ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

পিলখানার হত্যাকাণ্ড >>‘মা হয়ে বাবার জীবন্ত মুখটা ছেলেকে চেনাতে পারিনি


অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে জানতেন না মেজর মো. মমিনুল ইসলাম সরকার। ছেলে হলে নাম কী রাখবেন আর মেয়ে হলেই বা কী রাখবেন, তা ঠিক করে রেখেছিলেন। তবে সন্তান জন্মের ঠিক ১১ দিন আগে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে (পিলখানা) বিপথগামী কিছু বিডিআর জওয়ানের হামলায় নিহত হন মমিনুল ইসলাম।
স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১১ দিন পরই ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন মমিনুলের স্ত্রী সানজানা সোনিয়া জুবাইদা। বাবার পছন্দ অনুযায়ী ছেলের নাম রাখেন তিনি সাদাকাত সাবরি বিন মমিন।

সাদাকাত বাবাকে কখনো দেখেনি। যে ঘটনার জন্য সাদাকাতের বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তেমন ঘটনাও বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমৃত্যু বাবার দায়িত্ব পালনের গৌরব ও প্রবল দেশাত্মবোধের আদর্শের কথা শুনে শুনে ৮টি বছর পার করেছে সাদাকাত।
পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত অন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মো. মমিনুল ইসলাম সরকারকেও দাফন করা হয়েছে বনানীর সামরিক কবরস্থানে।
শনিবার সকালে মা-ফুফু ও খালা-খালুদের সঙ্গে বাবার স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় সাদাকাত।
সাদাকাত তার মায়ের সঙ্গে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে থাকে। জন উইলসন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র সে।
শনিবার দুপুরে সামরিক কবরস্থানে সাদাকাত জাগো নিউজকে বলে, ‘আমার আব্বুকে আমি দেখিইনি। আমার ‘সাদাকাত’ নামটি আব্বুই ঠিক করে গিয়েছিল। আমি ভীষণ মিস করছি আব্বুকে। বড় হলে আমিও বাবার মতো সেনা অফিসার হবো।’
মা সানজানা সোনিয়া জুবাইদা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় স্বামীকে হারিয়েছি। মা হয়ে জন্মদাতা বাবার জীবন্ত মুখ ছেলেকে চেনাতে পারিনি। এ যে ভীষণ কষ্টের তা ক’জনই বা বোঝে।’
তিনি আরো বলেন, একেকটা দিন পাথর চাপা কষ্ট নিয়ে ছেলেকে তিলে তিলে বড় করেছি। আগামী ৭ মার্চে ৯ বছরে পা দেবে সাদাকাত। ওকে সব সময় পজিটিভ কথায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করি। যাতে করে ওর মধ্যে বাবার নির্মম বিদায়ের কোনো ছাপ না পড়ে।
সানজানা বলেন, বাবা হত্যার বিষয়ে কিংবা বিচারের বিষয়ে কোনো কথাই সাদাকাতকে বলি না। তবুও প্রায়ই সাদাকাত বলে ওঠে, আমি আর্মি অফিসার হবো। বাবার মতো। বাবাকে যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে এনে গুলি করে মারবো।
স্বামী হত্যার বিচার প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বলতা রয়েছে বলেই বিচারে এতো সময় লাগছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

পিলখানার হত্যাকাণ্ড >>‘মা হয়ে বাবার জীবন্ত মুখটা ছেলেকে চেনাতে পারিনি

আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে জানতেন না মেজর মো. মমিনুল ইসলাম সরকার। ছেলে হলে নাম কী রাখবেন আর মেয়ে হলেই বা কী রাখবেন, তা ঠিক করে রেখেছিলেন। তবে সন্তান জন্মের ঠিক ১১ দিন আগে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে (পিলখানা) বিপথগামী কিছু বিডিআর জওয়ানের হামলায় নিহত হন মমিনুল ইসলাম।
স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১১ দিন পরই ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন মমিনুলের স্ত্রী সানজানা সোনিয়া জুবাইদা। বাবার পছন্দ অনুযায়ী ছেলের নাম রাখেন তিনি সাদাকাত সাবরি বিন মমিন।

সাদাকাত বাবাকে কখনো দেখেনি। যে ঘটনার জন্য সাদাকাতের বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তেমন ঘটনাও বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমৃত্যু বাবার দায়িত্ব পালনের গৌরব ও প্রবল দেশাত্মবোধের আদর্শের কথা শুনে শুনে ৮টি বছর পার করেছে সাদাকাত।
পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত অন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মো. মমিনুল ইসলাম সরকারকেও দাফন করা হয়েছে বনানীর সামরিক কবরস্থানে।
শনিবার সকালে মা-ফুফু ও খালা-খালুদের সঙ্গে বাবার স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় সাদাকাত।
সাদাকাত তার মায়ের সঙ্গে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে থাকে। জন উইলসন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র সে।
শনিবার দুপুরে সামরিক কবরস্থানে সাদাকাত জাগো নিউজকে বলে, ‘আমার আব্বুকে আমি দেখিইনি। আমার ‘সাদাকাত’ নামটি আব্বুই ঠিক করে গিয়েছিল। আমি ভীষণ মিস করছি আব্বুকে। বড় হলে আমিও বাবার মতো সেনা অফিসার হবো।’
মা সানজানা সোনিয়া জুবাইদা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় স্বামীকে হারিয়েছি। মা হয়ে জন্মদাতা বাবার জীবন্ত মুখ ছেলেকে চেনাতে পারিনি। এ যে ভীষণ কষ্টের তা ক’জনই বা বোঝে।’
তিনি আরো বলেন, একেকটা দিন পাথর চাপা কষ্ট নিয়ে ছেলেকে তিলে তিলে বড় করেছি। আগামী ৭ মার্চে ৯ বছরে পা দেবে সাদাকাত। ওকে সব সময় পজিটিভ কথায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করি। যাতে করে ওর মধ্যে বাবার নির্মম বিদায়ের কোনো ছাপ না পড়ে।
সানজানা বলেন, বাবা হত্যার বিষয়ে কিংবা বিচারের বিষয়ে কোনো কথাই সাদাকাতকে বলি না। তবুও প্রায়ই সাদাকাত বলে ওঠে, আমি আর্মি অফিসার হবো। বাবার মতো। বাবাকে যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে এনে গুলি করে মারবো।
স্বামী হত্যার বিচার প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বলতা রয়েছে বলেই বিচারে এতো সময় লাগছে।