
সুনামগন্জ ছাতকে খাদিমুল ইসলামের তাফসির মাহফিল পন্ড করে দেওয়ায় সিলেট উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।২৮ ফেব্রুয়ারি জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ শাহজালাল রহ.মাদরাসায় সিলেটের ক্বওমী মাদরাসার উলামাদের বৈঠকে ইত্তেহাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে বাদ আসর বিক্ষোভ মিছিল এবং পরদিন কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশের কর্মসুচী ঘোষনা করা হয়।বাদ আসর যথারীতি মিছিল অনুষ্টিত হয় এবং নগরীতে খবর ছড়িয়ে পড়ে।ফুলতলী অনুসারীদের মধ্যে সানে রিসালত সঃ মহাসম্মেলন নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।বাদ মাগরিব সিলেট সোবহানীঘাট মাহমুদিয়া মাদরাসায় মিটিংয়ে আসার জন্য দক্ষিণ সুরমা থেকে রওয়ানা দেই,সোবহানী ঘাট একটি রেষ্টুরেন্টে চা খেতে বসি।এসময় মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ এবং মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী কে পেলাম।চা খেতে বসা থাকা অবস্হায় আল ইসলাহ সিলেট মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা আজির উদ্দীন পাশা (সে আমার আপন ভাতিজা)আমাকে ফোন দেয় আমি এই রেষ্টুরেন্টে আসার জন্য বললে সে অল্প সময়ের মধ্যেই মুল্লারগাও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মখন মিয়া এবং কাচা বাজার মার্কেটের সভাপতি কে সাথে নিয়ে চলে আসে।উদ্ভুদ পরিস্থিতি কি ভাবে শান্ত করা যায়,সমঝোতার প্রস্হাবে করেন।আমরা উত্তর দেই এটা মুরব্বী আলেম গন বলতে পারবেন।চেয়ারম্যান এবং পাশা আমাদের কে অনুরোধ করেন মুরব্বীদের সাথে তাদের একটি যোগাযোগের ব্যাবস্হা যেন করে দেই।আমরা সোবহানীঘাট মাহমুদিয়া মাদরাসায় এসে মাওলানা রেজাউল করিম জালালী কে তাদের দেওয়া সমঝোতা প্রস্হাব শোনালে তিনি আনন্দচিত্তে গ্রহণ করে পরদিন ১ মার্চ সকাল ৮ ঘটিকার সময় সোবহানী ঘাট চলে আসার জন্য পরামর্শ দেন।আমরা কথামত পরদিন সকালে চলে আসি আমি দরগাহ মাদরাসায় চলে যাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আহবায়ক দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া দাঃ বাঃ কে সোবহানীঘাট মাহমুদিয়ায় নেওয়ার জন্য আসি।গাছবাড়ী হুযুর কে আনার জন্য মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী আনতে যান,কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান সাহেব কে আনার জন্য মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ যান,প্রায় পৌনে দশটার সময় আমকুনী হুযুর সহ এই মুরব্বিগন মাহমুদিয়ায় এসে হাজির হন।পরামর্শ বৈঠক হয় সকল মুরব্বীগন একমত পোষন করেন সমঝোতা প্রক্রিয়ায়।এ সময় আমকুনী হুযুর বলেন গত রাতে শেখ মখন মিয়া চেয়ারম্যান হুযুর কে ফোন দিয়ে সমঝোতার প্রস্হাব করেছেন।তিনি ১১ ঘটিকার সময় মাহমুদিয়া মাদরাসায় তাদের কে আসার জন্য বলেছেন।এ সময় গাছবাড়ী হুযুর আমকুনী সাহেব কে সকলের পক্ষ থেকে কথা বলার জন্য দায়িত্ব দিয়ে চলে যান।সাড়ে ১১ টার সময় তাদের ৫/৬ জনের প্রতিনিধি দল মাহমুদিয়ায় আসেন।এই দলে ছিলেন শেখ মখন মিয়া চেয়ারম্যান,আল ইসলাহ মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা আজির উদ্দীন পাশা, এডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিক আরেকজন চেয়ারম্যান( নাম জানা নেই)কাচা বাজার এর সভাপতি এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম।দফতরে দীর্ঘ আলোচনা হয় এ বৈঠকে মাওলানা রেজাউল করিম জালালী এবং আমরা ৩ জন উপস্হিত ছিলাম।আমকুনী হুযুর রাতে বৈঠকের পর সমঝোতার প্রক্রিয়া বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে বৈঠক সমাপ্ত হয়।বাদ মগরিব সোবহানীঘাট মাহমুদিয়া মাদরাসায় নিয়মিত বৈঠক হয়।
এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কিভাবে এবং কতটুকু জড়িত ছিলাম তা সংক্ষপে উল্লেখ করলাম।
অবশেষে মুরব্বী হযরাতদের হস্তক্ষেপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে সিলেটেবাসী রক্ষা পেলেন।আল্লাহ সকল কে সুমতি দান করুন।
মাওলানা মাহমুদুল হাসান
২ মার্চ ২০১৭ ইং
প্রতিনিধির নাম 




