ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

নদীতে পাওয়া প্রাডো গাড়ির মালিক গুম হওয়া জাপা নেতার

নদীতে পাওয়া প্রাডো গাড়ির মালিক গুম হওয়া জাপা নেতার

গাজীপুর : কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া সেই আলোচিত বিলাস বহুল রহস্যময় প্রাডো গাড়ির মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গাড়ির মালিক গত দেড় বছর আগে গুম হওয়া জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) নেতা খন্দকার হেফজুর রহমান।

সোমবার রাতে তার স্ত্রী সালেহা বেগম ঢাকার সিআইডির সহযোগিতায় কাপাসিয়া থানায় এসে গাড়িটি সনাক্ত করেন। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গুম হওয়া খন্দকার হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, তার স্বামী ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকার বাড্ডার ৬৭/৩ নম্বর বাড়ি থেকে নিজের প্রাডো গাড়িটি নিয়ে দেহরক্ষী ক্যাপ্ট. শওকত, আব্দুল আওয়াল, চালক শাহ আলমকে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। গাড়িটি গুলশান ১ নম্বরের চেক পোষ্টের লিং রোডের মাথায় পৌছলে অপরিচিত কয়েকজন সাদা পোষাকধারী গাড়িটি রোধ করে। তারা অস্ত্রের মুখে অন্যদের নামিয়ে দিয়ে তার স্বামী হেফজুর রহমানকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন থেকে স্বামীর সন্ধান এবং গাড়িটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ছালেহা বেগম বাদী হয়ে পর দিন ৮ সেপ্টেম্বর-২০১৫ গুলশান থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারনে থানা পুলিশ তখন মামলা নিতে গড়িমসি করে। নিরুপায় হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা পুলিশ মামলা গ্রহন করে। মামলা নং- ৬৩। ওই সময় মামলাটি তদন্ত করেন এসআই মোহাম্মদ আলী হাসান। কিন্তু ওই সময় তিনি এই মামলার কোন অগ্রগতি বা রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা সদরের দস্যুনারায়নপুর বাজার সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর মাছের ঘের থেকে হারিয়ে যাওয়া গাড়িটি কাপাসিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে। গাড়িতে ব্যবহৃত নাম্বার প্লেটে ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ২০২৯ লিখা ছিল।

অনুসন্ধান করে এই নাম্বারটির মালিকের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে কাপাসিয়া থানার এসআই মো. দুলাল মিয়া আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার দিয়ে বিআরটিএতে অনুসন্ধান চালায়। এতে প্রকৃত মালিক ও গাড়ির নাম্বার পাওয়া যায়। ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ৫৭৫৬, রেজি: তারিখ- ২৭/১১/২০০৪। পরে মামলাটি তদন্ত করেন ঢাকার সিআইডি গুলশান উত্তর ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল কাইয়ুম।

নিখোঁজ হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, তিনি জাতীয় পার্টি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ) থেকে ব্রাম্মণবাড়িয়া- ৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাই সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জমি কেনা বেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি কসবা উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে। তিনি আরো বলেন, দেহরক্ষি, গাড়ি চালক ও গাড়ি পাওয়া গেলেও এখনো সন্ধান মিলেনি আমার স্বামীর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

নদীতে পাওয়া প্রাডো গাড়ির মালিক গুম হওয়া জাপা নেতার

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নদীতে পাওয়া প্রাডো গাড়ির মালিক গুম হওয়া জাপা নেতার

গাজীপুর : কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া সেই আলোচিত বিলাস বহুল রহস্যময় প্রাডো গাড়ির মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গাড়ির মালিক গত দেড় বছর আগে গুম হওয়া জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) নেতা খন্দকার হেফজুর রহমান।

সোমবার রাতে তার স্ত্রী সালেহা বেগম ঢাকার সিআইডির সহযোগিতায় কাপাসিয়া থানায় এসে গাড়িটি সনাক্ত করেন। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গুম হওয়া খন্দকার হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, তার স্বামী ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকার বাড্ডার ৬৭/৩ নম্বর বাড়ি থেকে নিজের প্রাডো গাড়িটি নিয়ে দেহরক্ষী ক্যাপ্ট. শওকত, আব্দুল আওয়াল, চালক শাহ আলমকে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। গাড়িটি গুলশান ১ নম্বরের চেক পোষ্টের লিং রোডের মাথায় পৌছলে অপরিচিত কয়েকজন সাদা পোষাকধারী গাড়িটি রোধ করে। তারা অস্ত্রের মুখে অন্যদের নামিয়ে দিয়ে তার স্বামী হেফজুর রহমানকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন থেকে স্বামীর সন্ধান এবং গাড়িটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ছালেহা বেগম বাদী হয়ে পর দিন ৮ সেপ্টেম্বর-২০১৫ গুলশান থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারনে থানা পুলিশ তখন মামলা নিতে গড়িমসি করে। নিরুপায় হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা পুলিশ মামলা গ্রহন করে। মামলা নং- ৬৩। ওই সময় মামলাটি তদন্ত করেন এসআই মোহাম্মদ আলী হাসান। কিন্তু ওই সময় তিনি এই মামলার কোন অগ্রগতি বা রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা সদরের দস্যুনারায়নপুর বাজার সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর মাছের ঘের থেকে হারিয়ে যাওয়া গাড়িটি কাপাসিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে। গাড়িতে ব্যবহৃত নাম্বার প্লেটে ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ২০২৯ লিখা ছিল।

অনুসন্ধান করে এই নাম্বারটির মালিকের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে কাপাসিয়া থানার এসআই মো. দুলাল মিয়া আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার দিয়ে বিআরটিএতে অনুসন্ধান চালায়। এতে প্রকৃত মালিক ও গাড়ির নাম্বার পাওয়া যায়। ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ৫৭৫৬, রেজি: তারিখ- ২৭/১১/২০০৪। পরে মামলাটি তদন্ত করেন ঢাকার সিআইডি গুলশান উত্তর ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল কাইয়ুম।

নিখোঁজ হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, তিনি জাতীয় পার্টি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ) থেকে ব্রাম্মণবাড়িয়া- ৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাই সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জমি কেনা বেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি কসবা উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে। তিনি আরো বলেন, দেহরক্ষি, গাড়ি চালক ও গাড়ি পাওয়া গেলেও এখনো সন্ধান মিলেনি আমার স্বামীর।