আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: কিশোর ছেলের অকাল মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন ভারতের এক বিচারক। কিন্তু তারপর শোক ভুলে তিনি যেটা করলেন তা অনেক বাবাই পারবেন। হয়ত বিচারক বলেই এতটা সমাজ সচেতনতা দেখানোর সাহস পেয়েছিলেন দিল্লির গুরুগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা আদালতের ওই বিচারক।
সম্প্রতি দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন বিচারকের সহধর্মিনী। গুলিতে ঝাঁঝরা শরীর নিয়ে গত ৫ দিন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছেলে। পরিবার হারানোর শোকের মধ্যেও অঙ্গদান করে নজির গড়লেন ওই বিচারক। ব্রেন ডেথ হওয়া ছেলের লিভার, কিডনি এবং হার্ট হাসপাতালে দান করেছেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে শপিং করতে গিয়েছিলেন ছেলে। নিরাপত্তার জন্য তাদের সঙ্গে ছিল এক নিরাপত্তারক্ষীও। গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৯-এর সামনে বাজারে গাড়ি থেকে নামার পরই বিচারকের স্ত্রী রীতু ও ছেলে ধ্রুবকে লক্ষ্য করে গুলি চালান দেহরক্ষী মহীপাল সিংহ।
ওইদিনই হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিচারকের স্ত্রীর। চিকিৎসকেরা ছেলে ধ্রুবের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন। এরপরও তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। গত ৫ দিন পর মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন ওই বিচারক। কিন্তু তারপরও সমাজের প্রতি নিজের কর্তব্য ভুলে যাননি। হাসপাতালে ছেলের লিভার, কিডনি এবং হার্ট দান করেন।
এদিকে ১৩ অক্টোবর ওই ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বিচারকের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে। তিনি এখনও পুলিশি হেফাজতেই রয়েছেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বিচারকের পরিবার তার ওপর অনেক মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। তারা তাকে অসুস্থ মেয়েকে দেখতে যাওয়ার জন্যও ছুটি দেননি। সে কারণেই তিনি তাদের হত্যা করার জন্য গুলি করেন।
সূত্র: আনন্দবাজার
প্রতিনিধির নাম 






