ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ: স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সতর্ক ও প্রস্তুত থাকুন: আনসার বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ: নিজের নামের ব্যানার সরাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

বেগম জিয়ার সাথে আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎ: রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত।

তাজ উদ্দীন

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়, যা তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তুলে ধরেছেন। এই সাক্ষাৎ এবং এর conttexts রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়া নভেম্বরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় তিনি তার সাথে দেখা করতে যান। আলোচনায় বেগম জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ দেখান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের খবর নিয়মিত রাখেন বলেও জানান।

আসিফ নজরুল বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং দীর্ঘ কারাবাসের কষ্টের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া একবারের জন্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম মুখে আনেননি। এমনকি, যখন আসিফ নজরুল সরাসরি জানতে চান, এত কষ্ট ও নির্যাতনের পরেও শেখ হাসিনার উপর তার রাগ হয় কিনা, বেগম জিয়া উত্তরে বলেন, “রাগ করে কি করব বলেন! আল্লাহর কাছে বলি।”

বেগম জিয়ার এই উত্তরে আসিফ নজরুল বিস্মিত হন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা বেগম জিয়া এবং তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক “জঘন্য ও অশ্লীল মিথ্যাচার” এবং “নির্মম নির্যাতন” করেছেন। এতকিছুর পরেও বেগম জিয়ার মুখে কোনো তিক্ততা বা বিদ্বেষের প্রকাশ না দেখে তিনি অবাক হন।

এই সাক্ষাৎ থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সৌজন্যবোধ এবং ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। বেগম জিয়া এবং আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎ তারই প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়ার সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েও তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রকাশ করেননি।

আসিফ নজরুল তার লেখায় বেগম জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি যেন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

এই সাক্ষাৎটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। রাজনৈতিক বিভেদ এবং তিক্ততার ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার চর্চা করা গেলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মানেই ব্যক্তিগত শত্রু নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়। বেগম জিয়া এবং আসিফ নজরুলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন

বেগম জিয়ার সাথে আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎ: রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত।

আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫

তাজ উদ্দীন

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়, যা তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তুলে ধরেছেন। এই সাক্ষাৎ এবং এর conttexts রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়া নভেম্বরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় তিনি তার সাথে দেখা করতে যান। আলোচনায় বেগম জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ দেখান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের খবর নিয়মিত রাখেন বলেও জানান।

আসিফ নজরুল বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং দীর্ঘ কারাবাসের কষ্টের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া একবারের জন্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম মুখে আনেননি। এমনকি, যখন আসিফ নজরুল সরাসরি জানতে চান, এত কষ্ট ও নির্যাতনের পরেও শেখ হাসিনার উপর তার রাগ হয় কিনা, বেগম জিয়া উত্তরে বলেন, “রাগ করে কি করব বলেন! আল্লাহর কাছে বলি।”

বেগম জিয়ার এই উত্তরে আসিফ নজরুল বিস্মিত হন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা বেগম জিয়া এবং তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক “জঘন্য ও অশ্লীল মিথ্যাচার” এবং “নির্মম নির্যাতন” করেছেন। এতকিছুর পরেও বেগম জিয়ার মুখে কোনো তিক্ততা বা বিদ্বেষের প্রকাশ না দেখে তিনি অবাক হন।

এই সাক্ষাৎ থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সৌজন্যবোধ এবং ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। বেগম জিয়া এবং আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎ তারই প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়ার সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েও তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রকাশ করেননি।

আসিফ নজরুল তার লেখায় বেগম জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি যেন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

এই সাক্ষাৎটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। রাজনৈতিক বিভেদ এবং তিক্ততার ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার চর্চা করা গেলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মানেই ব্যক্তিগত শত্রু নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়। বেগম জিয়া এবং আসিফ নজরুলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।