ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মাহমুদ আজম ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান

যে ছোট্ট আমলে আপনিও পেতে পারেন রাসুল (সা.)-এর সুপারিশ

কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় পাওয়ার আশা কার নেই। সেই দিন কারো পক্ষেই কারও উপকার করা সম্ভব হবে না; আর প্রতিটি মুমিনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যেন তার জন্য সুপারিশ করেন। সৌভাগ্যের বিষয় হলো— মহানবী (সা.) নিজেই আমাদের এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে দিয়েছেন, যা করলে তার শাফাআত (সুপারিশ) আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে যাবে। এটি কোনো কঠিন আমল নয়— বরং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজানের পর মাত্র কয়েক মুহূর্তের ছোট্ট একটি আমল। এই ছোট্ট আমলই এনে দেবে আখিরাতের বিশাল সৌভাগ্য। সে আমল হলো- আজানের পর তার প্রতি দরূদ পাঠ করা এবং তার জন্য ‘ওসিলা’ কামনা করা।

আসুন, সেই মহামূল্যবান আমলটি নতুন করে বুঝে নিই, হৃদয়ে ধারণ করি এবং জীবনভর তা পালন করি-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দা’ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াসসালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াব্আছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআ’দ্তাহ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই প্রভু! তুমি মুহাম্মাদকে (সা.) দান কর ওসিলা; সুমহান মর্যাদা ও তাকে (মাক্বামে মাহমুদ) প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার ওয়াদা তুমি তাকে দিয়েছ।’

হাদিসের বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন-

‘তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনলে উত্তরে সে শব্দগুলোরই পুনরাবৃত্তি করবে। আজান শেষে আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে। কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে (এর পরিবর্তে) আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। এরপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ‘ওসিলা’ প্রার্থনা করবে। ‘ওয়াসিলা’ হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন পাবেন। আর আমার আশা এ বান্দা আমিই হব। তাই যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওসিলা’র দোয়া করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করা আমার জন্য ওয়াজিব হয়ে পড়বে।’ (মুসলিম ৩৮৪, আবু দাউদ ৫২৩, নাসাঈ ৬৭৮, তিরমিজি ৩৬১৪, ইবনু হিব্বান ১৬৯০, ইরওয়া ২৪২, আল জামি‘ ৬১৩)

সুতরাং আজানের পর করণীয় তিনটি সুন্নাহ-

১. মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ বলা

২. নবীজি (সা.)-এর উপর দরুদ পাঠ করা

৩. নবীজি (সা.)-এর জন্য ‘ওসিলা’ কামনায় আজানের পর উপরোল্লিখিত দোয়া পড়া

আজানের পরের এই ছোট দোয়াটি শুধু শব্দ নয়— এটি হলো আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, এটি হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য তার প্রতি শুভকামনা এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের জন্য আখিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অপূর্ব আমল। কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে যখন প্রত্যেকে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে ঠিক তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি বলেন, ‘এই আমার উম্মত… এই আমার সুপারিশের অধিকারী’ এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে? তাই আজানের পরের মুহূর্তটিকে কখনো মূল্যহীন মনে করবো না। কারণ কয়েক সেকেন্ডের দোয়া ও আমল আপনার আখিরাতের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই প্রতিবার আজানের পর ওসিলার দোয়া পড়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠুক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীজি (সা.)-এর সুপারিশের যোগ্য বানান। আমিন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মশা যখন জাতীয় সমস্যা: তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যকর প্রতিরোধের পথ লেখক: তাজ উদ্দীন

যে ছোট্ট আমলে আপনিও পেতে পারেন রাসুল (সা.)-এর সুপারিশ

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় পাওয়ার আশা কার নেই। সেই দিন কারো পক্ষেই কারও উপকার করা সম্ভব হবে না; আর প্রতিটি মুমিনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যেন তার জন্য সুপারিশ করেন। সৌভাগ্যের বিষয় হলো— মহানবী (সা.) নিজেই আমাদের এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে দিয়েছেন, যা করলে তার শাফাআত (সুপারিশ) আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে যাবে। এটি কোনো কঠিন আমল নয়— বরং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজানের পর মাত্র কয়েক মুহূর্তের ছোট্ট একটি আমল। এই ছোট্ট আমলই এনে দেবে আখিরাতের বিশাল সৌভাগ্য। সে আমল হলো- আজানের পর তার প্রতি দরূদ পাঠ করা এবং তার জন্য ‘ওসিলা’ কামনা করা।

আসুন, সেই মহামূল্যবান আমলটি নতুন করে বুঝে নিই, হৃদয়ে ধারণ করি এবং জীবনভর তা পালন করি-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দা’ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াসসালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াব্আছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআ’দ্তাহ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই প্রভু! তুমি মুহাম্মাদকে (সা.) দান কর ওসিলা; সুমহান মর্যাদা ও তাকে (মাক্বামে মাহমুদ) প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার ওয়াদা তুমি তাকে দিয়েছ।’

হাদিসের বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন-

‘তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনলে উত্তরে সে শব্দগুলোরই পুনরাবৃত্তি করবে। আজান শেষে আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে। কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে (এর পরিবর্তে) আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। এরপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ‘ওসিলা’ প্রার্থনা করবে। ‘ওয়াসিলা’ হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন পাবেন। আর আমার আশা এ বান্দা আমিই হব। তাই যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওসিলা’র দোয়া করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করা আমার জন্য ওয়াজিব হয়ে পড়বে।’ (মুসলিম ৩৮৪, আবু দাউদ ৫২৩, নাসাঈ ৬৭৮, তিরমিজি ৩৬১৪, ইবনু হিব্বান ১৬৯০, ইরওয়া ২৪২, আল জামি‘ ৬১৩)

সুতরাং আজানের পর করণীয় তিনটি সুন্নাহ-

১. মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ বলা

২. নবীজি (সা.)-এর উপর দরুদ পাঠ করা

৩. নবীজি (সা.)-এর জন্য ‘ওসিলা’ কামনায় আজানের পর উপরোল্লিখিত দোয়া পড়া

আজানের পরের এই ছোট দোয়াটি শুধু শব্দ নয়— এটি হলো আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, এটি হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য তার প্রতি শুভকামনা এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের জন্য আখিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অপূর্ব আমল। কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে যখন প্রত্যেকে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে ঠিক তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি বলেন, ‘এই আমার উম্মত… এই আমার সুপারিশের অধিকারী’ এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে? তাই আজানের পরের মুহূর্তটিকে কখনো মূল্যহীন মনে করবো না। কারণ কয়েক সেকেন্ডের দোয়া ও আমল আপনার আখিরাতের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই প্রতিবার আজানের পর ওসিলার দোয়া পড়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠুক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীজি (সা.)-এর সুপারিশের যোগ্য বানান। আমিন।