ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই!

রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই!
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার


রোহিঙ্গাদের ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইন প্রদেশের একটি সীমান্ত গেট খুলে যাওয়ার পর অনেক রোহিঙ্গাই দেশে ফিরে যাচ্ছেন। আবার মিয়ানমার থেকে নতুন করে অনেকেই আসছেন বাংলাদেশে। দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে অনেক রোহিঙ্গা স্বদেশে ফেরত গেলেও বাংলাদেশে তাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, এসব ক্যাম্প থেকে দুই শতাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক বলেন, ‘দুই দিন আগে কুতুপালং ক্যাম্প থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত গেছেন। ফেরত যাওয়া এসব রোহিঙ্গা পরিবার-পরিজন ফেলে একাই পালিয়ে এসেছিলেন। দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারে। কারণ, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে সেনা অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও এখনও নির্যাতন কমেনি। প্রতিটি গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কুতুপালং ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথা বিশ্বাসযোগ্য না। কারণ, রাখাইন থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরও মংডুর ঝিমংখালি গ্রামের ৩টি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর গত দুই দিনে দুই শতাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।’
টেকনাফ লেদা অনিবন্ধিত ক্যাম্পের চেয়ারম্যান দুদু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এক সপ্তাহে আগে ওই ক্যাম্প থেকে ৩০-৪০ জন রোহিঙ্গা ফেলে আসা স্বজনদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য মিয়ানমারে ফেরত গিয়েছে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার লালু মেম্বার ও স্থানীয় মুদি দোকানদার মোহাম্মদ হোসেন জানান, দু’দিন আগে ৩০-৩৫ জনকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে তারা যেতে দেখেছেন। শিশুদের নিয়ে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে এপারে আসতেও দেখেছেন তারা।
এ বিষয়ে টেকনাফ ২নং বিজিবি’র অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ বলেন, ‘শুনেছি গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরে গেছে। তবে কিভাবে গেছে এবং কেন গেছে তা পরিষ্কার নয়।’ তার ধারণা, মিয়ানমারে সেনা অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা শুনে তারা ফিরে যেতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এশিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়া এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে মিয়ানমার। তবে অনেক রোহিঙ্গার মতে, এটা মিয়ানমার সরকারের এক ধরনের ‘রণকৌশল’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই!

আপডেট সময় : ০২:১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই!
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার


রোহিঙ্গাদের ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইন প্রদেশের একটি সীমান্ত গেট খুলে যাওয়ার পর অনেক রোহিঙ্গাই দেশে ফিরে যাচ্ছেন। আবার মিয়ানমার থেকে নতুন করে অনেকেই আসছেন বাংলাদেশে। দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গাদের আসা-যাওয়া চলছেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে অনেক রোহিঙ্গা স্বদেশে ফেরত গেলেও বাংলাদেশে তাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, এসব ক্যাম্প থেকে দুই শতাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক বলেন, ‘দুই দিন আগে কুতুপালং ক্যাম্প থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত গেছেন। ফেরত যাওয়া এসব রোহিঙ্গা পরিবার-পরিজন ফেলে একাই পালিয়ে এসেছিলেন। দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারে। কারণ, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে সেনা অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও এখনও নির্যাতন কমেনি। প্রতিটি গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কুতুপালং ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথা বিশ্বাসযোগ্য না। কারণ, রাখাইন থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরও মংডুর ঝিমংখালি গ্রামের ৩টি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর গত দুই দিনে দুই শতাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।’
টেকনাফ লেদা অনিবন্ধিত ক্যাম্পের চেয়ারম্যান দুদু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এক সপ্তাহে আগে ওই ক্যাম্প থেকে ৩০-৪০ জন রোহিঙ্গা ফেলে আসা স্বজনদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য মিয়ানমারে ফেরত গিয়েছে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার লালু মেম্বার ও স্থানীয় মুদি দোকানদার মোহাম্মদ হোসেন জানান, দু’দিন আগে ৩০-৩৫ জনকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে তারা যেতে দেখেছেন। শিশুদের নিয়ে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে এপারে আসতেও দেখেছেন তারা।
এ বিষয়ে টেকনাফ ২নং বিজিবি’র অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ বলেন, ‘শুনেছি গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরে গেছে। তবে কিভাবে গেছে এবং কেন গেছে তা পরিষ্কার নয়।’ তার ধারণা, মিয়ানমারে সেনা অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা শুনে তারা ফিরে যেতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এশিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়া এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে মিয়ানমার। তবে অনেক রোহিঙ্গার মতে, এটা মিয়ানমার সরকারের এক ধরনের ‘রণকৌশল’।