ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

আ’লীগ অর্জিত গণতন্ত্রকে ভূগর্ভে সমাহিত করেছে : খালেদা জিয়া


ঢাকা: চক্রান্তের চোরাগলি দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী জোট আবারও অর্জিত গণতন্ত্রকে ভূগর্ভে সমাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার দিবসকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উল্লেখ করে তিনি এ বাণী দেন।

বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, অলীক স্বপ্নে আওয়ামী লীগ শুধু গণতন্ত্রই নয়-দেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বকে সংকটাপন্ন করে তুলতেও দ্বিধা করেনি। বিরোধী দলের প্রতি আচরণে তারা কখনোই সভ্য রীতি-নীতি অনুসরণ করেনি। ফলে নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবারও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপে বসা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাভূত করে রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এদের (আওয়ামী লীগ) ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার বিপন্ন করা। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভরাডুবির বিপদ টের পেয়ে তারা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।

বিএনপি প্রধান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করে তার ওপর একক কর্তৃত্ববাদী নির্দয় শাসনের ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এখন সর্বত্রই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দখলবাজদের জয়জয়কার ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রণেতারা জনগণ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, অবনতিশীল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, আশ্রয়, পেশা, ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু এখন নৈরাজ্যের করাল গ্রাসে নিপতিত।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চিরস্থায়ী ক্ষমতার বন্দোবস্ত করতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করে। এই ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামতকে উপেক্ষা করে। এক প্রকার গায়ের জোরেই অমানবিক মধ্যযুগীয় চতুর্থ সংশোধনী আইন পাশ করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মানুষের বাক, ব্যক্তি, চলাচল ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার হরণ করে। সব সংবাদপত্র বাতিল করে তাদের অনুগত ৪ টি প্রকাশনা চালু রাখার ফরমান জারি করে। এর ফলে চিরায়ত গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকেই তারা সেদিন নিঃশেষ করে দেয়। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে তারা ভূলুন্ঠিত করে। সমাজে ভয়াবহ নৈরাজ্য ছড়িয়ে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম

আ’লীগ অর্জিত গণতন্ত্রকে ভূগর্ভে সমাহিত করেছে : খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৭:২১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৭


ঢাকা: চক্রান্তের চোরাগলি দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী জোট আবারও অর্জিত গণতন্ত্রকে ভূগর্ভে সমাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার দিবসকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উল্লেখ করে তিনি এ বাণী দেন।

বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, অলীক স্বপ্নে আওয়ামী লীগ শুধু গণতন্ত্রই নয়-দেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বকে সংকটাপন্ন করে তুলতেও দ্বিধা করেনি। বিরোধী দলের প্রতি আচরণে তারা কখনোই সভ্য রীতি-নীতি অনুসরণ করেনি। ফলে নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবারও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপে বসা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাভূত করে রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এদের (আওয়ামী লীগ) ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার বিপন্ন করা। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভরাডুবির বিপদ টের পেয়ে তারা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।

বিএনপি প্রধান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করে তার ওপর একক কর্তৃত্ববাদী নির্দয় শাসনের ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এখন সর্বত্রই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দখলবাজদের জয়জয়কার ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রণেতারা জনগণ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, অবনতিশীল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, আশ্রয়, পেশা, ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু এখন নৈরাজ্যের করাল গ্রাসে নিপতিত।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চিরস্থায়ী ক্ষমতার বন্দোবস্ত করতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করে। এই ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামতকে উপেক্ষা করে। এক প্রকার গায়ের জোরেই অমানবিক মধ্যযুগীয় চতুর্থ সংশোধনী আইন পাশ করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মানুষের বাক, ব্যক্তি, চলাচল ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার হরণ করে। সব সংবাদপত্র বাতিল করে তাদের অনুগত ৪ টি প্রকাশনা চালু রাখার ফরমান জারি করে। এর ফলে চিরায়ত গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকেই তারা সেদিন নিঃশেষ করে দেয়। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে তারা ভূলুন্ঠিত করে। সমাজে ভয়াবহ নৈরাজ্য ছড়িয়ে দেয়।