ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

বিমানবন্দরে স্তন্যদাত্রীর পরীক্ষা দিতে বাধ্য হলেন এক নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
জার্মানির বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা একজন নারীকে স্তন্যদাত্রী কি না এই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গায়ত্রী বোস নামের এই নারী জার্মান পুলিশের কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। খবর বিবিসির।

তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনে স্তন টিপে তাকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে তিনি তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান।

মিস বোস বলেছেন, জার্মানিতে এ রকম একটি ঘটনায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর দিয়ে তিনি তার শিশুকে ছাড়াই সফর করছিলেন। এ সময় তার কাছে একটি ব্রেস্ট পাম্প দেখে কর্মকর্তারা তাকে সন্দেহ করেন।

জার্মান পুলিশ এই অভিযোগের ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বলেছে, এটি তাদের রুটিন কাজের কোনো অংশ নয়।

তোমার বাচ্চা কোথায়?

সিঙ্গাপুরের নাগরিক মিস বোস জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি প্যারিসে যাচ্ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা তখনই তাকে পরীক্ষা করে দেখার জন্যে থামায়। তার হাত ব্যাগেই ছিলো একটি ব্রেস্ট পাম্প। সেটি এক্স-রে মেশিনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তাকে সেখান থেকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

‘তাদের কণ্ঠে ছিলো অবিশ্বাসের সুর। তুমি দুধ খাওয়াচ্ছো? তাহলে তোমার বাচ্চা কোথায়? তোমার বাচ্চা সিঙ্গাপুরে থাকে?’ বলেন তিনি।

তিনি জানান, অফিসাররা তার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করছিলো না। তখন তারা তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নেন। তারপর একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাকে একটি ঘরে নিয়ে যান আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে।

মিস বোস বলেন, ‘ওই পুলিশ কর্মকর্তা তখন আমাকে বলেন আমি যে স্তন্যদাত্রী একজন মা সেটা প্রমাণ করে দেখাতে।’

‘তিনি আমাকে ব্লাউজ খুলে তাকে আমার স্তন দেখাতে বলেন। তারপর তিনি জানতে চান তুমি যদি বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে থাকো তাহলে তোমার স্তনের সাথে কিছু লাগানো নেই কেন? আমি বলি, স্থায়ীভাবে লাগানোর মতো কোনো জিনিস তো নেই। যখন দরকার হয় তখনই আমরা পাম্পটি ব্যবহার করি। তখন তিনি হাত দিয়ে আমাকে একটু করে দেখাতে বললেন।’

‘আমি হতবাক’

মিস বোস বলেন, ‘এই ঘটনায় তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। আমি তখন একা ছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না আমার কি হতে পারে। একসময় আমি কাঁদতে শুরু করি।’

তিনি জানান, পরীক্ষা করে দেখার পর কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেন এবং তাকে বিমানে উঠার অনুমতি দেন।

মিস বোস ওই মহিলা কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে তিনি এক টুকরো কাগজে তার নামটা লিখে দেন।

মিস বোস জানান ‘অপমানজনক’ এই পুরো পরীক্ষা শেষ হতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট।

‘যখন তারা আমাকে ছেড়ে দেয় তখন তাদেরকে আমি বলি নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্যে এটা কোন উপায় হলো না। আমি তাদেরকে বলি, তোমার কী বুঝতে পারছো যে এইমাত্র তোমরা আমাকে কি করেছো? তোমরা আমাকে আমার স্তন দেখাতে বলেছ।’

তিনি জানান, ‘অফিসার তখন বললেন, ‘পরীক্ষা শেষ। আপনি এখন যান। প্লিজ।’

‘মনে হয়নি যে আমার প্রতি তার কোন ধরনের সহানুভূতি ছিল।’

মিস বোস একটি পরিবহন কোম্পানির ম্যানেজার। তার দুটো সন্তান। একটি তিন আর অপরটি সাত মাস বয়সী।

‘স্বাভাবিক ব্যবস্থা’

ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে জার্মান পুলিশের একজন মুখপাত্র ক্রিস্টিয়ান আলটেনহোফেন বিবিসিকে বলেছেন, তথ্যের গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ‘কোন যাত্রীর কাছে বিস্ফোরক রাখার সন্দেহ হলে তাকে ও তার লাগেজ পরীক্ষা করে দেখা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে স্তন্যদাত্রী মায়ের ওপর এভাবে পরীক্ষা চালানোর কথা কোথাও বলা হয়নি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

বিমানবন্দরে স্তন্যদাত্রীর পরীক্ষা দিতে বাধ্য হলেন এক নারী

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
জার্মানির বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা একজন নারীকে স্তন্যদাত্রী কি না এই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গায়ত্রী বোস নামের এই নারী জার্মান পুলিশের কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। খবর বিবিসির।

তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনে স্তন টিপে তাকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে তিনি তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান।

মিস বোস বলেছেন, জার্মানিতে এ রকম একটি ঘটনায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর দিয়ে তিনি তার শিশুকে ছাড়াই সফর করছিলেন। এ সময় তার কাছে একটি ব্রেস্ট পাম্প দেখে কর্মকর্তারা তাকে সন্দেহ করেন।

জার্মান পুলিশ এই অভিযোগের ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বলেছে, এটি তাদের রুটিন কাজের কোনো অংশ নয়।

তোমার বাচ্চা কোথায়?

সিঙ্গাপুরের নাগরিক মিস বোস জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি প্যারিসে যাচ্ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা তখনই তাকে পরীক্ষা করে দেখার জন্যে থামায়। তার হাত ব্যাগেই ছিলো একটি ব্রেস্ট পাম্প। সেটি এক্স-রে মেশিনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তাকে সেখান থেকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

‘তাদের কণ্ঠে ছিলো অবিশ্বাসের সুর। তুমি দুধ খাওয়াচ্ছো? তাহলে তোমার বাচ্চা কোথায়? তোমার বাচ্চা সিঙ্গাপুরে থাকে?’ বলেন তিনি।

তিনি জানান, অফিসাররা তার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করছিলো না। তখন তারা তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নেন। তারপর একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাকে একটি ঘরে নিয়ে যান আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে।

মিস বোস বলেন, ‘ওই পুলিশ কর্মকর্তা তখন আমাকে বলেন আমি যে স্তন্যদাত্রী একজন মা সেটা প্রমাণ করে দেখাতে।’

‘তিনি আমাকে ব্লাউজ খুলে তাকে আমার স্তন দেখাতে বলেন। তারপর তিনি জানতে চান তুমি যদি বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে থাকো তাহলে তোমার স্তনের সাথে কিছু লাগানো নেই কেন? আমি বলি, স্থায়ীভাবে লাগানোর মতো কোনো জিনিস তো নেই। যখন দরকার হয় তখনই আমরা পাম্পটি ব্যবহার করি। তখন তিনি হাত দিয়ে আমাকে একটু করে দেখাতে বললেন।’

‘আমি হতবাক’

মিস বোস বলেন, ‘এই ঘটনায় তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। আমি তখন একা ছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না আমার কি হতে পারে। একসময় আমি কাঁদতে শুরু করি।’

তিনি জানান, পরীক্ষা করে দেখার পর কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেন এবং তাকে বিমানে উঠার অনুমতি দেন।

মিস বোস ওই মহিলা কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে তিনি এক টুকরো কাগজে তার নামটা লিখে দেন।

মিস বোস জানান ‘অপমানজনক’ এই পুরো পরীক্ষা শেষ হতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট।

‘যখন তারা আমাকে ছেড়ে দেয় তখন তাদেরকে আমি বলি নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্যে এটা কোন উপায় হলো না। আমি তাদেরকে বলি, তোমার কী বুঝতে পারছো যে এইমাত্র তোমরা আমাকে কি করেছো? তোমরা আমাকে আমার স্তন দেখাতে বলেছ।’

তিনি জানান, ‘অফিসার তখন বললেন, ‘পরীক্ষা শেষ। আপনি এখন যান। প্লিজ।’

‘মনে হয়নি যে আমার প্রতি তার কোন ধরনের সহানুভূতি ছিল।’

মিস বোস একটি পরিবহন কোম্পানির ম্যানেজার। তার দুটো সন্তান। একটি তিন আর অপরটি সাত মাস বয়সী।

‘স্বাভাবিক ব্যবস্থা’

ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে জার্মান পুলিশের একজন মুখপাত্র ক্রিস্টিয়ান আলটেনহোফেন বিবিসিকে বলেছেন, তথ্যের গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ‘কোন যাত্রীর কাছে বিস্ফোরক রাখার সন্দেহ হলে তাকে ও তার লাগেজ পরীক্ষা করে দেখা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে স্তন্যদাত্রী মায়ের ওপর এভাবে পরীক্ষা চালানোর কথা কোথাও বলা হয়নি।’