ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

ধর্মঘট প্রত্যাহারে যে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:: দুই চালকের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। এ ধর্মঘট প্রত্যাহারে ১২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে এজন্য যা করণীয় তা করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কয়েকজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘বিকালের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখতে চাই আমি’। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে ডাকা এ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয় চারদিকে। এ অবস্থায় বুধবার সকালে ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য ১২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী। সকালেই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ডেকে এ সময় বেঁধে দিয়ে যা করণীয় তা করতেও নির্দেশ দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জন মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর তাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, ‘এরপরই আমরা ধমর্ঘট প্রত্যাহার নিয়ে দফায় দফায় সংশ্লিষ্ঠদের নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের পথে আসতে সক্ষম হই।’

অন্য একটি সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মঙ্গল ও বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধমর্ঘট প্রত্যাহারের আগে তার সঙ্গে কোনও কথা নয়। এরপর নৌমন্ত্রী বাহক মারফত প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, এই আন্দোলনের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই এবং এই আন্দোলনের শ্রমিকদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণও নেই। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা জানিয়ে দেন, তাহলে সে (শাজাহান খান) নেতা হলো কিভাবে? তাকে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে বল।

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত ধমর্ঘট প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধমর্ঘট প্রত্যাহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াস ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।’

এদিকে, ধমর্ঘট প্রত্যাহার হলেও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এই ধমর্ঘট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তার কোনও অবস্থান নেই, তাকে অভিযুক্ত করে যা রটানো হচ্ছে তা নিছকই ভিত্তিহীন; সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নৌমন্ত্রী এমন যুক্তি তুলে ধরছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য জানান, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সবার সঙ্গে কথা বলছেন শাজাহান খান। তবে দলের অনেক নেতাই তার যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আর কে যুক্ত না সেটা পরের বিষয়। এগুলো নিয়ে পরে পর্যালোচনা করা হবে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই রাজধানীসহ সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। ঢাকা ও মানিকগঞ্জে দু’টি মামলায় দু’জন চালকের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই আন্দোলনের ডাক দেন। ধর্মঘট নিয়ে মঙ্গলবার রাতে গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরসহ জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের হাত থেকে লাশবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সও রক্ষা পায়নি। সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

ধর্মঘট প্রত্যাহারে যে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:: দুই চালকের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। এ ধর্মঘট প্রত্যাহারে ১২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে এজন্য যা করণীয় তা করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কয়েকজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘বিকালের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক দেখতে চাই আমি’। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে ডাকা এ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয় চারদিকে। এ অবস্থায় বুধবার সকালে ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য ১২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী। সকালেই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ডেকে এ সময় বেঁধে দিয়ে যা করণীয় তা করতেও নির্দেশ দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জন মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর তাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, ‘এরপরই আমরা ধমর্ঘট প্রত্যাহার নিয়ে দফায় দফায় সংশ্লিষ্ঠদের নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের পথে আসতে সক্ষম হই।’

অন্য একটি সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মঙ্গল ও বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধমর্ঘট প্রত্যাহারের আগে তার সঙ্গে কোনও কথা নয়। এরপর নৌমন্ত্রী বাহক মারফত প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, এই আন্দোলনের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই এবং এই আন্দোলনের শ্রমিকদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণও নেই। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা জানিয়ে দেন, তাহলে সে (শাজাহান খান) নেতা হলো কিভাবে? তাকে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে বল।

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত ধমর্ঘট প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধমর্ঘট প্রত্যাহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াস ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।’

এদিকে, ধমর্ঘট প্রত্যাহার হলেও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এই ধমর্ঘট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তার কোনও অবস্থান নেই, তাকে অভিযুক্ত করে যা রটানো হচ্ছে তা নিছকই ভিত্তিহীন; সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নৌমন্ত্রী এমন যুক্তি তুলে ধরছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য জানান, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সবার সঙ্গে কথা বলছেন শাজাহান খান। তবে দলের অনেক নেতাই তার যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আর কে যুক্ত না সেটা পরের বিষয়। এগুলো নিয়ে পরে পর্যালোচনা করা হবে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই রাজধানীসহ সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। ঢাকা ও মানিকগঞ্জে দু’টি মামলায় দু’জন চালকের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই আন্দোলনের ডাক দেন। ধর্মঘট নিয়ে মঙ্গলবার রাতে গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরসহ জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের হাত থেকে লাশবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সও রক্ষা পায়নি। সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন