ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

অভিমত : জনাব আসিফ নজরুলের প্রতি


জনাব আসিফ নজরুল, আপনি একজন সুদক্ষ ও প্রথিতযশা রাজনৈতিক বিশ্লেষক। আপনার যুক্তিনির্ভর, নিরপেক্ষ ও তথ্যবহুল আলোচনা রাখার জন্য রাজনৈতিক সচেতন মানুষ আপনার গুণগ্রাহী। অনেক দিন আপনাকে টিভির টকশোতে দেখি না। তাই এ খোলা চিঠি।
বাংলাদেশের ৪৬-৪৭ বছরের ইতিহাসে আমরা ১১টি নির্বাচন কমিশন পেয়েছি। কোনো কমিশনই সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। ২০০১ সালের সিইসি আবু সাঈদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে তার এক ঐতিহাসিক উক্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গোপালগঞ্জের মানুষ হওয়ার জন্য একটা দলের ধারণা ছিল, তিনি হয়তো নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারবেন না। তিনি সাংবাদিকদের এমনই একটা প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি নিরপেক্ষ লোক নই। তবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব।’ আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাÑ যশোর জেলার শার্শা থানার কায়বা ইউনিয়নের একজন চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের ভোট সেন্টারগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ থাকায়, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু সাঈদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। সিইসি তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা হোক, এই ১১টি কমিশনের মধ্যে বিগত রকীব কমিশন সচেয়ে ‘অযোগ্য, অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন’ খেতাব নিয়ে বিদায় নেয়। সাংবাদিক তথা দেশবাসীর উদ্দেশে কাজী রকীবউদ্দিন বলেন যে, তার কমিশন অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছে। বিনাভোটে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা পলিটিক্যাল গেম। তার এ বক্তব্যের পরপরই দেশের বিশিষ্টজনেরা তার দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে এটাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। রকীব কমিশনের আমলে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিনাভোটেই ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে ১৩৫ জনের প্রাণহানি। এ অবস্থায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং এ কমিশনকে সবাই ধিক্কার দিতে থাকনে। তথাপি কমিশন প্রাণহানি রোধ করতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ অব্যবস্থা দেখে ওই সময় চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে আপনি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, রকীব সাহেব অবসরে গেলে তার বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করবÑ ‘স্যার, আপনি কেন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেন। আপনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ব্যাপারে কোনো চাপের মধ্যে থাকলে পদত্যাগ করতে পারতেন। ইতিহাস কি আপনাকে ক্ষমা করবে?’ আসিফ নজরুল স্যার, আপনার সে কথা কি মনে আছে? রকীব কমিশন ৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছে। আপনি কি তার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন উনি কেন, এমনটা করলেন। এ প্রশ্নের যদি কোনো সদোত্তর তিনি দেন তাহলে দেশবাসীকে জানাবেন। আমরা তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।
মো: হাবিবুর রহমান
জামতলা, শার্শা, যশোর

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন

অভিমত : জনাব আসিফ নজরুলের প্রতি

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


জনাব আসিফ নজরুল, আপনি একজন সুদক্ষ ও প্রথিতযশা রাজনৈতিক বিশ্লেষক। আপনার যুক্তিনির্ভর, নিরপেক্ষ ও তথ্যবহুল আলোচনা রাখার জন্য রাজনৈতিক সচেতন মানুষ আপনার গুণগ্রাহী। অনেক দিন আপনাকে টিভির টকশোতে দেখি না। তাই এ খোলা চিঠি।
বাংলাদেশের ৪৬-৪৭ বছরের ইতিহাসে আমরা ১১টি নির্বাচন কমিশন পেয়েছি। কোনো কমিশনই সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। ২০০১ সালের সিইসি আবু সাঈদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে তার এক ঐতিহাসিক উক্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গোপালগঞ্জের মানুষ হওয়ার জন্য একটা দলের ধারণা ছিল, তিনি হয়তো নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারবেন না। তিনি সাংবাদিকদের এমনই একটা প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি নিরপেক্ষ লোক নই। তবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব।’ আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাÑ যশোর জেলার শার্শা থানার কায়বা ইউনিয়নের একজন চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের ভোট সেন্টারগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ থাকায়, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু সাঈদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। সিইসি তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা হোক, এই ১১টি কমিশনের মধ্যে বিগত রকীব কমিশন সচেয়ে ‘অযোগ্য, অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন’ খেতাব নিয়ে বিদায় নেয়। সাংবাদিক তথা দেশবাসীর উদ্দেশে কাজী রকীবউদ্দিন বলেন যে, তার কমিশন অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছে। বিনাভোটে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা পলিটিক্যাল গেম। তার এ বক্তব্যের পরপরই দেশের বিশিষ্টজনেরা তার দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে এটাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। রকীব কমিশনের আমলে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিনাভোটেই ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে ১৩৫ জনের প্রাণহানি। এ অবস্থায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং এ কমিশনকে সবাই ধিক্কার দিতে থাকনে। তথাপি কমিশন প্রাণহানি রোধ করতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ অব্যবস্থা দেখে ওই সময় চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে আপনি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, রকীব সাহেব অবসরে গেলে তার বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করবÑ ‘স্যার, আপনি কেন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেন। আপনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ব্যাপারে কোনো চাপের মধ্যে থাকলে পদত্যাগ করতে পারতেন। ইতিহাস কি আপনাকে ক্ষমা করবে?’ আসিফ নজরুল স্যার, আপনার সে কথা কি মনে আছে? রকীব কমিশন ৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছে। আপনি কি তার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন উনি কেন, এমনটা করলেন। এ প্রশ্নের যদি কোনো সদোত্তর তিনি দেন তাহলে দেশবাসীকে জানাবেন। আমরা তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।
মো: হাবিবুর রহমান
জামতলা, শার্শা, যশোর