ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

ট্রাম্পকে আইএস নির্মূলের কৌশলপত্র দিলো পেন্টাগন


জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’কে মোকাবিলার একটা খসড়া কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউসের কাছে এ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণীত কৌশলপত্রে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সিরিয়া এবং ইরাকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল আইএস-মুক্ত করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা দফতরের একজন মুখপাত্র জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস এ বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ব্রিফ করবেন বলে প্রত্যাশা ছিল।

পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার কাঠামো। শুধু ইরাক এবং সিরিয়া নয়; বরং এতে দুনিয়াজুড়ে ইসলামিক স্টেটের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

জেফ ডেভিস বলেন, এই পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করার অভিপ্রায়ে। এর মধ্য দিয়ে দ্রুত জঙ্গিগোষ্ঠীটিকে পরাস্ত করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস গ্রাফিক্সসহ প্রাথমিকভাবে প্রণীত পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ক্যাবিনেট লেভেল প্রিন্সিপালস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, মৌলবাদী ইসলামী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে পরাজিত করা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির প্রধান লক্ষ্য। ইরাক ও সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আইএসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওবামা প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত এসেছে ট্রাম্প শিবির থেকে। এর মধ্যে অন্য দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার মতো বিষয়ও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই আইএসবিরোধী লড়াইয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার খবর এলো।

বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন টাউনসেন্ড। এই কমান্ডার জানান, তার বিশ্বাস আগামী ছয় মাসের মধ্যেই মার্কিন সমর্থিত বাহিনীগুলো আইএসের দুই শক্ত ঘাঁটি দখলে সক্ষম হবে। এ দুই ঘাঁটি হচ্ছে ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ার রাকা। তবে ইরাকের সরকারি বাহিনীর ধারণা জঙ্গিদের হাত থেকে মসুল শহরকে উদ্ধারে ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী কুর্দিশ পপুলার প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি)-কে অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ ব্যাপারে ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ তুরস্কের দিক থেকে জোরালো আপত্তি রয়েছে। ওয়াইপিজি’কে আইএসের মতোই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে আঙ্কারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আইএসবিরোধী সামরিক পর্যালোচনায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনেরও অংশগ্রহণ থাকছে। সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছে ট্রেজারি দফতর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ইরাক ও সিরিয়ায় বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর ছয় হাজারের চেয়ে কিছু কমসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেন্টাগনের উচিত বাড়তি ফোর্স মোতায়েনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানানো। এটা এসব দেশে মার্কিন বাহিনীকে আরও জোরালো লড়াইয়ে সাহায্য করবে। পেন্টাগনের উচিত বিমান হামলার মতো স্বল্প মাত্রার অপারেশনের ওপর জোর দেওয়া। রণক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনাবাহিনীও আরও অধিক ক্ষমতা চাইতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

ট্রাম্পকে আইএস নির্মূলের কৌশলপত্র দিলো পেন্টাগন

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’কে মোকাবিলার একটা খসড়া কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউসের কাছে এ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণীত কৌশলপত্রে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সিরিয়া এবং ইরাকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল আইএস-মুক্ত করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা দফতরের একজন মুখপাত্র জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস এ বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ব্রিফ করবেন বলে প্রত্যাশা ছিল।

পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার কাঠামো। শুধু ইরাক এবং সিরিয়া নয়; বরং এতে দুনিয়াজুড়ে ইসলামিক স্টেটের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

জেফ ডেভিস বলেন, এই পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করার অভিপ্রায়ে। এর মধ্য দিয়ে দ্রুত জঙ্গিগোষ্ঠীটিকে পরাস্ত করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস গ্রাফিক্সসহ প্রাথমিকভাবে প্রণীত পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ক্যাবিনেট লেভেল প্রিন্সিপালস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, মৌলবাদী ইসলামী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে পরাজিত করা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির প্রধান লক্ষ্য। ইরাক ও সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আইএসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওবামা প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত এসেছে ট্রাম্প শিবির থেকে। এর মধ্যে অন্য দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার মতো বিষয়ও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই আইএসবিরোধী লড়াইয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার খবর এলো।

বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন টাউনসেন্ড। এই কমান্ডার জানান, তার বিশ্বাস আগামী ছয় মাসের মধ্যেই মার্কিন সমর্থিত বাহিনীগুলো আইএসের দুই শক্ত ঘাঁটি দখলে সক্ষম হবে। এ দুই ঘাঁটি হচ্ছে ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ার রাকা। তবে ইরাকের সরকারি বাহিনীর ধারণা জঙ্গিদের হাত থেকে মসুল শহরকে উদ্ধারে ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী কুর্দিশ পপুলার প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি)-কে অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ ব্যাপারে ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ তুরস্কের দিক থেকে জোরালো আপত্তি রয়েছে। ওয়াইপিজি’কে আইএসের মতোই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে আঙ্কারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আইএসবিরোধী সামরিক পর্যালোচনায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনেরও অংশগ্রহণ থাকছে। সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছে ট্রেজারি দফতর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ইরাক ও সিরিয়ায় বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর ছয় হাজারের চেয়ে কিছু কমসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেন্টাগনের উচিত বাড়তি ফোর্স মোতায়েনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানানো। এটা এসব দেশে মার্কিন বাহিনীকে আরও জোরালো লড়াইয়ে সাহায্য করবে। পেন্টাগনের উচিত বিমান হামলার মতো স্বল্প মাত্রার অপারেশনের ওপর জোর দেওয়া। রণক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনাবাহিনীও আরও অধিক ক্ষমতা চাইতে পারে।