ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

যে ভাষণ বাঙালির সামনে খুলে দিল দিগন্ত

সেলিনা হোসেন:: মার্চ মাস বাঙালির জন্য অর্থবহ অনুপ্রেরণার মাস। এই মাস বাঙালিকে যোদ্ধা হওয়ার ডাক দিয়েছে। বাঙালি তার আপন ডানায় সঞ্জীবনী শক্তি অর্জন করেছে। এই মাসে চারটি উল্লেখযোগ্য দিন আছে।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ভাষণ প্রদানের দিন। এই ভাষণটি ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজোড়া ভাষণের মধ্যে স্থান লাভ করেছে। জেকব এ ফিল্ড বিশ্বজোড়া ভাষণের যে সংকলনটি প্রকাশ করেছেন তার নাম ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেসস: দ্য স্পিচেস ইন্সপায়ারড হিস্ট্রি’। ২০১৩ সালে লন্ডন থেকে এই বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘দ্য স্ট্রাগল দিস টাইম ইজ দ্য স্ট্রাগল ফর ইন্ডিপেনডেন্স’ শিরোনামে রয়েছে। এই বইটি শুরু হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ সালে দেওয়া ভাষণ দিয়ে। শিরোনাম :‘ফিউরেনাল ওরেশন’। বইটিতে অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় ভাষণটি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটির জন্য আমরা গর্বিত। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই ভাষণ বাঙালির সামনে দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষ এই ভাষণ বুকে টেনে নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েছিল।

মার্চ মাসের আরেকটি তারিখ ১৭ই মার্চ। এই দিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তিনি উঠে এসে বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে গেছেন। তিনি এই উপমহাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতা, যিনি উপমহাদেশের মানচিত্র বদলে দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র যুক্ত করেছেন। উপমহাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক নেতা এই কাজটি করতে পারেননি। এই অর্থে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে মার্চ মাস আমাদের সামনে একটি প্রতীকী দিনমাত্র নয়। বরং আমাদের গৌরবের বড় পরিসর।

মার্চ মাসের আরেকটি তারিখ ২৫শে মার্চ। বাঙালিকে গণহত্যার কালো রাত। কিন্তু বাঙালি এই কালো রাতকে কালো হয়ে থাকতে দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার বিপরীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাঙালি ঘর ছেড়ে রণক্ষেত্রে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মার্চ মাসে আমাদের রক্ত ঝরেছে। মার্চ আমাদের রক্ত ঝরা মাস। পাশাপাশি রক্ত এবং আগুন নিয়ে ফুঁসে ওঠা মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। আমাদের সামনে আছে ২৬শে মার্চ। আরেকটি অন্যতম দিন। এ দিনের কারণে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী মনে করে— এ দেশটি নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায়-চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

যে ভাষণ বাঙালির সামনে খুলে দিল দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭

সেলিনা হোসেন:: মার্চ মাস বাঙালির জন্য অর্থবহ অনুপ্রেরণার মাস। এই মাস বাঙালিকে যোদ্ধা হওয়ার ডাক দিয়েছে। বাঙালি তার আপন ডানায় সঞ্জীবনী শক্তি অর্জন করেছে। এই মাসে চারটি উল্লেখযোগ্য দিন আছে।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ভাষণ প্রদানের দিন। এই ভাষণটি ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজোড়া ভাষণের মধ্যে স্থান লাভ করেছে। জেকব এ ফিল্ড বিশ্বজোড়া ভাষণের যে সংকলনটি প্রকাশ করেছেন তার নাম ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেসস: দ্য স্পিচেস ইন্সপায়ারড হিস্ট্রি’। ২০১৩ সালে লন্ডন থেকে এই বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘দ্য স্ট্রাগল দিস টাইম ইজ দ্য স্ট্রাগল ফর ইন্ডিপেনডেন্স’ শিরোনামে রয়েছে। এই বইটি শুরু হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ সালে দেওয়া ভাষণ দিয়ে। শিরোনাম :‘ফিউরেনাল ওরেশন’। বইটিতে অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় ভাষণটি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটির জন্য আমরা গর্বিত। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই ভাষণ বাঙালির সামনে দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষ এই ভাষণ বুকে টেনে নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েছিল।

মার্চ মাসের আরেকটি তারিখ ১৭ই মার্চ। এই দিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে তিনি উঠে এসে বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে গেছেন। তিনি এই উপমহাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতা, যিনি উপমহাদেশের মানচিত্র বদলে দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র যুক্ত করেছেন। উপমহাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক নেতা এই কাজটি করতে পারেননি। এই অর্থে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে মার্চ মাস আমাদের সামনে একটি প্রতীকী দিনমাত্র নয়। বরং আমাদের গৌরবের বড় পরিসর।

মার্চ মাসের আরেকটি তারিখ ২৫শে মার্চ। বাঙালিকে গণহত্যার কালো রাত। কিন্তু বাঙালি এই কালো রাতকে কালো হয়ে থাকতে দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার বিপরীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাঙালি ঘর ছেড়ে রণক্ষেত্রে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মার্চ মাসে আমাদের রক্ত ঝরেছে। মার্চ আমাদের রক্ত ঝরা মাস। পাশাপাশি রক্ত এবং আগুন নিয়ে ফুঁসে ওঠা মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। আমাদের সামনে আছে ২৬শে মার্চ। আরেকটি অন্যতম দিন। এ দিনের কারণে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী মনে করে— এ দেশটি নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায়-চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে।