
অনেক অপরাধের বিচার হলেও রাষ্টীয় সন্ত্রাসের বিচার হয়না। কেন হয়না তার জবাবও কেউ দিতে পারেনা। একটি দল ক্ষমতায় থাকলে সে দল যাই করে ন্যায় অন্যায় কোনো কিছুরই ধার ধারেনা। একজন রাজনীতিবীদ একজন এমপি একজন মন্ত্রী একজন আমলা একজন সাংবাদিক যে অপরাধই করেনা কেন তার বিচার হওয়া উচিৎ, কিন্তু বিচার তো দুরে থাক মিনিমাম তদন্ত ও যদি হয তাহলে দেখা য়ায় দায়সারা গোচের একটি তদন্ত কমিটি হয়, সেখানে রিপোর্ট দেয়, রিপোর্টে তিনি বেকসুর খালাস! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমলারা রাজনীতিবীদরা একাউন্টেবল থাকলেও বাংলাদেশে সে সিষ্টেম নেই। লন্ডনের মত জায়গায় পুলিশ বাহীনী কিন্তু সরাসরি একাউন্টেবল না। পুলিশ কোনো অপরাধ করলে পুলিশ কে কোনো ইন্ডিপেন্ডেড বডি তদন্ত করতে পারেনা। পুলিশের মধ্যে খেকে তাদের ইনভিষ্টিগেশন করা হয়, অনেক সময় পুলিশ বেচে যায়। কিছুদিন আগে পূর্ব লন্ডনে এক বৃটিশ বাংলাদেশী যুবককে পুলিশ নির্যাতন করেছিল, ফেইস বুকে পুলিশের নির্যাতনের চিত্র ভেসে উঠেছিল, পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যমলেটসের মেয়র থেকে শুরু করে সবাই এর নিন্দা জানালেও সেই পুলিশের বিচার কতটুকু হয়েছিল তা আমরা এখনো জানিনা। বিবিসি এ নিয়ে নিউজ করেছিল, মেইনষ্ট্রীম মিডিয়া থেকে শুরু করে কমিউনিটি টিভি চ্যানেল কেউ বাদ যায়নি নিজউ থেকে, কিন্তু পুলিশ সাহেবের কি হয়েছে তা হয়তো আমরা কোনোদিন জানবনা। তেমনিভাবে বিডিআর এর পিলখানার ঘটনার কি হবে আমরা কোনো দিনই জানবনা। জানবনা টনি ব্লেয়ারের সময় অপেন অব মাস ডিস্ট্রিকাশন নেই বলে যে বিজ্ঞানী মতামত দিয়েছিলেন সেই ডেভিড কেলীকে দিনে দুপুরে হত্য করার পর কি হলো কে মারল তার কোনো কিছুই প্রকাশিত হলনা। ডেভিড কেলীকে হত্যা করার পর বিবিসি ঘন্টাখানেক লাইভ দেখানোর পর সে লাইভ বন্ধ হয়ে-গিয়েছিল, আর সে চিত্র আমরা দেখতে পারলামনা। নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারের ঘটনা আজো অজানা। কেন এসব হলো কে ঘটালো কেনইবা ঘটালো তার কোনো সন্তুষজনক কোনো-কিছুই সাধারন মানুষ জানেনা। সাংবাদিকরা মাঝে মধ্যে জানার চেষ্টা করলেও একটি জায়গায় গিয়ে তাদেরকে আঠকে দেয়া হয়। সাংবাদিক বেশী বাড়াবাড়ি করলে বাংলাদেশে তার চাকরী চলে যায়, তিনি চাকুরীচ্যুত হন। অথবা দেখা যায় সাংবাদিক সাহেব গুম হয়ে গেছেন। তার কোনো হদিস খোজে পাওয়া যাচ্ছেনা। যেমনিভাবে সাগর রুনির বিচারের কোনো আলামত আমরা আজো ও দেখছিনা, তৎকালীন স্বররাষ্টমন্ত্রী সাহারা খাতুন যদিও বলেছিলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে। সেই সাহারা খাতুনের কথা কথাই থেকে গেল, তিনি মন্ত্রীত্ব হারালেন, তারপর গংঙ্গার পানি বঙ্গপোসাগর হয়ে আটলান্টীকে আসলে ও সাগর রুনির হত্যাকান্ডের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেল। সাগর রুনিকে পুজি করে একজন চৌধুরী সাহেব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন টেলিভিশন করলেন, তাতে দোষ হয়না। আমরা দোষ দেখিনা। সাগর রুনির ছোট ছেলেটি একদিন বড় হবে বড় হয়ে জানবে যে তৎকালীন স্বররাষ্টমন্ত্রী যা বলেছিলেন তা বান্তবায়ীত হয়নি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বেড রুম পাহারা দেয়া কি সরকারের দায়িত্ব। আমরা সাগর রুনির বিচার কার কাছে চাইবো? আমি অনেককেই জিজ্ঞাস করেছি কিন্তু উত্তর পাইনি। ইদানিং আরো একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় কারো ব্যাপারে কিছু বললে তিনি বিগড়ে যান। তিনি অন্যায় করবেন অন্যায় করে তিনি পার পেয়ে যেতে চান, এটা কোন ধরনের কালচার? এ পর্যন্ত যা উঠে এসেছে রাষ্টীয় সন্ত্রাসের ব্যাপারে তা বেশীদুর এগোয়নি! কেন এগোয়নি তার জবাব কে দেবে। ইদানিং বাংলাদেশে যা ঘটেছে তার সংক্ষিপ্ত চিত্র যদি আমি এখানে তুলে ধরি তাহলে কোনো কিছুরই জবাব পাবনা। শেয়ার মার্কেট, হল মার্ক, ডেষ্টেনী, বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভ চুরি, কুমিল্লায় তনু হত্য, রানা প্লাজার ঘটনা সহ যা ঘটেছে তার হিসাব থাকবে, কিস্তু জবাব থাকবেনা, জবাব কেউ দিবেনা। আপনি যদি বেশী কথা বলেন তাহলে সরকারের রক্তচুক্ষু আপনাকে দেখতে হবে। সংসদে নারায়নগন্জের সুর্য সন্তান বিগড়ে গিয়ে যেভাবে বক্তব্য রাখেন তা দেখে লজ্জাও লজ্জা পায়, শামীম ওসমান সাহেব পান কিনা আমরা জানিনা। বাংলাদেশ এবং বিদেশের মধ্যে পার্থক্য হলো, বিদেশে ঘন ঘন কোনো কিছুই ঘটেনা। কিন্তু বাংলাদেশে ঘন ঘন ঘটলেও কারো কোনো লজ্জা শরম নেই। কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদের সাহেব যে থাপ্পরটা একজন সাংসদকে মারলেন তা দেখে জাতী হতবাক হয়নি, লকেল আওয়ামীলীগ বলেছে তিনি আমাদের দলের মুরুব্বী তিনি থাপ্পর মারতেই পারেন, শাসন করতেই পারেন! আহা কি সুন্দর যুক্তি। ওবায়দুল কাদের সাহেব যে থাপ্পর মারলেন তাতে তিনি যদি লজ্জিত হতেন তাহেল তিনি পদত্যাগ করতেন। কিন্তু না তিনি দিব্যী কথা বলছেন বক্তৃতা করছেন, তার নাকি সুনামও আছে তিনি নাকি সৎ, এবং আদর্শবান একজন মানুষ, হতে পারেন তিনি সৎ আদর্শবান, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, কিন্তু তাই বলে তিনি বঙ্গবন্ধুর দলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে থাপ্পর মারবেন? বঙ্গবন্ধু যদি আজ জীবিত থাকতেন তাহলে তিনি কি বলতেন? তার মৃত আত্মা কি কষ্ট পেয়েছে? আমরা জানিনা, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কি করেছেন তাও আমারা জানিনা। প্রধানমন্ত্রী কি খুশী হয়েছেন? আরো যারা দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে অসীন তারা তো কেউ কিছু বললেননা, বলা কি উচিৎ ছিলনা। দলের সবাই বোধহয় খুশী হয়েছে লুকিয়ে লুকিয়ে সবাই হাসছে? হয়তো তারা বলেছেন ভালোই করেছে দিয়েছে একটা থাপ্পর! বাংলাদেশে কশে থাপ্পর মারা কোনো ব্যাপারইনা। রিক্সা চালককে গরীব লোককে সবাই মারে। বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে প্রায়ই থাপ্পরের ঘটনা দেখানো হয়, ওবায়দুল কাদের সাহেব কি কোনো নাটক থেকে শিক্ষা নিয়েছেন কে জানে? আরেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন নাম সৈয়দ আশরাফ, ভদ্র মানুষ হিসেবে তিনি স্বজ্জনদের কাছে পরিচিত, তবে তার আমলে কেউ থাপ্পর খায়নি, কিন্তু আমেরিকার একজন মন্ত্রীকে তিনি বলেছিলেন চার আনার মন্ত্রী, আর তৎকালীন আমেরিকার এম্বসেডারকে বলেছিলেন কাজের মেয়ে মজীনা। আমি অবাক হয়েছিলাম আশরাফ সাহেবের সেই সন্ত্রাসী মন্তেব্যে। তিনি কেন এসব মন্তব্য করতে গেলেন? তারও আগে নাজমুল হুদা সাহেব আমেরিকান এম্বেসেডার আর বৃটিশ হাইকমিশনারকে গালি দিয়েছিলেন বলেছিলেন তারা নাকি ষ্টুপিড এবং আওয়ামী সমর্থক! এসব মন্তব্য করার কি কোনো দরকার আছে? বা ছিল? তবে আশরাফ সাহেব অথবা নাজমুল হুদা সাহেবের সাথে কাদের সাহেবের পার্থক্য হলো তারা মন্তব্য করেছেন, কাদের সাহেব মেরেছেন!!! আমার আসলে এসব লিখার কি কোনো দরকার আছে? নেই! কেন লিখব কিসের জন্য লিখব? সাংবাদিকরা কি ধুয়া তুলসী পাতা? কলম সন্ত্রাসী বলা হয় তাদেরকে, কেউ বা চুঙ্গা সন্ত্রাসী! কেউ বা দালাল সাংবাদিক! বাংলাদেশে ডেইলী ষ্টারের সম্পাদক সাহেব তার সম্পাদক জীবনের বিগেষ্ট মিস্টেকের কথা স্বীকার করলেন, আমি ভাবলাম তিনি হয়তো বলবেন আজ থেকে আমি আর সাংবাদকিতা করবনা, কিন্তু তিনি তা বলেননি। তিনি ও তো দিব্যি সম্পাদকের চেয়ারে বসে আছেন? জাতীকে জ্ঞান দান করছেন! কাকে কি বলবেন? মাহমুদুর রহমান সাহেব ও তো ভুল নিউজ করেছিলেন তার পত্রিকায়, সাঈদী সাহেবকে চাদে দেখা যাচ্ছে বলে! তবে মাহমুদুর রহমান সাহেব যদি এ ভুলের কারনে শাস্তী পেয়ে থাকেন তাহলে তার শাস্তী অনেক হয়েছে! ঐ যে পূর্ব লন্ডনের সাবেক এমপি মরহুম পিঠার শোর যে কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, তিনি বলেছিলেন একটি জাতীর স্বাধীনতার মূল্য যদি রক্ত হয় তাহলে বাঙালী জাতি সেই রক্ত দিয়ে ফেলেছে। মাহমুদুর রহমান ভূল নিউজ করার কারনে যদি এত দিন জেলে থাকতে হয় তাহলে তো তিনি বেশী জেল খেটে ফেলেছেন।
প্রিয় পাঠক রাষ্টীয় সন্ত্রাসের কারনে সাফার করে জাতী, যারা সন্ত্রাস করেন তারা তো সাফার করেননা। আমরা সে সব থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যে কেউ যা ইচ্ছে তা করতে পারেনা। সে সাংবাদিক হোক, এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, অথবা তিনি ওবায়দুল কাদের, সৈয়দ আশরাফ নাজমুল হুদা,যে-ই হোন না কেন, বিচারের মুখোমুখি তাকে হতে হবে, শাস্তী তাকে পেতেই হবে! এ শাস্তীর রেওয়াজ কি চালু হবে? হওয়া তো উচিৎ, আর শাস্তী তো প্রয়োজন হয়না যদি নিজে নিজের ভূল বুঝতে পারে, এবং বলে ভাই আমি আমার কৃতকর্মের জন্য বিদায় নিচ্চি। আমি ভূল করব, থাপ্পর মারবো অন্যায় করব আবার জাতীকে জ্ঞান দান করবো? তা কি হওয়া উচিৎ?
রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী
এডিটরিয়াল প্রেসিডেন্ট
বাংলা ষ্টেইটসমেন্ট ডট কম
লন্ডন
৩ মার্চ ২০১৭
প্রতিনিধির নাম 




