ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

সংলাপে বসা মানে বিএনপিকে বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে নেয়া


ঢাকা : ঘুরেফিরে আবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে আলোচনায় উঠে এসেছে সংলাপ। চলমান পরিস্থিতি নিরসনে সংলাপের নতুন এই আওয়াজ তুলেছেন বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বার বার সংলাপের দাবি করে আসছে সরকারের প্রধানবিরোধী শক্তি বিএনপিও। দলটির নীতি-নির্ধারকরা বলেছেন, সরকারবিরোধী দল বিএনপির সাথে সংলাপে বসা মানে বিএনপিকে বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়া। তারা আরো বলেছেন, ইসি গঠন নিয়ে বিএনপি সংলাপ চেয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংলাপের আয়োজন করেছেন। বিএনপিসহ নিবন্ধিত প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলের পরামর্শও গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিএনপির সাথে সংলাপে বসা মানে তাদের খাদের কিনারা থেকে তুলে আনার মতো। তাদের পুনরুজ্জীবিত করা। আর এ দায়িত্ব আওয়ামী লীগের না। বিএনপি জনগণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করলে নির্বাচনে আসবে। সংলাপ করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার পক্ষে নয় আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্চুক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের ২ জন সদস্য বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি সংলাপের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে কারণ, তারা মনে করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে হলে সরকারের সাথে একটি সংলাপ তাদের জন্য জরুরি। যার ফলে দর কষাকষি করে কিছু আদায় করা সম্ভব হবে। তাই সংলাপ চায় বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে বসলে বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে চাঙ্গা হবে, কৌশলের রাজনীতিতেও এগিয়ে যাবে। সংলাপে জড়িয়ে বিএনপিকে এই সুযোগ কোনোভাবেই করে দেয়া যায় না। অপরদিকে সরকারি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর তিন জন নেতা বলেন, সংলাপ হোক বা না হোক বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। তাই সংলাপ করে তাদের নির্বাচনে আসার সুযোগ আওয়ামী লীগ কেন করে দেবে?

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, যারা বলছেন সংলাপের কথা, তারা নিজেরাও জানেন না কী কারণে সংলাপে বসতে হবে। তিনি বলেন, সব কিছু ভালোমতো চলছে, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তাহলে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তবে ‘আলোচনা বা সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে পারে’ রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য সমর্থন করে জাফরউল্যাহ বলেন, রাজনীতিতে সংলাপ থাকলে সমঝোতা ভালো থাকে। গণতন্ত্রকে মজবুত করার জন্যেই হয়তো রাষ্ট্রপতি সমঝোতার কথা বলেছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর তিন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও মনে করেন বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা মানে তাদের পুনরুজ্জীবিত করা। কিন্তু, তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের নয়। ওই নেতারা জানান, গত ১৪ জানুয়ারি ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার সভায় সংলাপ প্রশ্নে শেখ হাসিনা এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সংলাপে বসে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার মতো কোনো ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নেই।’ তিনি বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক চলছে। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তাহলে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?’ মতিয়া বলেন, ‘যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে, লুটপাট করেছে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসা কতখানি যৌক্তিক হবে, জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এগুলোও আওয়ামী লীগকে ভাবতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনীতি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা, দেশের মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, দুর্নীতি ও লুটপাট করা। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কেন বসবে? তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা মানে বিএনপির ভেতরে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা। আওয়ামী লীগ সে দায়িত্ব কেন নেবে? বিএনপি সংলাপ করতে চাইলে তাদের অতীতের সব অপকর্মের জন্য প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ ভেবে দেখবে সংলাপে বসা যায় কি না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

সংলাপে বসা মানে বিএনপিকে বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে নেয়া

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৭


ঢাকা : ঘুরেফিরে আবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে আলোচনায় উঠে এসেছে সংলাপ। চলমান পরিস্থিতি নিরসনে সংলাপের নতুন এই আওয়াজ তুলেছেন বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বার বার সংলাপের দাবি করে আসছে সরকারের প্রধানবিরোধী শক্তি বিএনপিও। দলটির নীতি-নির্ধারকরা বলেছেন, সরকারবিরোধী দল বিএনপির সাথে সংলাপে বসা মানে বিএনপিকে বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়া। তারা আরো বলেছেন, ইসি গঠন নিয়ে বিএনপি সংলাপ চেয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংলাপের আয়োজন করেছেন। বিএনপিসহ নিবন্ধিত প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলের পরামর্শও গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিএনপির সাথে সংলাপে বসা মানে তাদের খাদের কিনারা থেকে তুলে আনার মতো। তাদের পুনরুজ্জীবিত করা। আর এ দায়িত্ব আওয়ামী লীগের না। বিএনপি জনগণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করলে নির্বাচনে আসবে। সংলাপ করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার পক্ষে নয় আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্চুক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের ২ জন সদস্য বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি সংলাপের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে কারণ, তারা মনে করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে হলে সরকারের সাথে একটি সংলাপ তাদের জন্য জরুরি। যার ফলে দর কষাকষি করে কিছু আদায় করা সম্ভব হবে। তাই সংলাপ চায় বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে বসলে বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে চাঙ্গা হবে, কৌশলের রাজনীতিতেও এগিয়ে যাবে। সংলাপে জড়িয়ে বিএনপিকে এই সুযোগ কোনোভাবেই করে দেয়া যায় না। অপরদিকে সরকারি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর তিন জন নেতা বলেন, সংলাপ হোক বা না হোক বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। তাই সংলাপ করে তাদের নির্বাচনে আসার সুযোগ আওয়ামী লীগ কেন করে দেবে?

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, যারা বলছেন সংলাপের কথা, তারা নিজেরাও জানেন না কী কারণে সংলাপে বসতে হবে। তিনি বলেন, সব কিছু ভালোমতো চলছে, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তাহলে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তবে ‘আলোচনা বা সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে পারে’ রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য সমর্থন করে জাফরউল্যাহ বলেন, রাজনীতিতে সংলাপ থাকলে সমঝোতা ভালো থাকে। গণতন্ত্রকে মজবুত করার জন্যেই হয়তো রাষ্ট্রপতি সমঝোতার কথা বলেছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর তিন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও মনে করেন বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা মানে তাদের পুনরুজ্জীবিত করা। কিন্তু, তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের নয়। ওই নেতারা জানান, গত ১৪ জানুয়ারি ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার সভায় সংলাপ প্রশ্নে শেখ হাসিনা এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সংলাপে বসে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার মতো কোনো ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নেই।’ তিনি বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক চলছে। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তাহলে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?’ মতিয়া বলেন, ‘যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে, লুটপাট করেছে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসা কতখানি যৌক্তিক হবে, জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এগুলোও আওয়ামী লীগকে ভাবতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনীতি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা, দেশের মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, দুর্নীতি ও লুটপাট করা। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কেন বসবে? তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা মানে বিএনপির ভেতরে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা। আওয়ামী লীগ সে দায়িত্ব কেন নেবে? বিএনপি সংলাপ করতে চাইলে তাদের অতীতের সব অপকর্মের জন্য প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ ভেবে দেখবে সংলাপে বসা যায় কি না।