ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

যুক্তরাজ্যে আইএস-এর হামলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে!

যুক্তরাজ্যে আইএস-এর হামলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে!


বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য। সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের একজন স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ম্যাক্স হিল এই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ৯৭০ এর দশকে আইআরএ’র বোমা হামলার হুমকির পর এখন যুক্তরাজ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার হুমকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য শহর। এই দাবির সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দ্য সানডে টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সক্ষাতকারে ম্যাক্স হিল দাবি করেছেন বেসামরিক মানুষেরাই ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস) যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে নিরপরাধ সাধারণ মানুষদের উপর নির্বিচারে হামলার পরিকল্পনা করছে, তারা যে জাতি বা বর্ণেরই হোক’।

১৯৭০ দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী আর্মি (আইআরএ) খুব সক্রিয় ছিল। তখন তারাও ব্রিটেনে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ম্যাক্স হিল বলেছেন, ‘আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) যেমন মূল ভূখণ্ডে বোমা হামলা চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল আইএস’ও ঠিক তাদের মতোই একটা বড় হুমকি হয়ে বিরাজ করছে।’ যুক্নতরাজ্য আইআরএ’র পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে হিল বলেন, ‘আমি মনে করি, আইএস হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ’ সাক্ষাতকারে হিল আরও বলেন, ‘তারা যখন-তখন আক্রমণ করতে পারে। আমাদেরকে এর তীব্রতা ও গুরুত্ব বুঝে এ চক্রান্তের সম্ভাব্য পরিকল্পনা এঁকে প্রতিহত করতে হবে।’

সত্তরের দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাকলিকান আর্মি (আইআরএ) যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউনাইটেড আয়ারল্যান্ড গঠনে স্বশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল। তবে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের আইআরএ এবং বর্তমান আইএস এর ‘মানসিকতায়’ পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন হিল।তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, যে ঘন ঘন মারাত্মক ধরনের হামলা পরিকল্পনা অহরহই হচ্ছে তাতে আমাদের সামনে একটা মস্তবড় ঝুঁকি বিরাজ করছে। আমাদের কারও পক্ষে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না।” “১৯৭০ সালে আইআরএ যখন আমাদের মূলভূমিতে সক্রিয় ছিল তখন লন্ডনের উপর যে মাত্রায় হামলার হুমকি ছিল বর্তমান হুমকি নিঃসন্দেহে অন্তত সেই পর্যায়ের বলেই আমার বিশ্বাস।”

তিনি আইএস এ যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ইরাক ও সিরিয়া যাওয়ার সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “সংখ্যাটি এত বেশি যে তা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ যুক্তরাজ্যের নাগরিক যারা আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়েছিল তাদের অন্তত শতাধিকজন দেশে ফিরে এসেছে বা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটি আমরা সবাই জানি।”

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বের রুড রোববার স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তার কাছে যুক্তরাজ্যের সুরক্ষা ‘সবার আগে’। যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির বিষয়ে হিলের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে খুব ভালোভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি যা আমরা কেউই উপেক্ষা করতে পারি না। তাদের এ ধরনের হুমকি যেমনই হোক না কেন; মহানগর অঞ্চলে নিরপরাধ নাগরিকদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ করার দৃশ্য কেউই মেনে নিতে পারবো না।’ হিল বলেন, ১৯৭০ দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী আর্মি (আইআরএ) খুব সক্রিয় ছিল। তখন তারাও ব্রিটেনে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ব্রিটেন সে পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইএস হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও ব্রিটেনতে গুরুত্বসহকারে নিয়ে এগুতে হবে।

সাক্ষাৎকারে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি মোকাবেলায় গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ম্যাক্স হিল। আর ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ার মাটিতে জঙ্গিদের যেভাবে ধূলিস্যাৎ করে দেওয়া হচ্ছে, ব্রিটেনের লক্ষ্যও থাকবে সেটা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

যুক্তরাজ্যে আইএস-এর হামলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে!

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

যুক্তরাজ্যে আইএস-এর হামলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে!


বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য। সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের একজন স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ম্যাক্স হিল এই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ৯৭০ এর দশকে আইআরএ’র বোমা হামলার হুমকির পর এখন যুক্তরাজ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার হুমকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য শহর। এই দাবির সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দ্য সানডে টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সক্ষাতকারে ম্যাক্স হিল দাবি করেছেন বেসামরিক মানুষেরাই ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস) যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে নিরপরাধ সাধারণ মানুষদের উপর নির্বিচারে হামলার পরিকল্পনা করছে, তারা যে জাতি বা বর্ণেরই হোক’।

১৯৭০ দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী আর্মি (আইআরএ) খুব সক্রিয় ছিল। তখন তারাও ব্রিটেনে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ম্যাক্স হিল বলেছেন, ‘আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) যেমন মূল ভূখণ্ডে বোমা হামলা চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল আইএস’ও ঠিক তাদের মতোই একটা বড় হুমকি হয়ে বিরাজ করছে।’ যুক্নতরাজ্য আইআরএ’র পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে হিল বলেন, ‘আমি মনে করি, আইএস হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ’ সাক্ষাতকারে হিল আরও বলেন, ‘তারা যখন-তখন আক্রমণ করতে পারে। আমাদেরকে এর তীব্রতা ও গুরুত্ব বুঝে এ চক্রান্তের সম্ভাব্য পরিকল্পনা এঁকে প্রতিহত করতে হবে।’

সত্তরের দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাকলিকান আর্মি (আইআরএ) যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউনাইটেড আয়ারল্যান্ড গঠনে স্বশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল। তবে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের আইআরএ এবং বর্তমান আইএস এর ‘মানসিকতায়’ পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন হিল।তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, যে ঘন ঘন মারাত্মক ধরনের হামলা পরিকল্পনা অহরহই হচ্ছে তাতে আমাদের সামনে একটা মস্তবড় ঝুঁকি বিরাজ করছে। আমাদের কারও পক্ষে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না।” “১৯৭০ সালে আইআরএ যখন আমাদের মূলভূমিতে সক্রিয় ছিল তখন লন্ডনের উপর যে মাত্রায় হামলার হুমকি ছিল বর্তমান হুমকি নিঃসন্দেহে অন্তত সেই পর্যায়ের বলেই আমার বিশ্বাস।”

তিনি আইএস এ যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ইরাক ও সিরিয়া যাওয়ার সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “সংখ্যাটি এত বেশি যে তা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ যুক্তরাজ্যের নাগরিক যারা আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়েছিল তাদের অন্তত শতাধিকজন দেশে ফিরে এসেছে বা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটি আমরা সবাই জানি।”

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বের রুড রোববার স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তার কাছে যুক্তরাজ্যের সুরক্ষা ‘সবার আগে’। যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির বিষয়ে হিলের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে খুব ভালোভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি যা আমরা কেউই উপেক্ষা করতে পারি না। তাদের এ ধরনের হুমকি যেমনই হোক না কেন; মহানগর অঞ্চলে নিরপরাধ নাগরিকদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ করার দৃশ্য কেউই মেনে নিতে পারবো না।’ হিল বলেন, ১৯৭০ দশকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী আর্মি (আইআরএ) খুব সক্রিয় ছিল। তখন তারাও ব্রিটেনে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ব্রিটেন সে পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইএস হামলার পরিকল্পনার বিষয়টিও ব্রিটেনতে গুরুত্বসহকারে নিয়ে এগুতে হবে।

সাক্ষাৎকারে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি মোকাবেলায় গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ম্যাক্স হিল। আর ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ার মাটিতে জঙ্গিদের যেভাবে ধূলিস্যাৎ করে দেওয়া হচ্ছে, ব্রিটেনের লক্ষ্যও থাকবে সেটা।