ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম


নিজস্ব প্রতিবেদক,
গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এরই মধ্যে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কী হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটি বলেননি তিনি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেক। আর ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার দামও বাড়িয়েছে দফায় দফায়। তবে এখনও উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ দেয়া হয়। এই টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেয়া হয়। তবে সরকার এই খাতে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায়।

নিয়ম অনুযায়ী জ্বালানির দাম বাড়াতে হলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে বিতরণ কোম্পানির পক্ষ থেকে আবেদন করতে হয়। এরপর ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে গণশুনানি হয়। এর ভিত্তিতেই নেয়া হয় সিদ্ধান্ত।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও এসেছে গণশুনানিতে। ভোক্তা অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এই শুনানিতে দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, বিতরণ কোম্পানিগুলো সব লাভে আছে। তাই এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই।

তবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মনে করেন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে ঘোষণা পুরোপুরে যৌক্তিক। কারণ, বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে চলতে হবে। আর তার দাম পড়বে বেশি। এ কারণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আগামী সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গ্যাসের দাম দুই দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। মার্চ থেকে একবার এবং জুন থেকে আরেকবার বাড়ানো হবে দাম। সব মিলিয়ে দাম বাড়বে ২২ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়বে আবাসিকে। দুই চুলার বিল ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে জুনে হবে ৯০০ টাকা। বাড়ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের দামও।

বাংলাদেশে সব কটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লাভে থাকার পরও এই সিদ্ধান্তের কারণ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম থাকায় বিদেশ থেকে এলএনজি কিনে চালাতে হবে। আগামী বছরই আসবে এই এলএনজি। এই গ্যাসের দাম পড়বে অনেক বেশি। এ কারণে মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে যেতে হচ্ছে।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন যে হারে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে তা সরকারের ধারণার চেয়ে কম বলে জানান নসরুল হামিদ। বলেন, ‘আমরা আরও বেশি বেশি দাম বাড়ানোর প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে বিইআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজির দাম যেন বেশি না পড়ে সে জন্য এটি আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ না করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গ্যাসে আর ভর্তুকি দিতে চায় না।

নসরুল হামিদ বলেন, সরকার পরিবহনখাতে জৈব জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎনির্ভর গাড়ির দিকে যেতে চায়। এ জন্য রাজধানীর আশেপাশে চারটি স্টেশনকে ইলেকট্রিক চার্জিং এর জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

আপডেট সময় : ০৫:০০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


নিজস্ব প্রতিবেদক,
গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এরই মধ্যে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কী হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটি বলেননি তিনি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেক। আর ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার দামও বাড়িয়েছে দফায় দফায়। তবে এখনও উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ দেয়া হয়। এই টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেয়া হয়। তবে সরকার এই খাতে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায়।

নিয়ম অনুযায়ী জ্বালানির দাম বাড়াতে হলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে বিতরণ কোম্পানির পক্ষ থেকে আবেদন করতে হয়। এরপর ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে গণশুনানি হয়। এর ভিত্তিতেই নেয়া হয় সিদ্ধান্ত।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও এসেছে গণশুনানিতে। ভোক্তা অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এই শুনানিতে দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, বিতরণ কোম্পানিগুলো সব লাভে আছে। তাই এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই।

তবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মনে করেন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে ঘোষণা পুরোপুরে যৌক্তিক। কারণ, বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে চলতে হবে। আর তার দাম পড়বে বেশি। এ কারণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আগামী সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গ্যাসের দাম দুই দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। মার্চ থেকে একবার এবং জুন থেকে আরেকবার বাড়ানো হবে দাম। সব মিলিয়ে দাম বাড়বে ২২ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়বে আবাসিকে। দুই চুলার বিল ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে জুনে হবে ৯০০ টাকা। বাড়ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের দামও।

বাংলাদেশে সব কটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লাভে থাকার পরও এই সিদ্ধান্তের কারণ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম থাকায় বিদেশ থেকে এলএনজি কিনে চালাতে হবে। আগামী বছরই আসবে এই এলএনজি। এই গ্যাসের দাম পড়বে অনেক বেশি। এ কারণে মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে যেতে হচ্ছে।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন যে হারে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে তা সরকারের ধারণার চেয়ে কম বলে জানান নসরুল হামিদ। বলেন, ‘আমরা আরও বেশি বেশি দাম বাড়ানোর প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে বিইআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজির দাম যেন বেশি না পড়ে সে জন্য এটি আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ না করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গ্যাসে আর ভর্তুকি দিতে চায় না।

নসরুল হামিদ বলেন, সরকার পরিবহনখাতে জৈব জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎনির্ভর গাড়ির দিকে যেতে চায়। এ জন্য রাজধানীর আশেপাশে চারটি স্টেশনকে ইলেকট্রিক চার্জিং এর জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।