
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না সিলেট জেলা ছাত্রলীগের। একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে সিলেটে বার বার আলোচনায় আসছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ এই ইউনিটটি। শনিবার নগরীর ঝর্নারপাড় এলাকায় ফেন্সিডিলসহ আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর ‘হামলা’র ঘটনা ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ৪ পদধারী নেতাসহ ১১ জন পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় বছরের শুরুতেই ফের বিতর্কে জড়িয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।
বিতর্কে শুধু বর্তমান কমিটিই নয়। জেলা ছাত্রলীগের গত কমিটিগুলো নিয়েও সিলেটজুড়ে ছিল নানা আলোচনা। সিলেট এমসি কলেজে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি, মোটরসাইকেল ভাঙচুর, অস্ত্রের মহড়া, এর আগের মাসে এমসি কলেজের উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদফতরের সহকারি প্রকৌশলী নজরুল হাকিমকে প্রকাশ্যে হুমকি এবং বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
পংকজ পুরকায়স্থের বহিষ্কারের পর হিরণ মাহমুদ নিপুকে দেয়া হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ। কিন্তু যেই-সেই! নিপুর আমলে শনির দশা কাটাতে পারেনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিপিবি-বাসদের সমাবেশে বিনা কারণে হামলা, ভাঙচুর এবং সেই হামলায় সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আহত হওয়ার ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করে চরম ক্ষুব্দ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পুরো মেয়াদে কমিটিতে থাকা নিপুর ভাগ্যেও জুটেনি।
পংকজের পর গেলেন নিপুও। কিন্তু রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগ!
ওই দুজনের পর ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আসেন শাহরিয়ার আলম সামাদ ও রায়হান চৌধুরী পরে গতবছর ৪ ডিসেম্বর সেই কমিটি পূর্ণতা পায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার ৪ মাস পূর্ণ না হতেই কমিটি স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেননা পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের পরপরই দুপক্ষে ভাগ হয়ে যায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। সংঘর্ষ আর গঠনতন্ত্র বিরোধী নানা কর্মকান্ডের কারণে একাধিকবার কেন্দ্রের আরোপিত শাস্তি মাথা পেতে নিতে হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের।
এদের মধ্যে- সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি বিতর্কিত ছাত্রনেতা আলী হোসেননগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি বাসা দখল করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। এর আগে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের কারণে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন সিলেটের আরো দশ নেতা। এরপর কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে নির্মমভাবে কুপীয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলম। তবে সরাসরি তাকে ছাত্রলীগ বহিষ্কার না করলেও চাকুরীতে যোগ দেওয়ায় গঠনতান্ত্রিকভাবেই তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর কিছুদিন আগে গত আগস্ট মাসে সিলেটের জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মামুনকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুনের ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত হয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সুলেমান হোসেন চৌধুরী।
এসব ঘটনায় ২০১৬ সালে সারাবছর জুড়েই সিলেটে বিতর্কিত অবস্থানে ছিল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। আর ২০১৭ সালের শুরুতেই এমন ন্যক্কারজনক কর্মকান্ডে জেলা ছাত্রলীগের পদধারী নেতাদের জড়িত থাকার ঘটনায় আবারো বিতর্কে উঠে এসেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।
সংবাদ শিরোনাম ::
একের পর এক ঘটনার জন্ম দিয়ে আলোচনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগ!
-
প্রতিনিধির নাম - আপডেট সময় : ০২:১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৭
- 763
ট্যাগস :





