ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রচার প্রচারণায় ধানের শীষ প্রার্থী এগিয়ে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সামগ্রিক সমীকরণে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ সৈয়দ মো. ফয়সল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, এ আসনে বর্তমান নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকায় ধানের শীষের জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূলে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পরিচিত প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির অবস্থান সুসংহত হয়েছে।  জোটের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘মোমবাতি’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

ভোটারদের দাবি, হবিগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির একটি শক্তিশালী ও ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলেও সৈয়দ মো. ফয়সল সবসময়ই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশাল ভোট পেয়েছিলেন। এবার নৌকা প্রতীক নির্বাচনী মাঠে না থাকায় সেই বড় একটি অংশের ভোট ধানের শীষের বাক্সে যাওয়ার  জুড়ালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চুনারুঘাট ও মাধবপুরের চা-শ্রমিকদের ভোট বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে সৈয়দ ফয়সল বলেন, নৌকা প্রতীক না থাকায় এবার চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষেই রায় দেবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত উন্নয়ন ও সেবা থেকে বঞ্চিত।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে সৈয়দ ফয়সলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। নদী ও খালের ওপর সেতু নির্মাণ, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা এবং সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা জনগণের কাছে তাঁকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা না থাকা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি সৈয়দ ফয়সলকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রেখেছে।  সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিকসহ সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে চুনারুঘাট-মাধবপুর আসনে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় অনেকটা সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রচার প্রচারণায় ধানের শীষ প্রার্থী এগিয়ে

আপডেট সময় : ১১:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সামগ্রিক সমীকরণে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ সৈয়দ মো. ফয়সল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, এ আসনে বর্তমান নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকায় ধানের শীষের জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূলে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পরিচিত প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির অবস্থান সুসংহত হয়েছে।  জোটের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘মোমবাতি’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

ভোটারদের দাবি, হবিগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির একটি শক্তিশালী ও ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলেও সৈয়দ মো. ফয়সল সবসময়ই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশাল ভোট পেয়েছিলেন। এবার নৌকা প্রতীক নির্বাচনী মাঠে না থাকায় সেই বড় একটি অংশের ভোট ধানের শীষের বাক্সে যাওয়ার  জুড়ালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চুনারুঘাট ও মাধবপুরের চা-শ্রমিকদের ভোট বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে সৈয়দ ফয়সল বলেন, নৌকা প্রতীক না থাকায় এবার চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষেই রায় দেবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত উন্নয়ন ও সেবা থেকে বঞ্চিত।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে সৈয়দ ফয়সলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। নদী ও খালের ওপর সেতু নির্মাণ, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা এবং সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা জনগণের কাছে তাঁকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা না থাকা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি সৈয়দ ফয়সলকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রেখেছে।  সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিকসহ সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে চুনারুঘাট-মাধবপুর আসনে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় অনেকটা সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।