ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসহ মোট ছয়টি অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ ছাড়াও তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে– কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন দিক অনুমোদিত খসড়ায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হয়রানিও এই আইনের আওতায় আসবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কমিটি গঠিত হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন

আপডেট সময় : ১২:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসহ মোট ছয়টি অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ ছাড়াও তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে– কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন দিক অনুমোদিত খসড়ায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হয়রানিও এই আইনের আওতায় আসবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কমিটি গঠিত হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।