ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি মুনিরা

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি মুনিরা

৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফ্রিল্যান্সার মুনিরা আহমেদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতিবাদী মুখে পরিণত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক শহরের কুইন্সে বসবাস করেন তিনি। গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লাখ লাখ নারীর যে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে; সেই প্রতিবাদে বাংলাদেশি এই তরুণীর ছবি দেখা যায় সবার হাতে হাতে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন পতাকার আদলে মাথায় হিজাব পড়েছেন তিনি, চোখ-মুখে ফুটে উঠেছে অবাধ্যতার ছাপ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিখ্যাত পোর্টেট ফটোগ্রাফার শিপার্ড ফেয়রি বাংলাদেশি মুনিরার ওই ছবি তুলেছেন।

MUNIRAওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্কে ফেরার পর মুনিরা আহমেদ ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা বলা অপেক্ষা রাখে না যে, আপনার মতোই আমিও একজন মার্কিনি।’ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভে অংশ নেন মুনিরা। নিউ ইয়র্কে তিনি বলেন, ‘আমি একজন মার্কিনি এবং মুসলিম। এ দুটি বিষয় নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।’

‘উই দ্য পিপল’ শিরোনামে অ্যামপ্লিফায়ার ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের হয়ে কাজ করছেন শিপার্ড ফেয়রি। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেকের আগে একই ধরনের পোর্টেট ছবি তুলেছিলেন ফেয়রি। ওবামার সেই ছবির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ এক বালক ও ল্যাটিনো এক তরুণীর ছবি জুড়ে দিয়ে শিরোনাম করেছিলেন ‘উইমেন আর পারফেক্ট’।

তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুনিরা আহমেদের ছবি নারী আন্দোলনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে; হয়ে উঠেছে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহর পোস্টারে ঢেকে যায়। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ‘দি নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’সহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয় মুনিরার পোর্টেট সেই ছবি।

মুনিরা আহমেদ বলেন, ছবিটি যে বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে তা সম্মানের বিষয়। এতে বিরোধী কিছু নেই। তিনি বলেন, ছবিটি বলছে, আপনার মতো আমিও একজন আমেরিকান।

ওয়াশিংটনের প্রতিবাদে তিনি বলেন, ছবির তরুণীই যে আমি সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানার পর কংগ্রেসের একজন নারী সদস্য অামার কাছে এসেছিলেন। আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম কারণ আমি ধারণা করেছিলাম মানুষ মনে করবে এটা অন্য কেউ হবে (যে হিজাব পড়েছে)। প্রতিবাদে আমি হিজাব পড়ে হাজির হয়নি।

MUNIRA

মুনিরা আহমেদ বলেন, একটি মুসলিম ব্লগে ছবিটি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই লিখেন, অনেক মুসলিম দেশে যুক্তরাষ্ট্র যখন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে; তখন একজন মার্কিনি ও একজন মুসলিম হওয়ার জন্য ছবিটি কী বুঝায়?

মুনিরা আহমেদ বেড়ে উঠেছেন নিউ ইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায়। জ্যামাইকা এস্টেটস গেটের কাছে বেড়ে উঠেছেন সদ্য শপথ নেয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় মুনিরার পরিবার। মুনিরার জন্ম জ্যামাইকাতে। পরিবারের সদস্যদেরসহ বর্তমানে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন বাংলাদেশি মুনিরা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি মুনিরা

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৭

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছেন বাংলাদেশি মুনিরা

৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফ্রিল্যান্সার মুনিরা আহমেদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতিবাদী মুখে পরিণত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক শহরের কুইন্সে বসবাস করেন তিনি। গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লাখ লাখ নারীর যে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে; সেই প্রতিবাদে বাংলাদেশি এই তরুণীর ছবি দেখা যায় সবার হাতে হাতে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন পতাকার আদলে মাথায় হিজাব পড়েছেন তিনি, চোখ-মুখে ফুটে উঠেছে অবাধ্যতার ছাপ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিখ্যাত পোর্টেট ফটোগ্রাফার শিপার্ড ফেয়রি বাংলাদেশি মুনিরার ওই ছবি তুলেছেন।

MUNIRAওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্কে ফেরার পর মুনিরা আহমেদ ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা বলা অপেক্ষা রাখে না যে, আপনার মতোই আমিও একজন মার্কিনি।’ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভে অংশ নেন মুনিরা। নিউ ইয়র্কে তিনি বলেন, ‘আমি একজন মার্কিনি এবং মুসলিম। এ দুটি বিষয় নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।’

‘উই দ্য পিপল’ শিরোনামে অ্যামপ্লিফায়ার ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের হয়ে কাজ করছেন শিপার্ড ফেয়রি। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেকের আগে একই ধরনের পোর্টেট ছবি তুলেছিলেন ফেয়রি। ওবামার সেই ছবির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ এক বালক ও ল্যাটিনো এক তরুণীর ছবি জুড়ে দিয়ে শিরোনাম করেছিলেন ‘উইমেন আর পারফেক্ট’।

তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুনিরা আহমেদের ছবি নারী আন্দোলনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে; হয়ে উঠেছে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহর পোস্টারে ঢেকে যায়। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ‘দি নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’সহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয় মুনিরার পোর্টেট সেই ছবি।

মুনিরা আহমেদ বলেন, ছবিটি যে বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে তা সম্মানের বিষয়। এতে বিরোধী কিছু নেই। তিনি বলেন, ছবিটি বলছে, আপনার মতো আমিও একজন আমেরিকান।

ওয়াশিংটনের প্রতিবাদে তিনি বলেন, ছবির তরুণীই যে আমি সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানার পর কংগ্রেসের একজন নারী সদস্য অামার কাছে এসেছিলেন। আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম কারণ আমি ধারণা করেছিলাম মানুষ মনে করবে এটা অন্য কেউ হবে (যে হিজাব পড়েছে)। প্রতিবাদে আমি হিজাব পড়ে হাজির হয়নি।

MUNIRA

মুনিরা আহমেদ বলেন, একটি মুসলিম ব্লগে ছবিটি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই লিখেন, অনেক মুসলিম দেশে যুক্তরাষ্ট্র যখন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে; তখন একজন মার্কিনি ও একজন মুসলিম হওয়ার জন্য ছবিটি কী বুঝায়?

মুনিরা আহমেদ বেড়ে উঠেছেন নিউ ইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায়। জ্যামাইকা এস্টেটস গেটের কাছে বেড়ে উঠেছেন সদ্য শপথ নেয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় মুনিরার পরিবার। মুনিরার জন্ম জ্যামাইকাতে। পরিবারের সদস্যদেরসহ বর্তমানে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন বাংলাদেশি মুনিরা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।