ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

মৃত্যু আর্তনাদের মধ্যেই হতাহতদের সব কিছু লুট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬২ জন।কারও হাত-পা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েও সাহায্যের জন্য কাতরাচ্ছেন। ছুটে এসে অনেকে সাহায্যও করছেন। কিন্তু বিপর্যয়ের মধ্যেও সুযোগ সন্ধানী কেউ কেউ। মৃত ও আহতদের পকেট হাতড়ে বের করে নিচ্ছেন টাকা-পয়সা। খুলে নিচ্ছেন সোনার হার বা আংটি। কেউ বা হাত থেকে ছিটকে পড়া দামি মোবাইল তুলে নিচ্ছেন নিজের পকেটে।

অমৃতসরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এমন ছবি কোনো ক্যামেরায় ধরা না পড়লেও এমন বর্ণনা এসেছে মৃতদের স্বজন ও আহতদের কাছ থেকে।সতের বছরের ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা জ্যোতি কুমারী জানান, ছেলে সবসময় গলায় সোনার চেন পরে থাকত। কিন্তু যখন লাশ সরকারি হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়, তখন সেই চেন উধাও।

জ্যোতি কুমারীর প্রশ্ন- ২০ হাজার টাকা দামের মোবাইল না হয় ছিটকে যেতে পারে, কিন্তু পকেটের মানিব্যাগ ও সোনার চেন কোথায় গেল?

কমল কুমারের ১৯ বছরের ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন অনুষ্ঠান দেখতে। কিন্তু কাঁধে করে যখন তার বন্ধুরা তার লাশ নিয়ে আসে তখন তার দামি মোবাইলের কোনো হদিস নেই, জানান কমল কুমার।

ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে রাবণ পোড়ানো দেখতে গিয়েছিলেন দীপক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। মেয়ে ফেরেনি। বাবা-ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে।তার মধ্যেও হাসপাতালেই দীপক জানালেন, ট্রেনের ধাক্কায় নড়াচড়া তো দূরে থাক, সাহায্যের জন্য চিৎকারও করতে পারছিলাম না। এর মধ্যেই একজন এসে পকেট হাতড়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা যা ছিল, সব নিয়ে চলে গেল।

চারদিকে কার্যত লাশের স্তূপ।বাঁচার জন্য আর্তনাদ,গোঙানি ও চিৎকার।এর মধ্যেও যে কেউ এত নিষ্ঠুর হতে পারে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মৃতদের পরিজন ও আহতরা।আবার দুর্ঘটনার পরও সেলফি, ভিডিও তোলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে লিখেছেন- কি ভয়ানক অমানবিক দৃশ্য! দুর্ঘটনার পরও লোকজন দাঁড়িয়ে ছবি, ভিডিও ও সেলফি তুলছেন!

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

মৃত্যু আর্তনাদের মধ্যেই হতাহতদের সব কিছু লুট!

আপডেট সময় : ০২:২০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: অমৃতসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬২ জন।কারও হাত-পা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েও সাহায্যের জন্য কাতরাচ্ছেন। ছুটে এসে অনেকে সাহায্যও করছেন। কিন্তু বিপর্যয়ের মধ্যেও সুযোগ সন্ধানী কেউ কেউ। মৃত ও আহতদের পকেট হাতড়ে বের করে নিচ্ছেন টাকা-পয়সা। খুলে নিচ্ছেন সোনার হার বা আংটি। কেউ বা হাত থেকে ছিটকে পড়া দামি মোবাইল তুলে নিচ্ছেন নিজের পকেটে।

অমৃতসরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এমন ছবি কোনো ক্যামেরায় ধরা না পড়লেও এমন বর্ণনা এসেছে মৃতদের স্বজন ও আহতদের কাছ থেকে।সতের বছরের ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা জ্যোতি কুমারী জানান, ছেলে সবসময় গলায় সোনার চেন পরে থাকত। কিন্তু যখন লাশ সরকারি হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়, তখন সেই চেন উধাও।

জ্যোতি কুমারীর প্রশ্ন- ২০ হাজার টাকা দামের মোবাইল না হয় ছিটকে যেতে পারে, কিন্তু পকেটের মানিব্যাগ ও সোনার চেন কোথায় গেল?

কমল কুমারের ১৯ বছরের ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন অনুষ্ঠান দেখতে। কিন্তু কাঁধে করে যখন তার বন্ধুরা তার লাশ নিয়ে আসে তখন তার দামি মোবাইলের কোনো হদিস নেই, জানান কমল কুমার।

ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে রাবণ পোড়ানো দেখতে গিয়েছিলেন দীপক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। মেয়ে ফেরেনি। বাবা-ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে।তার মধ্যেও হাসপাতালেই দীপক জানালেন, ট্রেনের ধাক্কায় নড়াচড়া তো দূরে থাক, সাহায্যের জন্য চিৎকারও করতে পারছিলাম না। এর মধ্যেই একজন এসে পকেট হাতড়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা যা ছিল, সব নিয়ে চলে গেল।

চারদিকে কার্যত লাশের স্তূপ।বাঁচার জন্য আর্তনাদ,গোঙানি ও চিৎকার।এর মধ্যেও যে কেউ এত নিষ্ঠুর হতে পারে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মৃতদের পরিজন ও আহতরা।আবার দুর্ঘটনার পরও সেলফি, ভিডিও তোলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে লিখেছেন- কি ভয়ানক অমানবিক দৃশ্য! দুর্ঘটনার পরও লোকজন দাঁড়িয়ে ছবি, ভিডিও ও সেলফি তুলছেন!