ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

আইএসে ভাঙন

আইএসে ভাঙন

পরাজয়, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা, শরিয়া আইনের নানামুখী চাপ ইত্যাদি কারণে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মধ্যে ভাঙন ধরেছে। ধর্মীয় চেতনায় অমিলের কারণে এরই মধ্যে অনেক সদস্য আইএস ত্যাগও করেছেন।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে আইএস সদস্যরা পরাজয় মেনে নেওয়ার চাপের মধ্যে রয়েছেন। সেই সঙ্গে অ্যালকোহল, সিগারেটের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ শরিয়া আইনের বিভিন্ন মতবাদ সংক্রান্ত চাপের মুখে ক্লান্ত হয়ে এরই মধ্যে অনেক সদস্য আইএস ত্যাগ করেছেন। আর এসব বিষয় আইএসের মধ্যে গভীর বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন জানায়, ইরাকের মসুল শহরের আসন্ন পতনের বিষয়টিই বেশির ভাগ আইএস সদস্যকে প্রভাবিত করেছে। তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁরা তাদের শক্তি হারাচ্ছেন। তাঁরা ইরাকে অবস্থান করতে পারবেন না। কারণ তাঁরা স্থানীয়দের মধ্যে স্বতন্ত্র এবং সেই ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আর তাঁদের জন্য শরণার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়াটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএস সদস্যরা বুঝতে পারছেন যে তাঁরা সম্ভবত মারাই যাবেন এবং তা শিগগিরই। কিছু বিদেশি যোদ্ধা এই কঠিন বাস্তবতার বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা মারা গেলে শহীদ হবেন অথবা ধর্মীয় আদেশ পরিপূর্ণ করে মারা গেছেন, তাঁদের একজন হবেন।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন আরো জানায়, রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় ধর্মতাত্ত্বিক বইয়ে আইএস সম্পর্কে বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জিহাদ বইয়ের কথা। যার শিক্ষা হলো ‘তুমি যদি জিহাদ করতে গিয়ে মারা যাও তাহলে তোমার সমস্ত পাপ মাফ হয়ে যাবে।’ কিন্তু গোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা যখন যুদ্ধের চাপ হালকা করার জন্য মদপান ও ধূমপান করেন, তখন তাঁদের সঙ্গে সদস্যদের ধর্মীয় চেতনার বিরোধ দেখা দেয়।

মসুলের অনেক নাগরিক বলেছেন, স্বঘোষিত খলিফাগিরি করা আইএসের কিছু সদস্যকে তারা ফুটপাতে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরাকি সেনাবাহিনী বলছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন আইএসে ক্যাম্পে তারা হুইসকি ও বিয়ারের খালি বোতলের সংখ্যা বেড়েছে। মসুলে আইএসের ছেড়ে যাওয়া একটি নিরাপদ বাড়িতে সেনাবাহিনী হোয়াইট হর্স হুইসকি, স্কটিশ ব্র্যান্ডের একটি বোতল পাওয়া গেছে, যা ইরাকে কিনতে গেলে প্রায় ৪৪ ডলার খরচ হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

আইএসে ভাঙন

আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আইএসে ভাঙন

পরাজয়, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা, শরিয়া আইনের নানামুখী চাপ ইত্যাদি কারণে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মধ্যে ভাঙন ধরেছে। ধর্মীয় চেতনায় অমিলের কারণে এরই মধ্যে অনেক সদস্য আইএস ত্যাগও করেছেন।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে আইএস সদস্যরা পরাজয় মেনে নেওয়ার চাপের মধ্যে রয়েছেন। সেই সঙ্গে অ্যালকোহল, সিগারেটের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ শরিয়া আইনের বিভিন্ন মতবাদ সংক্রান্ত চাপের মুখে ক্লান্ত হয়ে এরই মধ্যে অনেক সদস্য আইএস ত্যাগ করেছেন। আর এসব বিষয় আইএসের মধ্যে গভীর বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন জানায়, ইরাকের মসুল শহরের আসন্ন পতনের বিষয়টিই বেশির ভাগ আইএস সদস্যকে প্রভাবিত করেছে। তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁরা তাদের শক্তি হারাচ্ছেন। তাঁরা ইরাকে অবস্থান করতে পারবেন না। কারণ তাঁরা স্থানীয়দের মধ্যে স্বতন্ত্র এবং সেই ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আর তাঁদের জন্য শরণার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়াটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএস সদস্যরা বুঝতে পারছেন যে তাঁরা সম্ভবত মারাই যাবেন এবং তা শিগগিরই। কিছু বিদেশি যোদ্ধা এই কঠিন বাস্তবতার বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা মারা গেলে শহীদ হবেন অথবা ধর্মীয় আদেশ পরিপূর্ণ করে মারা গেছেন, তাঁদের একজন হবেন।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন আরো জানায়, রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় ধর্মতাত্ত্বিক বইয়ে আইএস সম্পর্কে বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জিহাদ বইয়ের কথা। যার শিক্ষা হলো ‘তুমি যদি জিহাদ করতে গিয়ে মারা যাও তাহলে তোমার সমস্ত পাপ মাফ হয়ে যাবে।’ কিন্তু গোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা যখন যুদ্ধের চাপ হালকা করার জন্য মদপান ও ধূমপান করেন, তখন তাঁদের সঙ্গে সদস্যদের ধর্মীয় চেতনার বিরোধ দেখা দেয়।

মসুলের অনেক নাগরিক বলেছেন, স্বঘোষিত খলিফাগিরি করা আইএসের কিছু সদস্যকে তারা ফুটপাতে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরাকি সেনাবাহিনী বলছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন আইএসে ক্যাম্পে তারা হুইসকি ও বিয়ারের খালি বোতলের সংখ্যা বেড়েছে। মসুলে আইএসের ছেড়ে যাওয়া একটি নিরাপদ বাড়িতে সেনাবাহিনী হোয়াইট হর্স হুইসকি, স্কটিশ ব্র্যান্ডের একটি বোতল পাওয়া গেছে, যা ইরাকে কিনতে গেলে প্রায় ৪৪ ডলার খরচ হবে।