ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

আমিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ মাহমুদুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার মতো অধিকারহীন ও নির্যাতিত মানুষ বাংলাদেশে আর একটিও নেই বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আমার কোনো নাগরিক অধিকার নেই। রাজনীতি করার অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। আমার মতো নির্যাতিত মানুষ বাংলাদেশে আর একজনও নেই। আমিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর জেল খাটার ফলে আমার শরীরে সব ধরনের রোগ বাসা বেধেছে। ডাক্তারে বলেছেন, দেশের বাইরে গিয়ে অপারেশন করাতে। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করার অধিকারও আমার নেই। সুপ্রিম কোর্ট আমাকে শুধু যুক্তরাজ্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সেটাও আবার ১ মাসের জন্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য আমাকে ভিসা দেয়নি। তারা নাকি মনে করেছে আমি যুক্তরাজ্য গেলে আর ফিরে আসব না।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আসল কথা তো এটা না; আসল কথা হলো আমি ইসলামের পক্ষে কথা বলি। ইসলামের পক্ষে কথা বলি বলেই তারা আমাকে ভিসা দেয়নি। সারা বিশ্বে এখন মুসলমানরাই বেশি নির্যাতিত। তার প্রমাণ আমি নিজে। অন্য দেশের ভিসা পেতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা। আজ যদি আমি ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তারা আমাকে ডেকে নিয়ে ভিসা দিত।’

মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে মাহমুদুর রহমানের কোনো মানবাধিকার থাকতে নেই। আজ আমার কথা বলার অধিকার নেই। ঠিক মতো চলা ফেরারও অধিকার নেই। একজন মানুষের এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা তো সংবিধান পরিপন্থী।’

‘আমি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের বাক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি। এতো নির্যাতনের পরও আমি এ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। চালিয়ে যাব’ যোগ করেন তিনি।

বিগত ৪ বছরের সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তু্লে ধরে মাহমুদুর রহমার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা যে হরণ করা হয়েছে তার প্রমাণ হচ্ছে দেশের সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনা। আপনারা দেখেন গত চার বছরে সাংবাদিক হত্যা হয়েছে ১৫ জন, আহত হয়েছে ৮১৬ জন, গ্রেফতার হয়েছে ২৬ জন, মামলা হয়েছে ২০০ জনের বিরুদ্ধে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন ও পত্রিকা বন্ধের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে কোনো লাভ হয়না। এ সরকারের আমলেও হবে না। আমি জেলখানায় বসেও লিখেছি এখনও লিখছি। জানি না আজকে আমার কথা কেউ ছাপাতে পাবেন কি না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, কবি ফরহাদ মাজহার প্রমুখ। মাহমুদুর রহমান বেশ কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

আমিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার মতো অধিকারহীন ও নির্যাতিত মানুষ বাংলাদেশে আর একটিও নেই বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আমার কোনো নাগরিক অধিকার নেই। রাজনীতি করার অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। আমার মতো নির্যাতিত মানুষ বাংলাদেশে আর একজনও নেই। আমিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন মাহমুদুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর জেল খাটার ফলে আমার শরীরে সব ধরনের রোগ বাসা বেধেছে। ডাক্তারে বলেছেন, দেশের বাইরে গিয়ে অপারেশন করাতে। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করার অধিকারও আমার নেই। সুপ্রিম কোর্ট আমাকে শুধু যুক্তরাজ্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সেটাও আবার ১ মাসের জন্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য আমাকে ভিসা দেয়নি। তারা নাকি মনে করেছে আমি যুক্তরাজ্য গেলে আর ফিরে আসব না।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আসল কথা তো এটা না; আসল কথা হলো আমি ইসলামের পক্ষে কথা বলি। ইসলামের পক্ষে কথা বলি বলেই তারা আমাকে ভিসা দেয়নি। সারা বিশ্বে এখন মুসলমানরাই বেশি নির্যাতিত। তার প্রমাণ আমি নিজে। অন্য দেশের ভিসা পেতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা। আজ যদি আমি ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তারা আমাকে ডেকে নিয়ে ভিসা দিত।’

মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে মাহমুদুর রহমানের কোনো মানবাধিকার থাকতে নেই। আজ আমার কথা বলার অধিকার নেই। ঠিক মতো চলা ফেরারও অধিকার নেই। একজন মানুষের এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা তো সংবিধান পরিপন্থী।’

‘আমি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের বাক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি। এতো নির্যাতনের পরও আমি এ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। চালিয়ে যাব’ যোগ করেন তিনি।

বিগত ৪ বছরের সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তু্লে ধরে মাহমুদুর রহমার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা যে হরণ করা হয়েছে তার প্রমাণ হচ্ছে দেশের সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনা। আপনারা দেখেন গত চার বছরে সাংবাদিক হত্যা হয়েছে ১৫ জন, আহত হয়েছে ৮১৬ জন, গ্রেফতার হয়েছে ২৬ জন, মামলা হয়েছে ২০০ জনের বিরুদ্ধে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন ও পত্রিকা বন্ধের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে কোনো লাভ হয়না। এ সরকারের আমলেও হবে না। আমি জেলখানায় বসেও লিখেছি এখনও লিখছি। জানি না আজকে আমার কথা কেউ ছাপাতে পাবেন কি না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, কবি ফরহাদ মাজহার প্রমুখ। মাহমুদুর রহমান বেশ কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন তিনি।