ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

আজ থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত বই মেলা প্রাঙ্গন

অপেক্ষা প্রহর শেষ হল বাংলা ভাষা-ভাষীদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য ধারণ করা বইমেলার। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সাধারণ পাঠক, প্রকাশক- লেখকদের মিলন মেলায় পরিণত হয় মেলা প্রাঙ্গণ।

আজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এই মেলা প্রাঙ্গন। মেলার সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির মাঝের সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আর এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মাসব্যাপী মিলনমেলা। এপার এবং ওপার বাংলার বাংলা ভাষী লেখকরাও এই মেলাকে বাঙালির জাতি সত্তা বিকাশের অন্যতম প্রণোদনা হিসাবে দেখছেন।

হাজার হাজার নতুন প্রকাশিত বইসহ লক্ষ লক্ষ বই এতে প্রদর্শিত ও বেচাকেনা হবে। বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে।

বই মেলার শুরুর দিনেই ভালবাসার উৎসবে আসতে পেরে পাঠকদের কণ্ঠে ছিল উচ্ছ্বাস আর ভালোলাগার অনুভূতি। এভাবেই বই প্রেমীদের আনন্দ -উচ্ছ্বাস আর বিপুল আগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

কোন কোন প্রকাশনা সংস্থা এখনো ব্যস্ত বই সাজাতে। উদ্বোধনের পরপরই মেলায় ভিড় করতে শুরু করেন বই প্রেমীরা। প্রথম দিন হওয়ায় বই বিক্রি তেমন আশানুরূপ না হলেও বিক্রেতাদের প্রত্যাশা দিন যত যাবে ততই বাড়বে বিক্রিত বইয়ের সংখ্যা। তবে সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি নিয়ে আশার কথা শুনালেন প্রকাশকরা।

একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর একাডেমি চত্বরে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে শিশু কর্নার। ৬০ ইউনিট নিয়ে এ চত্বরে শিশুদের জন্য খেলার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতি শুক্র ও শনিবার থাকবে শিশু প্রহর। এবছরও বাংলা একাডেমি ৩০ শতাংশ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়কৃত মূলে্য বই বিক্রি করবে।

অমর একুশে বইমেলায় নিরাপত্তায় পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলাপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান সিটি কপোরেশন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে একাধিক বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গ্রন্থমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার আটটি পথ রয়েছে। মেলা ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
১৯৭২ সালের তৎকালীন বর্ধমান হাউজের বটতলা প্রাঙ্গণে ৩২টি বই নিয়ে যে মেলা শুরু হয়েছিলো তা আজ একুশে বই মেলায় রূপ নিয়েছে। ভাষা, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক মেল বন্ধনে এটি বাঙালী জাতিসত্ত্ব বিনির্মাণে অন্যতম পাথেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

আজ থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত বই মেলা প্রাঙ্গন

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

অপেক্ষা প্রহর শেষ হল বাংলা ভাষা-ভাষীদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য ধারণ করা বইমেলার। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সাধারণ পাঠক, প্রকাশক- লেখকদের মিলন মেলায় পরিণত হয় মেলা প্রাঙ্গণ।

আজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এই মেলা প্রাঙ্গন। মেলার সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির মাঝের সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আর এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মাসব্যাপী মিলনমেলা। এপার এবং ওপার বাংলার বাংলা ভাষী লেখকরাও এই মেলাকে বাঙালির জাতি সত্তা বিকাশের অন্যতম প্রণোদনা হিসাবে দেখছেন।

হাজার হাজার নতুন প্রকাশিত বইসহ লক্ষ লক্ষ বই এতে প্রদর্শিত ও বেচাকেনা হবে। বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে।

বই মেলার শুরুর দিনেই ভালবাসার উৎসবে আসতে পেরে পাঠকদের কণ্ঠে ছিল উচ্ছ্বাস আর ভালোলাগার অনুভূতি। এভাবেই বই প্রেমীদের আনন্দ -উচ্ছ্বাস আর বিপুল আগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

কোন কোন প্রকাশনা সংস্থা এখনো ব্যস্ত বই সাজাতে। উদ্বোধনের পরপরই মেলায় ভিড় করতে শুরু করেন বই প্রেমীরা। প্রথম দিন হওয়ায় বই বিক্রি তেমন আশানুরূপ না হলেও বিক্রেতাদের প্রত্যাশা দিন যত যাবে ততই বাড়বে বিক্রিত বইয়ের সংখ্যা। তবে সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি নিয়ে আশার কথা শুনালেন প্রকাশকরা।

একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর একাডেমি চত্বরে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে শিশু কর্নার। ৬০ ইউনিট নিয়ে এ চত্বরে শিশুদের জন্য খেলার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতি শুক্র ও শনিবার থাকবে শিশু প্রহর। এবছরও বাংলা একাডেমি ৩০ শতাংশ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়কৃত মূলে্য বই বিক্রি করবে।

অমর একুশে বইমেলায় নিরাপত্তায় পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলাপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান সিটি কপোরেশন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে একাধিক বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গ্রন্থমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার আটটি পথ রয়েছে। মেলা ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
১৯৭২ সালের তৎকালীন বর্ধমান হাউজের বটতলা প্রাঙ্গণে ৩২টি বই নিয়ে যে মেলা শুরু হয়েছিলো তা আজ একুশে বই মেলায় রূপ নিয়েছে। ভাষা, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক মেল বন্ধনে এটি বাঙালী জাতিসত্ত্ব বিনির্মাণে অন্যতম পাথেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।