক রাস্তার ধারে জনবহুল এলাকায় এ মসজিদটির অবস্থান।

এটি আজিমপুর শাহী মসজিদ হিসেবে পরিচিত। গবেষকরা বলছেন, সব মসজিদ শাহী মসজিদ নয়। যেসব মসজিদ নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়েছে এবং একটি কবরস্থানসহ অন্যান্য বিষয়কে মাথায় নিয়ে নির্মাণ হয়েছে – সেসব মসজিদকে শাহী মসজিদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক নুরুল কবির এ মসজিদ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলছেন, “এ মসজিদের একটি শিলালিপি দেখে ধারণা পাওয়া যায় যে এটি ১৭৪৬ সালে নির্মিত। তখন নবাব আলীবর্দি খাঁ বাংলার শাসনকর্তা।”

কবির বলেন, “এ মসজিদের গম্বুজ অনেকটা তুরস্কের অটোম্যান আমলের স্থাপত্য শৈলীর মিল আছে।”

কিন্তু নতুন ছয়তলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় পৌনে ৩০০ বছরের পুরনো এ মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু করেছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে মসজিদের প্রায় অর্ধেক ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন মসজিদে জায়গার সংকুলান হচ্ছেনা। সে কারণে এ মসজিদ ভেঙ্গে ছয়তলা মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

এতো পুরনো হওয়া সত্ত্বেও এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হয়নি। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন ভাঙার কাজ শুরুর আগে তারা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন এ মসজিদটি তাদের তালিকায় রয়েছে কিনা। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চিঠি দিয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে, এ স্থাপনাটি তাদের তালিকায় নেই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃধা বলেন, “আমরা তো স্পেশালিষ্ট না। যারা স্পেশালিষ্ট তারা বলছে যে এটা পুরাকীর্তি না। তখন আমরা ভাঙছি।”

এ মসজিদটি ভেঙে নতুন বহুতল মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন আছে কি-না সেটি নিয়ে এলাকায় অনেকের মাঝে দ্বিমত আছে। কেউ মনে করেন যেহেতু জুম্মার নামাজ, তারাবীর নামাজ কিংবা অন্য কোন বিশেষ দিনে মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা হয়না সেজন্য এটি ভেঙে নতুন মসজিদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে কেউ-কেউ মনে করে, পুরনো কাঠামো অক্ষত রেখে মসজিদটিকে কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সেদিকে নজর দেয়া উচিত ছিল।

শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ভাঙ্গার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এখনো পর্যন্ত যতটুকু অক্ষত আছে সেটিকে বাঁচিয়ে কিভাবে মসজিদটিকে সম্প্রসারণ করা যায় সে সুপারিশ করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কিন্তু ততক্ষণে ২৭১ বছরের পুরনো এ মসজিদটির প্রায় অর্ধেক ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

ঢাকায় ভাঙা হচ্ছে ২৭১ বছরের পুরনো মসজিদ

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭


ঢাকা: বাইরে দেখে আঁচ করার উপায় নেই ভেতরে ২৭১ বছরের পুরনো মসজিদ আছে। পুরনো ঢাকার আজিমপুরের নিউ পল্টন এলাকায় সরু এক রাস্তার ধারে জনবহুল এলাকায় এ মসজিদটির অবস্থান।

এটি আজিমপুর শাহী মসজিদ হিসেবে পরিচিত। গবেষকরা বলছেন, সব মসজিদ শাহী মসজিদ নয়। যেসব মসজিদ নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়েছে এবং একটি কবরস্থানসহ অন্যান্য বিষয়কে মাথায় নিয়ে নির্মাণ হয়েছে – সেসব মসজিদকে শাহী মসজিদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক নুরুল কবির এ মসজিদ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলছেন, “এ মসজিদের একটি শিলালিপি দেখে ধারণা পাওয়া যায় যে এটি ১৭৪৬ সালে নির্মিত। তখন নবাব আলীবর্দি খাঁ বাংলার শাসনকর্তা।”

কবির বলেন, “এ মসজিদের গম্বুজ অনেকটা তুরস্কের অটোম্যান আমলের স্থাপত্য শৈলীর মিল আছে।”

কিন্তু নতুন ছয়তলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় পৌনে ৩০০ বছরের পুরনো এ মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু করেছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে মসজিদের প্রায় অর্ধেক ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন মসজিদে জায়গার সংকুলান হচ্ছেনা। সে কারণে এ মসজিদ ভেঙ্গে ছয়তলা মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

এতো পুরনো হওয়া সত্ত্বেও এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হয়নি। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন ভাঙার কাজ শুরুর আগে তারা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন এ মসজিদটি তাদের তালিকায় রয়েছে কিনা। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চিঠি দিয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে, এ স্থাপনাটি তাদের তালিকায় নেই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃধা বলেন, “আমরা তো স্পেশালিষ্ট না। যারা স্পেশালিষ্ট তারা বলছে যে এটা পুরাকীর্তি না। তখন আমরা ভাঙছি।”

এ মসজিদটি ভেঙে নতুন বহুতল মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন আছে কি-না সেটি নিয়ে এলাকায় অনেকের মাঝে দ্বিমত আছে। কেউ মনে করেন যেহেতু জুম্মার নামাজ, তারাবীর নামাজ কিংবা অন্য কোন বিশেষ দিনে মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা হয়না সেজন্য এটি ভেঙে নতুন মসজিদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে কেউ-কেউ মনে করে, পুরনো কাঠামো অক্ষত রেখে মসজিদটিকে কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সেদিকে নজর দেয়া উচিত ছিল।

শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ভাঙ্গার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এখনো পর্যন্ত যতটুকু অক্ষত আছে সেটিকে বাঁচিয়ে কিভাবে মসজিদটিকে সম্প্রসারণ করা যায় সে সুপারিশ করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কিন্তু ততক্ষণে ২৭১ বছরের পুরনো এ মসজিদটির প্রায় অর্ধেক ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে।