ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত বগুড়ার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গানের গহীনে: জাতীয় সংগীত বিতর্ক: তাজ উদ্দীন বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ভাষা শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সারা দেশে খুলবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধনের ঘোষণা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’—প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

কে হচ্ছেন সিইসি, নূর মোহাম্মদ নাকি নুরুল হুদা?


নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কে হচ্ছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সব মহলে।

এছাড়া সিইসি হওয়ার দৌঁড়ে আছেন সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদা (কে এম নুরুল হুদা), এমনটাই শোনা যাচ্ছে। বিবেচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও সাবেক সচিব মনজুর হোসেন।

নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বা আইজিপি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। ওই সরকারের আমলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নেতা বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমান যখন দেশের উত্তরাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তখন নূর মোহাম্মদ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আইজিপি হন নূর মোহাম্মদ। আইজিপি থেকে অবসরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে যুব ও ক্রীড়া সচিব পদে নিয়োগ পান। পরে তাকে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক ক্যাডার কে এম নুরুল হুদা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এছাড়া ফরিদপুর জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি।

গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে রয়েছেন মনজুর হোসেনও। ব্যক্তি হিসেবে মিষ্টভাষী ও সদালাপী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে নেত্রকোনা জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি। ছিলেন ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ডেসার সদস্য। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার সচিব হন।

এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন। শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে অবসরে যান মনজুর হোসেন। এখন তিনি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের পরিবারের সদস্য মনজুর হোসেনের ভাই মালিক খসরু ৭৩ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি অবসর নেন।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বর্তমান সরকারের আমলেই তথ্য কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সদস্য ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য সাদেকা হালিম বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির নির্বাহী সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শিক্ষা নীতি প্রণয়নে যে জাতীয় কমিটি করেছিল সাদেকা হালিম ওই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

কে হচ্ছেন সিইসি, নূর মোহাম্মদ নাকি নুরুল হুদা?

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কে হচ্ছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সব মহলে।

এছাড়া সিইসি হওয়ার দৌঁড়ে আছেন সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদা (কে এম নুরুল হুদা), এমনটাই শোনা যাচ্ছে। বিবেচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও সাবেক সচিব মনজুর হোসেন।

নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বা আইজিপি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। ওই সরকারের আমলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নেতা বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমান যখন দেশের উত্তরাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তখন নূর মোহাম্মদ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আইজিপি হন নূর মোহাম্মদ। আইজিপি থেকে অবসরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে যুব ও ক্রীড়া সচিব পদে নিয়োগ পান। পরে তাকে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক ক্যাডার কে এম নুরুল হুদা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এছাড়া ফরিদপুর জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি।

গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে রয়েছেন মনজুর হোসেনও। ব্যক্তি হিসেবে মিষ্টভাষী ও সদালাপী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে নেত্রকোনা জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি। ছিলেন ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ডেসার সদস্য। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার সচিব হন।

এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন। শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে অবসরে যান মনজুর হোসেন। এখন তিনি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের পরিবারের সদস্য মনজুর হোসেনের ভাই মালিক খসরু ৭৩ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি অবসর নেন।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বর্তমান সরকারের আমলেই তথ্য কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সদস্য ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য সাদেকা হালিম বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞান সমিতির নির্বাহী সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শিক্ষা নীতি প্রণয়নে যে জাতীয় কমিটি করেছিল সাদেকা হালিম ওই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।