
ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ট্রাম্প হোটেলে রুম বুকিং দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বিদেশি কোনও সরকারের পক্ষে ট্রাম্প হোটেলে এটাই প্রথম রুম বুকিংয়ের ঘটনা। এতে দেশটির আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের হয়ে কাজ করা লবিং প্রতিষ্ঠান করবিস এমএসএল গ্রুপ এ রুম বুকিং দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ৯/১১-এর ভুক্তভোগীদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলা করার আইনটি যাতে বাতিল করা হয় সেজন্য কাজ করছে। প্রাথমকিভাবে সাবেক মার্কিন সেনা ও অ্যাক্টিভিস্টদের ওয়াশিংটনে নিয়ে এসে কংগ্রেস সদস্যদের কাছে বিলটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ২০-৪০জন সাবেক সেনা পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে অবস্থান করেন। এদের মধ্যে এক সাবেক সেনা ২৩ জানুয়ারি হোটেলে ওঠেন এবং ২৬ জানুয়ারি হোটেল ত্যাগ করেন। তাদেরকে এখানে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনএমএলবি। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানিয়েছেন, হোটেলে একরাত থাকার জন্য ২৫০-৩২০ ডলার ও কর দিতে হয়েছে। বিল পরিশোধ করেছেন করবিসের এক সাবকন্ট্রাকটর মাইকেল গিবসন।
মার্কিন আইনে সরকারি কোনও কর্মকর্তা বিদেশি সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিতে পারেন না। আইনজীবীরা ট্রাম্প হোটেলের ওয়াশিংটন শাখা আইন ভঙ্গ করে থাকতে বলে সতর্ক করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে আইনত কোনও বাধা না থাকলেও ২০ জানুয়ারি শপথের পর এক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
ফলে ২৩-২৬ জানুয়ারি ট্রাম্প হোটেলে সৌদি সরকারের অর্থে হোটেলের থাকার বিষয়টি আইন ভঙ্গ করেছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স ট্রাইব জানান, এই ঘটনা যদি ট্রাম্পকে সুবিধা দিয়ে থাকে তাহলে আইনটি ভঙ্গ হয়েছে।
এই ঘটনাকে অসাংবিধানিক আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নৈতিক উপদেষ্টা নর্ম আইজেন। তিনি এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে ট্রাম্পের আইনজীবী শেরি ডিলন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হোটেলে রুম বুকিং করা কোনও উপহার বা সুবিধা দেওয়া নয়। এটার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। সূত্র: পলিটিকো।
প্রতিনিধির নাম 



