ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ঢাকা : মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ৬৬ বছর বয়সে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে এইদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯১৮ সালের পয়েলা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এম এ ওসমানী। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন। তার পিতৃপুরুষের বাড়ি বালাগঞ্জ থানার বর্তমানে ওসমানীনগর থানা দয়ামীরে। খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছেলে ওসমানী।

পিতার চাকরির সুবাদে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। ১৯২৩ সালে জেনারেল ওসমানীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯২৯ সালে আসামের কটন স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি অসাধারণ নম্বর পেয়ে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করে অসাধারণ ফলাফলের জন্য প্রিটোরিয়া পুরস্কার লাভ করেন। মেট্রিক পাস করার পর তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ওসমানী আইএ ও বিএ পাস করে এম এ ১ম পর্ব শেষ করেন। ইতোমধ্যে তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ওসমানী বৃটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমী দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন।

এরপর দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ওসমানী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে লং কোর্স পরীক্ষা দিয়ে উচ্চস্থান লাভ দেশবিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এসময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেন৷

১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ববাংলার আরো কয়েকটি আঞ্চলিক স্টেশনের দায়িত্বও তিনি সফলতার সঙ্গে পালন করেন৷ পরবর্তীকালে তিনি ১৪তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এর ৯ম ব্যাটেলিয়ানের রাইফেলস কোম্পানির পরিচালক, (ই.পি.আর.)-এর অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন৷ পাক-ভারত যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন তার বয়স চল্লিশের উপরে৷ ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ থানার সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তানের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা থেকে তার নিকট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জাতির সংকটময় মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার স্বার্থে একটি সেনাবাহিনী, একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। চরম বিপর্যয়ের মোকাবিলায় অসম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ বিজয়ের দিকে ধাবিত করেন।

জাতির প্রতি তার চরম ত্যাগ ও মহান সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্নেল ওসমানী পি.এম.সি.কে জেনারেল পদে উন্নীত করেন। ১৯৭২ সালের ৭ই এপ্রিল হতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি সামরিক বাহিনী থেকে ছুটি নেন এবং বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে পরিষদের আসন গ্রহণ করেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও আজীবন গণতন্ত্রী জেনারেল ওসমানী ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য একটি সুষ্ঠু নৌ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মুহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দু’বার মন্ত্রী হন এবং ১৯৭৪ সালের পয়েলা মে তিনি একযোগে মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে এবং বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ থেকেও পদত্যাগ করেন।

১৯৭৫ সালের ২৯শে আগস্ট তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের অনুরোধে প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করলে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ গঠন করেন। তিনি ১৯৭৮ এবং ১৯৮১ সালে মোট দু’বার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট জেনারেল ওসমানী চিরকুমার থেকেও রাজনীতি থেকে তথা জনগণের কল্যাণে কখনো সরে দাঁড়াননি। আজীবন সংগ্রামী এই মহান বীর এর শেষের জীবনে স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছিল না তার সার্বিক সুচিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর এই মহান নেতা ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬৬ বৎসর বয়সে লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছামত তাকে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এই মহান নেতার সুবিশাল কর্মময়জীবন ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ওসমানী উদ্যান’ ‘ওসমানী মেমোরিয়াল হল’, সিলেট এম, এ ,জি ওসমানী হাসপাতাল, ‘ওসমানী জাদুঘর এবং ওসমানী বিমানবন্দর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ০৮:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ঢাকা : মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ৬৬ বছর বয়সে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে এইদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯১৮ সালের পয়েলা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এম এ ওসমানী। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন। তার পিতৃপুরুষের বাড়ি বালাগঞ্জ থানার বর্তমানে ওসমানীনগর থানা দয়ামীরে। খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছেলে ওসমানী।

পিতার চাকরির সুবাদে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। ১৯২৩ সালে জেনারেল ওসমানীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯২৯ সালে আসামের কটন স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি অসাধারণ নম্বর পেয়ে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করে অসাধারণ ফলাফলের জন্য প্রিটোরিয়া পুরস্কার লাভ করেন। মেট্রিক পাস করার পর তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ওসমানী আইএ ও বিএ পাস করে এম এ ১ম পর্ব শেষ করেন। ইতোমধ্যে তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ওসমানী বৃটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমী দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন।

এরপর দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ওসমানী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে লং কোর্স পরীক্ষা দিয়ে উচ্চস্থান লাভ দেশবিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এসময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেন৷

১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ববাংলার আরো কয়েকটি আঞ্চলিক স্টেশনের দায়িত্বও তিনি সফলতার সঙ্গে পালন করেন৷ পরবর্তীকালে তিনি ১৪তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এর ৯ম ব্যাটেলিয়ানের রাইফেলস কোম্পানির পরিচালক, (ই.পি.আর.)-এর অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ অফিসার প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন৷ পাক-ভারত যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন তার বয়স চল্লিশের উপরে৷ ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ থানার সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তানের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা থেকে তার নিকট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জাতির সংকটময় মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার স্বার্থে একটি সেনাবাহিনী, একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। চরম বিপর্যয়ের মোকাবিলায় অসম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ বিজয়ের দিকে ধাবিত করেন।

জাতির প্রতি তার চরম ত্যাগ ও মহান সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্নেল ওসমানী পি.এম.সি.কে জেনারেল পদে উন্নীত করেন। ১৯৭২ সালের ৭ই এপ্রিল হতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি সামরিক বাহিনী থেকে ছুটি নেন এবং বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে পরিষদের আসন গ্রহণ করেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও আজীবন গণতন্ত্রী জেনারেল ওসমানী ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য একটি সুষ্ঠু নৌ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মুহাম্মদ আতাউল গণী ওসমানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দু’বার মন্ত্রী হন এবং ১৯৭৪ সালের পয়েলা মে তিনি একযোগে মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে এবং বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ থেকেও পদত্যাগ করেন।

১৯৭৫ সালের ২৯শে আগস্ট তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের অনুরোধে প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করলে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে পদত্যাগ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ গঠন করেন। তিনি ১৯৭৮ এবং ১৯৮১ সালে মোট দু’বার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট জেনারেল ওসমানী চিরকুমার থেকেও রাজনীতি থেকে তথা জনগণের কল্যাণে কখনো সরে দাঁড়াননি। আজীবন সংগ্রামী এই মহান বীর এর শেষের জীবনে স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছিল না তার সার্বিক সুচিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর এই মহান নেতা ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬৬ বৎসর বয়সে লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছামত তাকে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এই মহান নেতার সুবিশাল কর্মময়জীবন ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ওসমানী উদ্যান’ ‘ওসমানী মেমোরিয়াল হল’, সিলেট এম, এ ,জি ওসমানী হাসপাতাল, ‘ওসমানী জাদুঘর এবং ওসমানী বিমানবন্দর।