
মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা : ২০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৫ টায় নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল খিলগাঁও থানার সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনি ও নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদলের নেতা মাহবুবুর রহমান বাপ্পির ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাপ্পির বড় বোন ঝুমুর বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে গত বছর রোজার মাসে আমার বাবা আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়েছে। যেদিন আমার ভাইকে আমাদের লালবাগ বাসার ভিতরে ঢুকে নির্দয়ভাবে পুলিশ রক্তাক্ত করে ফেলে রাখে। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। সেই সময় আমার শিশু কন্যা হ্যাপী আক্তার সুমনীও আহত হয়েছিল। সে ২০ দিন কোন কথাও বলতে পারছিল না। আমার মা-বাবাকে সেদিন পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছিল, আমাকেও ছাড়েনি। পরবর্তী সময়ে আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে ছেড়ে দিলেও আমি ৬ মাস কারান্তরীণ ছিলাম। সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজো বুকে হাহাকার করে ওঠে। ঐ দৃশ্য ভোলা যায় না। কি নির্মম কি নৃশংস বলে বোঝানো যায় না। ভাই হারিয়েছি, বছর ঘুরতে না ঘুরতে বাবা হারিয়েছি এখন আমাদের পাশে আর কেউ নেই। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। নুরুজ্জামান জনির পিতা মো: ইয়াকুব আলী কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমার সামনে যখন আমার নাতি নহর ঘোরে তখন আমি তার বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে কোন জবাব দিতে পারি না। এই দিনটি দেখার জন্যই কি বেঁচে আছি। বাবা হয়ে আমি সহ্য করতে পারছি না। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোন অন্যায় করেনি। শুধুমাত্র ছাত্রদল করার কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রদল কি নিষিদ্ধ কোন সংগঠন? যার কারণে তাকে এভাবে হত্যা করে র্যাব সদস্যরা পার পেয়ে গেলো। আমার ছেলে হত্যার কয়েক মাস পর আমার পুত্রবধু মনিষার কোল জুড়ে নহর এসেছে। নহর পৃথিবীতে এসেই তার বাবাকে হারিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে এটুকুই চাই কোন সন্তান যেন তার বাবাকে পৃথিবীতে আসার আগে না হারাই। এভাবেই তিনি তার কষ্টের কথা বলছিলেন। ছাত্রদল পূর্ব আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এছাড়াও নুরুজ্জামান জনির খিলগাঁও বাসভবনে দরিদ্রদের মাঝে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খাবার বিতরণ করা হয় এবং মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মনিষা বলেন, আমি আমার স্বামী হারিয়েছি। সন্তানের স্মৃতি নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। এভাবে অকালে জীবন সংগ্রামে নিজেকে ধাবিত করতে হবে কোনদিনও বুঝতে পারিনি। আজ জনির দুই বছর চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারছি আমি কতবড় একজন মানুষকে হারিয়েছিলাম। তিনি বলেন, আপনারা সবাই আমার জনির জন্য দোয়া করবেন। সে যেন জান্নাতবাসী হন। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি জনি ও বাপ্পিকে নৃশংসভাবে র্যাব হত্যা করে। নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী তৎকালীন গৃহবন্দী ২০ দলীয় জোটনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে এলে পুলিশ তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং গুলশান থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মনিষাকে ছেড়ে দিলেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশীতাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে সে জামিনে থাকলেও এখনো প্রতি মাসে সেই মামলায় আদালতে হাজির হতে হয়।
সংবাদ শিরোনাম ::
পুত্রশোকে পিতার মৃত্যু হয়েছে
-
প্রতিনিধির নাম - আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৭
- 619
ট্যাগস :
