ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

ট্রাম্পের নীতি বিভক্তি সৃষ্টিকারী অবৈধ, অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক


মুসলিম প্রধান ৭টি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। তারা ট্রাম্পের এমন নির্দেশকে বিভক্তি সৃষ্টিকারী, অবৈধ, অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। গত শুক্রবার ট্রাম্প সিরিয়া, ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের সব নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ৯০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন। একই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে সব শরণার্থী প্রবেশ ১২০ দিন স্থগিত রাখা হয়। সিরিয়ার সব নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় অনির্দিষ্টকাল। তবে খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কথা পরে বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝরলেও কালো তালিকায় নেই এমন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো চুপচাপ আছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পাকিস্তান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডনে। বৃটিশ পার্লামেন্টে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। ফলে বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিভক্তি সৃষ্টিকারী ও ভুল’ বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, ট্রাম্পের এ নীতি লজ্জাজনক ও নিষ্ঠুর। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাকিস্তানেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বিদেশি প্রথম কোনো নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে। তারা দু’দেশের মধ্যে ‘বিশেষ সম্পর্কের’ ঘোষণা দেন। তার দু’দিন পরেই বরিস জনসন ও সাদিক খান ট্রাম্পের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। বৃটিশ এমপিরা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতে। এর ফলে তিনি বাধ্য হয়েছেন একটি বিবৃতি দিতে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি একমত নন। তবে তিনি বলেছেন, অভিবাসন হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজের ব্যাপার। বৃটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে একটি পিটিশন প্রকাশ হয়েছে। তাতে বৃটেনে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর প্রতিরোধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে তাতে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ মার্ক আয়রাউল্ট বলেছেন, শরণার্থীদের স্বাগত জানানো হলো সংহতি প্রকাশের দায়িত্ব। তিনি টুইটে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো জাতীয়তা নেই। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসের জবাব হতে পারে না বৈষম্যমূলক নীতি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য, এক্ষেত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাধারণ একটি স্থগিতাদেশ দেয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও সুচিন্তিত লড়াই হতে পারে না। আমার বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড হলো শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তার যে ধারণা রয়েছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যে ধারণা রয়েছে তার মূলনীতির বিরোধী। এর আগে অ্যাঙ্গেলা মারকেলের এক মুখপাত্র বলেছেন, শনিবার এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন মারকেল। এ সময় তিনি শরণার্থীবিষয়ক জেনেভা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পকে। ওদিকে ট্রাম্পের নীতির উল্টো অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মেহমেদ সিমসেক টুইটারে শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেয়ে আমরা বিশ্বের মেধাবীদের স্বাগত জানাই। ওদিকে ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন যেসব বিশ্বনেতা তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি বলেছেন, সীমান্ত অতিক্রম করে কারা আসছে তা নিয়ন্ত্রণ করা সব জাতির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি এ বিষয়ে রোববার কথা বলেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্ব ও অবৈধ অভিবাসীদের হুমকি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীূ জাস্টিন ট্রুডো। তিনি শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের কালো তালিকায় নেই পাকিস্তানের নাম। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তার নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করতে পারে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রিবাস। এ খবরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার। তিনি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞায় সন্ত্রাসীদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্টো এর ফলে সন্ত্রাসের শিকার বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মুসলিমরা। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরব এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেনি, যদিও জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইন্স একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ৭টি দেশের নাগরিকদের সৌদি এয়ারলাইন্স বহন করার অনুমতি পায়নি। তবে কূটনৈতিক ভিসা পাওয়া ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন এমন ব্যক্তি ও বৈধ ভিসাধারীরা এর ব্যতিক্রম। অন্যদিকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পক্ষে কথা বলেছেন, বৃটেনের ব্রেক্সিট ধারণার অন্যতম প্রবক্তা নাইজেল ফারাজে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে অবমাননাকর ও সন্ত্রাসীদের জন্য একটি উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। ইরান তার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সুরক্ষামূলক পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনকে এই ভুল সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইয়েমেন সন্তুষ্ট নয়। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল মালাক আল খেলাফি টুইটারে বলেছেন, এ নীতিতে সমর্থন যোগাবে সন্ত্রাসীদের। জনগণের মধ্যে বিভক্তির বীজ বপন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

ট্রাম্পের নীতি বিভক্তি সৃষ্টিকারী অবৈধ, অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


মুসলিম প্রধান ৭টি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। তারা ট্রাম্পের এমন নির্দেশকে বিভক্তি সৃষ্টিকারী, অবৈধ, অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। গত শুক্রবার ট্রাম্প সিরিয়া, ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের সব নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ৯০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন। একই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে সব শরণার্থী প্রবেশ ১২০ দিন স্থগিত রাখা হয়। সিরিয়ার সব নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় অনির্দিষ্টকাল। তবে খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কথা পরে বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝরলেও কালো তালিকায় নেই এমন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো চুপচাপ আছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পাকিস্তান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডনে। বৃটিশ পার্লামেন্টে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। ফলে বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিভক্তি সৃষ্টিকারী ও ভুল’ বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, ট্রাম্পের এ নীতি লজ্জাজনক ও নিষ্ঠুর। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাকিস্তানেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বিদেশি প্রথম কোনো নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে। তারা দু’দেশের মধ্যে ‘বিশেষ সম্পর্কের’ ঘোষণা দেন। তার দু’দিন পরেই বরিস জনসন ও সাদিক খান ট্রাম্পের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। বৃটিশ এমপিরা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতে। এর ফলে তিনি বাধ্য হয়েছেন একটি বিবৃতি দিতে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি একমত নন। তবে তিনি বলেছেন, অভিবাসন হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজের ব্যাপার। বৃটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে একটি পিটিশন প্রকাশ হয়েছে। তাতে বৃটেনে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর প্রতিরোধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে তাতে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ মার্ক আয়রাউল্ট বলেছেন, শরণার্থীদের স্বাগত জানানো হলো সংহতি প্রকাশের দায়িত্ব। তিনি টুইটে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো জাতীয়তা নেই। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসের জবাব হতে পারে না বৈষম্যমূলক নীতি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য, এক্ষেত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাধারণ একটি স্থগিতাদেশ দেয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও সুচিন্তিত লড়াই হতে পারে না। আমার বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড হলো শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তার যে ধারণা রয়েছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যে ধারণা রয়েছে তার মূলনীতির বিরোধী। এর আগে অ্যাঙ্গেলা মারকেলের এক মুখপাত্র বলেছেন, শনিবার এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন মারকেল। এ সময় তিনি শরণার্থীবিষয়ক জেনেভা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পকে। ওদিকে ট্রাম্পের নীতির উল্টো অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মেহমেদ সিমসেক টুইটারে শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেয়ে আমরা বিশ্বের মেধাবীদের স্বাগত জানাই। ওদিকে ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন যেসব বিশ্বনেতা তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি বলেছেন, সীমান্ত অতিক্রম করে কারা আসছে তা নিয়ন্ত্রণ করা সব জাতির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি এ বিষয়ে রোববার কথা বলেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্ব ও অবৈধ অভিবাসীদের হুমকি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীূ জাস্টিন ট্রুডো। তিনি শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের কালো তালিকায় নেই পাকিস্তানের নাম। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তার নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করতে পারে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রিবাস। এ খবরে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার। তিনি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞায় সন্ত্রাসীদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্টো এর ফলে সন্ত্রাসের শিকার বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মুসলিমরা। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরব এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেনি, যদিও জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইন্স একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ৭টি দেশের নাগরিকদের সৌদি এয়ারলাইন্স বহন করার অনুমতি পায়নি। তবে কূটনৈতিক ভিসা পাওয়া ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন এমন ব্যক্তি ও বৈধ ভিসাধারীরা এর ব্যতিক্রম। অন্যদিকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পক্ষে কথা বলেছেন, বৃটেনের ব্রেক্সিট ধারণার অন্যতম প্রবক্তা নাইজেল ফারাজে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে অবমাননাকর ও সন্ত্রাসীদের জন্য একটি উপহার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। ইরান তার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সুরক্ষামূলক পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনকে এই ভুল সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইয়েমেন সন্তুষ্ট নয়। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল মালাক আল খেলাফি টুইটারে বলেছেন, এ নীতিতে সমর্থন যোগাবে সন্ত্রাসীদের। জনগণের মধ্যে বিভক্তির বীজ বপন করবে।