ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

এরশাদের সামনেই ‘অপমানিত’ রওশন


জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামনে দলের নেতাকর্মীরা অপমান করেছেন বিরোধী দলীয় নেতৃত্বে ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে।

রাজধানী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা কমিটি ও উপজেলা কমিটির যৌথ সভায় রওশন এরশাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্র সমাজ ও যুব সংহতির নেতাকর্মীরা ‘হই হই হই’ উচ্চশব্দ করে রওশন এরশাদের বক্তব্য থামিয়ে দেয়।

সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হওয়া যৌথ সভায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বক্তব্য রাখেন। সে সময় রওশন এরশাদ সভা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর দুপুর ১টার দিকে রওশন এরশাদ সভায় যোগ দেন এবং এরশাদের পাশের চেয়ারে বসেন।

পরবর্তীতে রওশন এরশাদ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে রংপুরের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, কেন প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হলো। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অটল থাকতে হবে। তা না হলে পার্টিতে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে।

এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সমস্যা আছে কেউ তা শুনতে চায় না’। এমন কথা উচ্চারণ করার সাথে সাথে হল রুমের মধ্যে উচ্চস্বরে হই হই হই করে ওঠেন ছাত্র সমাজ ও যুব সংহতির নেতাকর্মীরা।

অল্প সময় নিজের বক্তব্য বন্ধ রাখেন রওশন এরশাদ। এ সময় মঞ্চ থেকে অনেকেই হাত দিয়ে ইশারা করে সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

এর কিছু সময় পরেই রওশন এরশাদ বলেন, ‘যুব সংহতি ও ছাত্র সমাজের কি সমস্যা। আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে বলেন। আমার বাসায় আসেন, সংসদে আমার সাথে দেখা করেন। এভাবে আচরণ করলে দলের ক্ষতি হবে। আপনারা আগামী দিনে এই পার্টির নেতৃত্ব দিবেন, আমাদের সময় শেষ। এভাবে করবেন না। শান্ত হন আপনারা। যে ধরনের সমস্যা আছে আমাকে জানান। আমি সবার কথা শুনব।’

এ সময় দলের নেতাকর্মীদের শান্ত করার জন্য রওশন এরশাদ কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন কর্মীদের উদ্দেশ্যে।

রওশন এরশাদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৪টি জাতীয় নির্বাচনের ৩টি আমি একা দায়িত্ব নিয়ে করেছি। তোমাদের স্যার সে সময় জেলে ছিলেন। অনেক হামলা, ককটেলের সম্মুখীন আমি হয়েছি। এসব ইতিহাস তোমাদের জানতে হবে। উত্তেজিত হবে না। আমার সাথে কথা বলো। তোমাদের সমস্যার সমাধান করব।’

এর আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমাদের কোন বন্ধু নেই। আমরাই আমাদের বন্ধু। নিজেদের শক্তিশালী করুন। দুর্বলের কাছে কেউ আসে না।

তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু দেখতে চাই জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন দলটির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টোপা, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম

এরশাদের সামনেই ‘অপমানিত’ রওশন

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামনে দলের নেতাকর্মীরা অপমান করেছেন বিরোধী দলীয় নেতৃত্বে ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে।

রাজধানী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা কমিটি ও উপজেলা কমিটির যৌথ সভায় রওশন এরশাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্র সমাজ ও যুব সংহতির নেতাকর্মীরা ‘হই হই হই’ উচ্চশব্দ করে রওশন এরশাদের বক্তব্য থামিয়ে দেয়।

সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হওয়া যৌথ সভায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বক্তব্য রাখেন। সে সময় রওশন এরশাদ সভা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর দুপুর ১টার দিকে রওশন এরশাদ সভায় যোগ দেন এবং এরশাদের পাশের চেয়ারে বসেন।

পরবর্তীতে রওশন এরশাদ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে রংপুরের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, কেন প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হলো। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অটল থাকতে হবে। তা না হলে পার্টিতে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে।

এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সমস্যা আছে কেউ তা শুনতে চায় না’। এমন কথা উচ্চারণ করার সাথে সাথে হল রুমের মধ্যে উচ্চস্বরে হই হই হই করে ওঠেন ছাত্র সমাজ ও যুব সংহতির নেতাকর্মীরা।

অল্প সময় নিজের বক্তব্য বন্ধ রাখেন রওশন এরশাদ। এ সময় মঞ্চ থেকে অনেকেই হাত দিয়ে ইশারা করে সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

এর কিছু সময় পরেই রওশন এরশাদ বলেন, ‘যুব সংহতি ও ছাত্র সমাজের কি সমস্যা। আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে বলেন। আমার বাসায় আসেন, সংসদে আমার সাথে দেখা করেন। এভাবে আচরণ করলে দলের ক্ষতি হবে। আপনারা আগামী দিনে এই পার্টির নেতৃত্ব দিবেন, আমাদের সময় শেষ। এভাবে করবেন না। শান্ত হন আপনারা। যে ধরনের সমস্যা আছে আমাকে জানান। আমি সবার কথা শুনব।’

এ সময় দলের নেতাকর্মীদের শান্ত করার জন্য রওশন এরশাদ কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন কর্মীদের উদ্দেশ্যে।

রওশন এরশাদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৪টি জাতীয় নির্বাচনের ৩টি আমি একা দায়িত্ব নিয়ে করেছি। তোমাদের স্যার সে সময় জেলে ছিলেন। অনেক হামলা, ককটেলের সম্মুখীন আমি হয়েছি। এসব ইতিহাস তোমাদের জানতে হবে। উত্তেজিত হবে না। আমার সাথে কথা বলো। তোমাদের সমস্যার সমাধান করব।’

এর আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমাদের কোন বন্ধু নেই। আমরাই আমাদের বন্ধু। নিজেদের শক্তিশালী করুন। দুর্বলের কাছে কেউ আসে না।

তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু দেখতে চাই জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন দলটির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টোপা, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।