ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের উমরা!

৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের উমরা!

সাইফুল ইসলাম বেগ :: প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আবদুল গফফার উমরা মিয়া (৭৩)। ৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে ‘বৃক্ষ প্রেমিক’ খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় সবুজাভ হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, সড়ক-মহাসড়ক।

উমরা মিয়ার জন্ম বিশ্বনাথ উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে। তিনি ছিলেন আদর্শ ছাত্র। কৃতিত্বের সঙ্গে বি কম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে ছিল তার গভীর সখ্য। গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করতে পছন্দ করতেন তিনি। মরে যাওয়া গাছ গভীর দাগ কাটত তার মনে। ধীরে ধীরে এটি নেশায় পরিণত হয় তার।

১৯৭৮ থেকে আজ অবধি জীবনের পুরোটা সময় তিনি ব্যয় করেছেন নিজ খরচে উপজেলা জুড়ে বৃক্ষরোপণ করে। এ পর্যন্ত উপজেলার ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগিয়েছেন। এখনো ভ্যান ভর্তি চারা নিয়ে হাজির হন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সড়কে সড়কে নিজ হাতে রোপণ করেন চারা। রোপণের কিছুদিন পর পর দিনব্যাপী পথে পথে ঘুরে সন্তানের মতো পরিচর্যা করেন চারা গাছের। সাধ্যমতো অসহায়-গৃহহীন মানুষদেরও বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত

স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে এলাকার দরিদ্র ৩১টি মুসলিম ও হিন্দু পরিবারকে ঘর করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তৃণমূলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন পাঠাগার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। সালমান ফারসী জাবের ও সাফওয়ান মেহদী জাকি দুজনেই প্রবাসী। স্ত্রী সাবিহা গফফার তার কাজে প্রেরণা যুগিয়েছেন সব সময়। তাকে নিয়েই বাড়িতে তৈরি করেছেন শখের নার্সারি। এ বাড়ির প্রবেশ পথের দুই ধারে নান্দনিক গাছের সারি। বাড়ির উঠোন, বারান্দা ও ছাদ ভর্তি শত শত ফুল, ফল ও ঔষধি গাছে। তার বৈঠকখানা যেন দুর্লভ এক সংগ্রহশালা। যেখানে রয়েছে বিচিত্র জিনিসের সমাহার।

জানা গেছে, এক সময় তার এ সংগ্রহশালা পরির্দশন করেছিলেন আমেরিকান মেডিকেল ডাইরেক্টর রায়মন্ড ফিলিপ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিনিধি ড. এন্টন ডালহুজ, বিট্রিশ সংসদীয় দলের নেতা নরম্যান ও মিস ক্যাম্পাবেশ, ব্রিটেনের রানীর পক্ষে এমবি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এলিজা ও তার স্বামী এলেস্তসহ সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক আবদুল মালেক চৌধুরী।

উমরা মিয়া বলেন, ‘আমি যেমনটি পেয়েছি, সে ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ রেখে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। আমি প্রকৃতি ও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের উমরা!

আপডেট সময় : ০৮:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের উমরা!

সাইফুল ইসলাম বেগ :: প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আবদুল গফফার উমরা মিয়া (৭৩)। ৩৯ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে ‘বৃক্ষ প্রেমিক’ খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় সবুজাভ হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, সড়ক-মহাসড়ক।

উমরা মিয়ার জন্ম বিশ্বনাথ উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে। তিনি ছিলেন আদর্শ ছাত্র। কৃতিত্বের সঙ্গে বি কম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে ছিল তার গভীর সখ্য। গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করতে পছন্দ করতেন তিনি। মরে যাওয়া গাছ গভীর দাগ কাটত তার মনে। ধীরে ধীরে এটি নেশায় পরিণত হয় তার।

১৯৭৮ থেকে আজ অবধি জীবনের পুরোটা সময় তিনি ব্যয় করেছেন নিজ খরচে উপজেলা জুড়ে বৃক্ষরোপণ করে। এ পর্যন্ত উপজেলার ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগিয়েছেন। এখনো ভ্যান ভর্তি চারা নিয়ে হাজির হন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সড়কে সড়কে নিজ হাতে রোপণ করেন চারা। রোপণের কিছুদিন পর পর দিনব্যাপী পথে পথে ঘুরে সন্তানের মতো পরিচর্যা করেন চারা গাছের। সাধ্যমতো অসহায়-গৃহহীন মানুষদেরও বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত

স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে এলাকার দরিদ্র ৩১টি মুসলিম ও হিন্দু পরিবারকে ঘর করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তৃণমূলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন পাঠাগার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। সালমান ফারসী জাবের ও সাফওয়ান মেহদী জাকি দুজনেই প্রবাসী। স্ত্রী সাবিহা গফফার তার কাজে প্রেরণা যুগিয়েছেন সব সময়। তাকে নিয়েই বাড়িতে তৈরি করেছেন শখের নার্সারি। এ বাড়ির প্রবেশ পথের দুই ধারে নান্দনিক গাছের সারি। বাড়ির উঠোন, বারান্দা ও ছাদ ভর্তি শত শত ফুল, ফল ও ঔষধি গাছে। তার বৈঠকখানা যেন দুর্লভ এক সংগ্রহশালা। যেখানে রয়েছে বিচিত্র জিনিসের সমাহার।

জানা গেছে, এক সময় তার এ সংগ্রহশালা পরির্দশন করেছিলেন আমেরিকান মেডিকেল ডাইরেক্টর রায়মন্ড ফিলিপ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিনিধি ড. এন্টন ডালহুজ, বিট্রিশ সংসদীয় দলের নেতা নরম্যান ও মিস ক্যাম্পাবেশ, ব্রিটেনের রানীর পক্ষে এমবি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এলিজা ও তার স্বামী এলেস্তসহ সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক আবদুল মালেক চৌধুরী।

উমরা মিয়া বলেন, ‘আমি যেমনটি পেয়েছি, সে ভাবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ রেখে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। আমি প্রকৃতি ও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’