ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

ট্রাম্পের আদেশের প্রতিবাদে বাংলাদেশি রুমানার পদত্যাগ


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শপথ নেওয়ার আট দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র মুসলিম সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টিক’-এ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক কলামে রুমানা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে বাধার ঘোষণার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর এক সপ্তাহ পরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অস্থায়ীভাবে ও সিরীয় শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এ কারণেই রুমানা ২৮ জানুয়ারি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্পের ওই আদেশ সাময়িকভাবে আটকে গেছে। ট্রাম্প জামানায় রুমানা আহমেদ মাত্র আট দিন হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন।

২০১১ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে রুমানা হোয়াইট হাউসে চাকরি গ্রহণ করেন। গত বছরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তিবোধ করা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আট দিনের বেশি তাঁর পক্ষে সে চাকরিতে থাকা সম্ভব হয়নি। ‘যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো (মুসলিমদের) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাবার বদলে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, সেখানে আমার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ ওই লেখায় বলেছেন রুমানা।

রুমানা নিজেকে ‘হিজাবি’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। বারাক ওবামার প্রশাসনে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান বেন রোডসের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিদিন হিজাব পরেই দায়িত্ব পালন করতেন। বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি সে সময় হোয়াইট হাউস ব্যাপকভাবে প্রচার করে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর আলাপচারিতার একটি ঘটনাও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

কেন পদত্যাগ করছেন, সে কথা নিরাপত্তা পরিষদের যোগাযোগ উপদেষ্টা মাইকেল এন্টনকে ব্যাখ্যা করে রুমানা বলেন, ‘ট্রাম্পের মুসলিম আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’

রুমানা এন্টনকে জানান, ‘আমি তাঁকে জানাই, (এই ঘোষণার পর) দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক এই ভবনে প্রতিদিন প্রবেশ করা আমার জন্য রীতিমতো অপমানজনক একটি ব্যাপার হয়ে উঠেছে। একজন আমেরিকান ও মুসলিম হিসেবে আমি যা বিশ্বাস করি, এই প্রশাসন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’ জবাবে কিছুটা বিস্মিত হয়ে তিনি জানতে চান, রুমানা কি একদম চাকরি থেকে পদত্যাগ করছে। রুমানা ‘হ্যাঁ’ জানানোর পর এন্টন কিছুই বলেননি।

রুমানা তাঁর ওই রচনায় লেখেন, ‘আমি পরে জানতে পেরেছি মাইকেল এন্টন নিজে ছদ্মনামে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আমেরিকার জাতিগত বৈচিত্র্যকে ‘দুর্বলতা’ এবং ইসলাম ধর্মকে আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।’
রুমানার বাংলাদেশি পিতা-মাতা ১৯৭৮ সালের যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁরা মার্কিন রাজধানীর সন্নিকটে ম্যারিল্যান্ডে বসবাস করেন। এখানেই রুমানার জন্ম। রুমানা তাঁর রচনায় জানান, তাঁর মা শুরুতে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর পিতা ব্যাংক অব আমেরিকায় কাজ শুরু করে এই ব্যাংকের সহকারী উপপ্রধান পদে উন্নীত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

ট্রাম্পের আদেশের প্রতিবাদে বাংলাদেশি রুমানার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শপথ নেওয়ার আট দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র মুসলিম সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টিক’-এ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক কলামে রুমানা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে বাধার ঘোষণার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর এক সপ্তাহ পরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অস্থায়ীভাবে ও সিরীয় শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এ কারণেই রুমানা ২৮ জানুয়ারি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্পের ওই আদেশ সাময়িকভাবে আটকে গেছে। ট্রাম্প জামানায় রুমানা আহমেদ মাত্র আট দিন হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন।

২০১১ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে রুমানা হোয়াইট হাউসে চাকরি গ্রহণ করেন। গত বছরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তিবোধ করা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আট দিনের বেশি তাঁর পক্ষে সে চাকরিতে থাকা সম্ভব হয়নি। ‘যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো (মুসলিমদের) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাবার বদলে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, সেখানে আমার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ ওই লেখায় বলেছেন রুমানা।

রুমানা নিজেকে ‘হিজাবি’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। বারাক ওবামার প্রশাসনে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান বেন রোডসের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিদিন হিজাব পরেই দায়িত্ব পালন করতেন। বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি সে সময় হোয়াইট হাউস ব্যাপকভাবে প্রচার করে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর আলাপচারিতার একটি ঘটনাও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

কেন পদত্যাগ করছেন, সে কথা নিরাপত্তা পরিষদের যোগাযোগ উপদেষ্টা মাইকেল এন্টনকে ব্যাখ্যা করে রুমানা বলেন, ‘ট্রাম্পের মুসলিম আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’

রুমানা এন্টনকে জানান, ‘আমি তাঁকে জানাই, (এই ঘোষণার পর) দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক এই ভবনে প্রতিদিন প্রবেশ করা আমার জন্য রীতিমতো অপমানজনক একটি ব্যাপার হয়ে উঠেছে। একজন আমেরিকান ও মুসলিম হিসেবে আমি যা বিশ্বাস করি, এই প্রশাসন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’ জবাবে কিছুটা বিস্মিত হয়ে তিনি জানতে চান, রুমানা কি একদম চাকরি থেকে পদত্যাগ করছে। রুমানা ‘হ্যাঁ’ জানানোর পর এন্টন কিছুই বলেননি।

রুমানা তাঁর ওই রচনায় লেখেন, ‘আমি পরে জানতে পেরেছি মাইকেল এন্টন নিজে ছদ্মনামে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আমেরিকার জাতিগত বৈচিত্র্যকে ‘দুর্বলতা’ এবং ইসলাম ধর্মকে আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।’
রুমানার বাংলাদেশি পিতা-মাতা ১৯৭৮ সালের যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁরা মার্কিন রাজধানীর সন্নিকটে ম্যারিল্যান্ডে বসবাস করেন। এখানেই রুমানার জন্ম। রুমানা তাঁর রচনায় জানান, তাঁর মা শুরুতে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর পিতা ব্যাংক অব আমেরিকায় কাজ শুরু করে এই ব্যাংকের সহকারী উপপ্রধান পদে উন্নীত হন।