ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

চট্টগ্রামে জোর তদবিরে ব্যস্ত যুবদল

ইসমত মর্জিদা ইতি, চট্টগ্রাম।। গত ছয় বছরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাসে নিজেদের হতাশা, ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা বলে এসেছেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করার পর তারাই এখন নিজেদের পদ পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে। এতোদিন দলে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় থাকলেও নতুন কমিটি ঘোষণার পর নতুন করে দলের কর্মকাণ্ডে তারা নিজেদের জড়াচ্ছেন। যুবদলের নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুবদল।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন ।

গত সোমবার (১৬ জানুয়ারি ) রাতে গুলশান কার্যালয় থেকে এক বার্তায় এ সংবাদ জানানো হয় । এই পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে বলে জানা যায়। সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করে যুবদল। গত বুধবার মহানগর যুবদলের উদ্যোগে এ আনন্দ মিছিল নগরীর কাজির দেউরীর মোড় থেকে শুরু হয়ে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মহানগর বিএনপি নেতা মনজুর আলম মনজু, নগর যুবদলের সহ-সভাপতি ইসমাইল বাবুল, নুর আহম্মদ গুড্ডু, যুবদল নেতা আজমুল হুদা রিংক, শাহেদ আকবর, হাবিবুর প্রমুখ।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের অনেক নেতা-কর্মী ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকায় গিয়েছিলেন।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর কাজী বেলাল উদ্দিনকে সভাপতি আর মোশারফ হোসেন দীপ্তিকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুবদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গত ছয় বছরেও এ কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অবশ্য ঘোষণার নয় ঘণ্টা পর ওই কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় যুবদল। কারণ তখন নতুন কমিটিতে পছন্দের ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ না পাওয়ায় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ঘোষিত কমিটি স্থগিতের আবেদন জানান। পরে খালেদা জিয়ার নির্দেশে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জম হোসেন আলাল কমিটি স্থগিত করেন। দলের এই কঠিন সময়েও নিজেদের বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে তাদের।

কমিটি স্থগিত হওয়ার কারণ হিসেবে এরা জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আপত্তি, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতা কমিটিতে স্থান দেওয়ার বিনিময়ে কয়েকজন যুবদল নেতার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন আরো জানা যায়, নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি কাজী বেলাল ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দীপ্তিসহ ১১ সদস্যের বেশিরভাগ নেতাকে নিয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র বিএনপি নেতাদের আপত্তি ছিলো। এর নেপথ্যে রয়েছে শীর্ষ নেতাদের অন্তর্কোন্দল। দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে সরাসরি অথবা টেলিফোনে যুবদলের কমিটি নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। তিন নেতা একসঙ্গে আপত্তি তোলায় কমিটি বাতিলের নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। তারপরই কমিটি বাতিল করা হয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান তখন জানিয়েছিলেন, ‘নগর যুবদলের কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের অনেককে আমি চিনিই না। তা ছাড়া কমিটি গঠন ও ঘোষণার আগে যুবদলের কেউ আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেননি।’

একই মন্তব্য করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মনীতি মানা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর যুবদলের একাধিক নেতা কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন হয় বলে অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, কমিটির সভাপতি কাজী বেলাল, সহ-সভাপতি শামসুল হক, কামাল পাশা নিজামী, নুর আহমেদ গুড্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন আমীর খসরুপন্থি। সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মোশারফ হোসেন দীপ্তি এক সময় আমীর খসরুর সঙ্গে থাকলেও কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তিনি চলে গেছেন ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। এ ছাড়াও শাহাদাত সমর্থকদের মধ্যে সহসভাপতি ইসমাইল বাবুল, শাহজাহান কবির শাহীন ও মহসিনের নাম রয়েছে। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী লিটনই একমাত্র নোমানপন্থি। মীর নাছিরের সমর্থক প্রথম যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহেদ।

তবে এখন শোনা যাচ্ছে, মোশারফ হোসেন দীপ্তি সাধারণ সম্পাদক ছেড়ে নগর যুবদলের সভাপতি হতে চান। আর তার পদে আসতে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল হকও। কাজী বেলালকে মাইনাস করার ফর্মূলায় কোনো কোনো নেতা রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তদবিরে ব্যস্ত আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মোহাম্মদ শাহেদ এবং নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাঈনুদ্দিন মো. শহীদ।
নগর যুবদলের নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ দৌড়ঝাঁপ করছেন নগর ছাত্রদলের দুই নেতা গাজী সিরাজ ও মাঈনুদ্দিন শহীদ। গাজী সিরাজও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্য বিএনপি নেতাদের কাছে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ছয় বছর ধরে কমিটি গঠন না করায় যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বেছে নেন। তাদের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে প্রকাশ পায় দল নিয়ে নানা রকম কথা। দলের জন্য কে কী করেছেন তা লিখেছেন তাদের স্ট্যাটাসে।

মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, আশা খুব শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতোদিন যারা ফেসবুকে দলীয় কিংবা নিজেদের আলোচনায় হতাশার কথা এনেছেন, তাদের তা দূর হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। তবে যুবদল সংগঠিত না হলে বিএপির কাঠামোও সংগঠিত হবে না বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম

চট্টগ্রামে জোর তদবিরে ব্যস্ত যুবদল

আপডেট সময় : ০৭:০০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭

ইসমত মর্জিদা ইতি, চট্টগ্রাম।। গত ছয় বছরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাসে নিজেদের হতাশা, ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা বলে এসেছেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করার পর তারাই এখন নিজেদের পদ পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে। এতোদিন দলে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় থাকলেও নতুন কমিটি ঘোষণার পর নতুন করে দলের কর্মকাণ্ডে তারা নিজেদের জড়াচ্ছেন। যুবদলের নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুবদল।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন ।

গত সোমবার (১৬ জানুয়ারি ) রাতে গুলশান কার্যালয় থেকে এক বার্তায় এ সংবাদ জানানো হয় । এই পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে বলে জানা যায়। সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ করে যুবদল। গত বুধবার মহানগর যুবদলের উদ্যোগে এ আনন্দ মিছিল নগরীর কাজির দেউরীর মোড় থেকে শুরু হয়ে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মহানগর বিএনপি নেতা মনজুর আলম মনজু, নগর যুবদলের সহ-সভাপতি ইসমাইল বাবুল, নুর আহম্মদ গুড্ডু, যুবদল নেতা আজমুল হুদা রিংক, শাহেদ আকবর, হাবিবুর প্রমুখ।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের অনেক নেতা-কর্মী ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকায় গিয়েছিলেন।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর কাজী বেলাল উদ্দিনকে সভাপতি আর মোশারফ হোসেন দীপ্তিকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুবদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গত ছয় বছরেও এ কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অবশ্য ঘোষণার নয় ঘণ্টা পর ওই কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় যুবদল। কারণ তখন নতুন কমিটিতে পছন্দের ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ না পাওয়ায় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ঘোষিত কমিটি স্থগিতের আবেদন জানান। পরে খালেদা জিয়ার নির্দেশে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জম হোসেন আলাল কমিটি স্থগিত করেন। দলের এই কঠিন সময়েও নিজেদের বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে তাদের।

কমিটি স্থগিত হওয়ার কারণ হিসেবে এরা জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আপত্তি, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতা কমিটিতে স্থান দেওয়ার বিনিময়ে কয়েকজন যুবদল নেতার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন আরো জানা যায়, নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি কাজী বেলাল ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দীপ্তিসহ ১১ সদস্যের বেশিরভাগ নেতাকে নিয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র বিএনপি নেতাদের আপত্তি ছিলো। এর নেপথ্যে রয়েছে শীর্ষ নেতাদের অন্তর্কোন্দল। দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে সরাসরি অথবা টেলিফোনে যুবদলের কমিটি নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। তিন নেতা একসঙ্গে আপত্তি তোলায় কমিটি বাতিলের নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। তারপরই কমিটি বাতিল করা হয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান তখন জানিয়েছিলেন, ‘নগর যুবদলের কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের অনেককে আমি চিনিই না। তা ছাড়া কমিটি গঠন ও ঘোষণার আগে যুবদলের কেউ আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেননি।’

একই মন্তব্য করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মনীতি মানা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর যুবদলের একাধিক নেতা কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন হয় বলে অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, কমিটির সভাপতি কাজী বেলাল, সহ-সভাপতি শামসুল হক, কামাল পাশা নিজামী, নুর আহমেদ গুড্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন আমীর খসরুপন্থি। সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মোশারফ হোসেন দীপ্তি এক সময় আমীর খসরুর সঙ্গে থাকলেও কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তিনি চলে গেছেন ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। এ ছাড়াও শাহাদাত সমর্থকদের মধ্যে সহসভাপতি ইসমাইল বাবুল, শাহজাহান কবির শাহীন ও মহসিনের নাম রয়েছে। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী লিটনই একমাত্র নোমানপন্থি। মীর নাছিরের সমর্থক প্রথম যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহেদ।

তবে এখন শোনা যাচ্ছে, মোশারফ হোসেন দীপ্তি সাধারণ সম্পাদক ছেড়ে নগর যুবদলের সভাপতি হতে চান। আর তার পদে আসতে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল হকও। কাজী বেলালকে মাইনাস করার ফর্মূলায় কোনো কোনো নেতা রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তদবিরে ব্যস্ত আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মোহাম্মদ শাহেদ এবং নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাঈনুদ্দিন মো. শহীদ।
নগর যুবদলের নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ দৌড়ঝাঁপ করছেন নগর ছাত্রদলের দুই নেতা গাজী সিরাজ ও মাঈনুদ্দিন শহীদ। গাজী সিরাজও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্য বিএনপি নেতাদের কাছে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ছয় বছর ধরে কমিটি গঠন না করায় যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বেছে নেন। তাদের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে প্রকাশ পায় দল নিয়ে নানা রকম কথা। দলের জন্য কে কী করেছেন তা লিখেছেন তাদের স্ট্যাটাসে।

মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, আশা খুব শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতোদিন যারা ফেসবুকে দলীয় কিংবা নিজেদের আলোচনায় হতাশার কথা এনেছেন, তাদের তা দূর হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। তবে যুবদল সংগঠিত না হলে বিএপির কাঠামোও সংগঠিত হবে না বলে জানান তিনি।